ভোটার তালিকা ব্যালট বাক্স পাঠানো শুরু

0
40

স্টাফ রিপোর্টার: আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের কাছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে ব্যালট বাক্স পাঠানোর কাজও শুরু হয়েছে। নতুন আনা ৪০ হাজার ব্যালট বাক্স আগামী সপ্তার মধ্যেই পৌঁছে যাবে সারাদেশে। পুরানো প্রায় দু লাখ আর নতুন আনা ৪০ হাজার স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট দিয়ে ভোটাররা সারাদেশে ৩০০ প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

নির্বাচন কমিশন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষে এখন শেষ মুহূর্তের কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার প্রস্তুতিও শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের জন্য জানুয়ারির প্রথমার্ধকেই উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ৩০০ আসনের ভোটার তালিকা ছাপার কাজ শেষ করেছে। গত ৫ নভেম্বর থেকে ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যারা ভোটার হয়েছেন ব্যতিক্রম ছাড়া তারাই কেবল দশম জাতীয় সংসদে ভোট দিতে পারবেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এ ব্যাপারে বলেছেন, দুয়েক দিনের মধ্যে আচরণ বিধি চূড়ান্ত করেই তফশিলের সময়সূচি ঠিক করা হবে। তবে ৪৫-৫০ দিন সময় রেখেই তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি। ২৭ অক্টোবর থেকে ক্ষণ গণনা শুরু হওয়া দশম সংসদ নির্বাচন ২৪ জানুয়ারির মধ্যে করার কথা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, দেশের নয়টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে শুধু সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করা হয় ২ নভেম্বর।

সর্বশেষ নবম সংসদে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে ভোটের তারিখ পিছিয়ে কয়েক দফা পুনঃতফশিল করা হয়েছে। আবার ভোটের সময় ঝামেলা হলে ভোটকেন্দ্র বন্ধসহ নানা ব্যবস্থা নিতে হয়। এক্ষেত্রে কিছু কেন্দ্রর পুনঃভোটের কথা বিবেচনায় নিয়ে কিছু সময় হাতে রাখতে হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সংসদ নির্বাচনের পর অন্তত সপ্তা দুয়েক সময় হাতে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে (৪৫-৫০ দিন) ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে ভোট করতে নভেম্বরের শেষের দিকে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

বিগত ৯টি নির্বাচনের দিনক্ষণ: দেশে এ পর্যন্ত ৯টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, দ্বিতীয় ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ১৯৮৬ সালের ৭ মে, ৪র্থ ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ, ৫ম ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ৬ষ্ঠ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ৭ম ১৯৯৬ সালের ১২ জুন, ৮ম ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ও নবম সংসদ নির্বাচন ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। আর সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নবম সংসদ নির্বাচনের জন্য এমএ আজিজ কমিশন ৫ বার তফশিল ঘোষণা করে। তবে শেষ পর্যন্ত ওই কমিশন নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়। এরপর এটিএম শামসুল হুদার কমিশনও তিন বার তফশিল করায় মনোনয়ন দাখিলের সময় বাড়ে প্রার্থীদের।

কর্মপরিকল্পনায় ইসি: ইসি কর্মকর্তারা জানান, সব নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা এবং প্রয়োজনীয় আইন-বিধি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (আরপিওর সাথে সমন্বয় রেখে আচরণ বিধি, নির্বাচন পরিচালনা বিধি, ম্যানুয়েল তৈরি এবং মনোনয়নপত্র, ফরম, প্যাকেট) মুদ্রণ সম্পন্ন করতে হবে। দ্রুততার সাথে এগোলে সপ্তা দুয়েকের মধ্যে এসব শেষ করা যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তফশিল ঘোষণার আগেই ৪০ হাজারেরও বেশি ভোট কেন্দ্র, নতুন দলের নিবন্ধন দেয়া, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা শেষ করতে হবে। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ প্রায় ৭ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। এজন্য জেলা প্রশাসকরা এসব কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তালিকাও প্রণয়ন করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here