মোবাইলফোনে ইয়ারফোন ব্যবহার করে গান শোনা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

 

ইয়ারফোন ব্যবহারকারী প্রতিটি মানুষের হেয়ারলেস হবে

তাছির আহমেদ: উচ্চ মাত্রার শব্দ শ্রবন শক্তি হ্রাস ও শরীরের রক্ত চাপ বৃদ্ধি করে ও হৃদযন্ত্রের কম্পন বাড়িয়ে তোলে এবং শিশু থেকে শুরু করে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করে। এই শব্দ দূষণের কবলে পড়ে এ জনপদের অনেকেই হাবুডাবু খাচ্ছে।বিশেষ করে উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা। জানে না এরা এভাবে গান শোনার ক্ষতিকর দিকগুলো। মোবাইলে ইয়ারফোনের জ্যাকপিন ঢুকিয়ে যেহারে তারা গান শুনছে তাতে কানের ১২টা বাজানোসহ সে তার দেহের মারাত্মক ক্ষতি করছে। শুধু অজ্ঞতার কারণে এই মহল দিনকেদিন যেভাবে তার কানের ক্ষতি করছে তা নিয়ে অনেকেই নিশ্চিত করছেন এরা ভবিষ্যতে কানে কম শুনবে। কানের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়াতে তখন তারা খুঁজে নেবে ইয়ার মেশিন। সঠিক মাত্রায় শব্দ শোনার জন্য ফ্রিকোয়েন্সির সংখ্যা বাড়তে দু/চার চ্যানেলের মেশিনে কাজ না হলে তাকে দশ থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকা দামের সদৃশ্য বস্তুর মতো ইয়ারমেশিন কিনতে হতে পারে। তারপরও স্বাভাবিক নয়। এ দূষণের কবল থেকে পরিত্রাণ পেতে এ এলাকার ভুক্তভোগী পিতা-মাতা তার সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় করছেন। কান বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০ বছর পর ফিপটি পারসেন মানুষের শ্রবন শক্তি হ্রাস পাবে।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সদরের বাসিন্দা সরকারি কর্মকর্তা এক পিতা তার একাদশ পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন। এই অবিভাবক তার সন্তানের কর্মকাণ্ডকে অনেকটা অভিযোগ আকারে বলেন, আমার কলেজগামী নাছোড়বান্দা ছেলের বায়নার কারণে তাকে কিনে দিতে বাধ্য হয় একটি স্মার্ট ফোন। পড়াশুনার ফাঁকে সময় পেলেই সে তার স্মার্ট মোবাইলফোনে জ্যাকপিন ঢুকিয়ে ইয়ারফোন কানে লাগিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে গান শোনে। এমনকি মোটরসাইকেলে চালনায় এবং অন্য যানবাহনে চড়ে থাকা অবস্থায়ও সে এভাবে গান শোনে। এভাবে গান শোনা শ্রবণশক্তিকে হ্রাস করাসহ দেহের ক্ষতিকর দিকগুলো তাকে শোনালে, সে বলে তুমি পড়ে আছো মান্ধাতার আমলে। সেইসাথে আরো শোনায় তার অন্যান্য বন্ধুবান্ধবের স্মার্টফোনের স্মার্টনেস কথা।

ঢাকা মিরপুরের আবিদ হিয়ারিং এইড সেন্টারের হিয়ারিং এইড স্পেশালিস্ট আলহাজ আনোয়ারুল আমিন বলেন, ইয়ারফোন ব্যবহার করে গান শোনা মানে কানের মারাত্মক ক্ষতিকরা। বেশি নয়; এভাবে যদি কেউ দিনে গড়ে ২ ঘণ্টা গান শোনে ভবিষ্যতে তার হেয়ারলেস হবে। বিষয়টি শুধু নির্দিষ্ট এলাকায় নয়, সারাদেশেই ব্যাঙের ছাতার মতো বিস্তার করেছে। জনসচেতনতার মাধ্যমে এদেরকে যদি সজাগ করা না হয়, তাহলে আগামী ২০ বছরপর ফিপটি পারসেন মানুষ কানে কম শুনবে। বাধ্য হয়ে এরা বেছে নেবে ইয়ারমেশিন। শব্দকে কান স্বাভাবিক করে ফ্রিকোয়েন্সি, এর সংখ্যা বাড়াতে হলে ইয়ারমেশিনে প্রয়োজন চ্যানেল। আমাদের দেশে বর্তমান মূল্যের ডিজিটাল হেয়ারিং মেশিন দু চ্যানেলের ৩০ হাজার আর ফোর চ্যানেল ৪০ হাজার টাকা। এভাবে চ্যানেল বাড়াতে হবে কয়েক লক্ষাধিক টাকা গুনতে হবে।

কানের ওপর এমবিবিএস পাশ করা ডা. শাহাদত হোসেন বলেন, উচ্চ মাত্রার শব্দ শ্রবণশক্তি হ্রাস ও শরীরের রক্তচাপ বৃদ্ধি করে ও হৃদযন্ত্রের কম্পন বাড়িয়ে তোলে এবং শিশু থেকে শুরু করে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করে। মোবাইলের মাধ্যমে ইয়ারফোন ব্যবহার করে নিয়মিত গান শুনলে অবশ্যই তার হেয়ারলেস হবে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, এভাবে গান শুনে হেয়ারলেস হলে তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ওষুধে কাজ না হলে তার কান অপারেশন করতে হতে পারে। এ অপারেশনের খরচ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তবে গ্যারান্টি দিয়ে বলা যাবে অপারেশনের পর শতভাগ কাজ হবে কি-না।

Leave a comment

Your email address will not be published.