যে কারণে হেরেছে আর্জেন্টিনা

টান টান উত্তেজনা! স্নায়ুর ওপর অত্যাচার চলল ১১৩ মিনিট। আক্রমণ-পাল্টাআক্রমণে মুহুর্মুহু কেঁপে উঠল দুই দলের রক্ষণভাগ। বল দখলে পিছিয়ে থাকলেওনির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার আক্রমণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
শেষমেশম্যাচ মারিও গোটশের দারুণ এক গোলে শিরোপা থেকে এক পা দূরে থেকেই বিশ্বকাপশেষ করতে হলো আর্জেন্টিনার । একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করার মাশুল গুনেছেআর্জেন্টিনা।
ম্যাচের প্রথম দিকে দারুণ সব প্রতি-আক্রমণে জার্মানদেরএলোমেলো করে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। গতিশীল জার্মানদের যেমন আটকে রেখেছিলডেমিচেলিস-মাচেরানোদের রক্ষণদুর্গ, তেমনি জার্মান রক্ষণে ফাটল ধরিয়েওফরোয়ার্ডরা বারবার পৌঁছে গিয়েছিল গোলের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু সুযোগগুলোঅসাধারণ হলেও শেষটা ঠিকমতো করতে পারেননি কেউ। কিছু সুযোগ হাত ফসকেছেদৃষ্টিকটুভাবে।
টনি ক্রুসের ভুলে ম্যানুয়েল নয়্যারকে প্রায় একা পেয়েগিয়েছিলেন হিগুয়েইন। বলতে গেলে ফাঁকা পোস্টেও গোল দিতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড।এটি ছাড়াও হিগুয়েইন হাতছাড়া করেছেন আরও কয়েকটি সুযোগ। একবার তো জালে বলজড়ানোর পর অফসাইডের বাঁশিই বেজে উঠল।
চমত্কার সব সুযোগ যেমন তৈরিকরেছেন, আবার অনেকগুলো হারিয়েছেন খোদ লিওনেল মেসি। দুটি শট বারপোস্টের পাশদিয়ে বেরিয়ে গেছে, ওপর দিয়েও বেরিয়েছে দুটো। গোটশের গোল খাওয়ার পরও দারুণএক হেডে সমতায় ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। বল চলে গেল বারের সামান্য ওপরদিয়ে। এ ম্যাচেও আগুয়েরো নিষ্প্রভ। ফিনিশিংয়ে ভীষণ ব্যর্থ ম্যানচেস্টারসিটির এ ফরোয়ার্ড। তবে অতিরিক্ত সময়ে বদলি প্যালাসিওর নষ্ট করা সুযোগটিওআর্জেন্টিনা সমর্থকদের নিঃশ্বাস ভারী করবে বহুদিন।
ম্যাচের পরিসংখ্যানআপনাকে চমকানো তথ্য দেবে। জার্মানি ৬৪ শতাংশ বলের দখল, প্রায় পুরোটা সময়ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় রেখেও আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি গোলসুযোগতারা তৈরি করতে পারেনি। দুই দলই শট নিয়েছে ১০টি করে। সমস্যা হলো, এইশটগুলোর পাঁচটিই জার্মানি নিতে পেরেছে গোলমুখে। আর্জেন্টিনা গোলে একটি শটওনিতে তো পারেনি, উল্টো দারুণ সুবিধাজনক অবস্থায় থেকেও লক্ষ্যভ্রষ্ট শটনিয়েছে আটটি!
আর্জেন্টিনার তুলনায় (৪১৬) প্রায় দ্বিগুণ পাস খেলাজার্মানি (৭৩৬) এ দিন যেন লাতিন ঘরানার ফুটবল খেলেছে। আর আর্জেন্টিনাইউরোপের গতিশীল প্রতি-আক্রমণটাকেই করেছিল পাখির চোখ। সেই পাল্টা আক্রমণথেকে আর্জেন্টিনাই নিশ্চিত গোলসুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল বেশি। অন্য দিকেএকটি বল পোস্টে লেগে ফিরে আসা ছাড়া জার্মানির নিশ্চিত গোলসুযোগ তৈরি হয়েছিলআর একবারই। আর সেই সুযোগটাই কী দুর্দান্তভাবেই না কাজে লাগালেন গোটশে!
ফাইনালটাএমনই। এখানে হাফ-চান্সগুলোকেও গোল বানাতে হয়। আর পড়ে পাওয়া সুযোগ হাতছাড়াকরলে মাথা চাপড়াতে হয়। ২০১০-এ আরিয়েন রোবেন। ২০১৪? আর্জেন্টিনার জন্যতালিকাটা একটু লম্বাই।
পরাজয়ের কারণ হিসেবে গোলের সুযোগ কাজে না লাগাতেপারাকে দায়ী করছেন কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা, ‘আমরা অনেকগুলো সুযোগ পেয়েছি।কিন্তু সুযোগগুলোর প্রতি যথেষ্ট সুবিচার করতে পারিনি।’ তবে সাবেলা মানছেন, শতভাগ উজাড় করেই খেলেছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা।
দিনটিই যেনআর্জেন্টিনার ছিল না। নিয়তি ছিল জার্মানদের জন্যই নির্ধারিত। নইলে প্রতিবারগোলের সুযোগ সৃষ্টি করেও কেন কাছ থেকে ফিরে আসবে আর্জেন্টিনা? কেনই বাবিশ্বজয়ীর তকমাটাও হাতের কাছে এসেও ফসকে যাবে? হিগুয়েইন, প্যালাসিও কিংবামেসিকে এ জ্বালা বয়ে বেড়াতে হবে বহুদিন। একটা শট, মাত্র একটা শট ঠিকঠাকহলেই ইতিহাসটা অন্য রকম হলেও হতে পারত! তবে জার্মানরাও প্রমাণ করেছে, ফুটবলকেবল সুযোগ তৈরি নয়, সুযোগ কাজে লাগানোর খেলা। সুযোগকে দারুণভাবে কাজেলাগিয়েই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *