বেনাপোলে বিশেষ সতর্কতা : জিকা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী টেনশন

স্টাফ রিপোর্টার: ক্রমেই সারাবিশ্বেই টেনশন বাড়াচ্ছে জিকা ভাইরাস। ব্রাজিল থেকে দ্রুতই সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসটি। এতে প্রায় ৪০ লাখ লোক আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে ব্রাজিলে ৪ হাজারের বেশি শিশু এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জন্ম নিয়েছে। এমনকি বিশ্বের ২১টি দেশে এটির অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। এ কারণে বেনাপোল চেকপোস্টে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে স্বাস্থ্যকর্মীরা। কোনো বিদেশি নাগরিক এ পথে আসলে তাকে বিশেষভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীরা। কোনো বিদেশি যাত্রী এলে তার শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত কোনো যাত্রী ধরা পড়েনি বলে জানা গেছে। চলতি মাসে এ পর্যন্ত ভারতসহ এ পথে বিদেশি ৮৬৫ জন যাত্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর ভেতরে ভারতের ৮১৯, অস্ট্রেলিয়ার ৪, শ্রীলংকার ১, বেলারুসের ২, বৃটিশ ১, মালয়েশিয়ার ১০, আমেরিকার ৮, কানাডার ৯, ইতালির ১ ও ইন্দোনেশিয়ার ১০ জন নাগরিক রয়েছে।
২০১৪ সালে ব্রাজিলে ১৫০ শিশু জন্ম নিয়েছে, যাদের মাথা শরীরের তুলনায় অস্বাভাবিক রকমের ছোট। এসব জিকা ভাইরাসের প্রভাবে হয়েছে। জিকা ভাইরাস মস্তিস্কে ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্মের হার বৃদ্ধি ও এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি বলেছে, মশাবাহিত এই রোগটির সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে এখনি ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। সংস্থাটি ইতোমধ্যেই একে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য হুমকি বলে ঘোষণা করেছে। এর মোকাবেলা করার মতো কোনো টিকা বা ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। যদিও জিকা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের দাবি করেছে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। দেশটির হায়দরাবাদে ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এ ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে।
কোম্পানিটির কর্ণধার ড. কৃষ্ণ ইলা বলেছেন, জিকা নিয়ে আমরাই বিশ্বে প্রথম কোম্পানি, যারা এ ভাইরোসের টিকা আবিষ্কার করেছি, এখন থেকে ৯ মাস আগে এর প্যাটেন্ট করা হয়েছে। তবে তা প্রাণী ও মানুষের মধ্যে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে লম্বা সময় লাগতে পারে।
আগামী ৪ মাসের মধ্যে তার কোম্পানি ১০ লাখ ডোজ টিকা তৈরি করতে পারবে বলে ড. ইলা জানান। গর্ভবতী নারীরা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তা শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করে এবং শিশু বিকলাঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই জিকা ভাইরাস বিশ্বের মনোযোগ টেনেছে। এটির মূল কারণ, মাইক্রোসেফালি নামে একটি নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার ও ভাইরাসটির মধ্যে যোগসূত্র।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন এর সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক প্রনয় কুমার সরকার বলেন, জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। এ ভাইরাস বহনকারী কোনো যাত্রী যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আমদের টিম। তিনি আরো জানান, দক্ষিণ আমেরিকা জুড়ে এডিস নামে এক প্রজাতীর মশার মাধ্যমেবাহিত জিকা ভাইরাসের কারণে মায়ের পেট থেকেই নানা সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয় শিশু। যার কোনো চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কৃত হয়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published.