বাংলাদেশ সীমান্তে ড্রোন মোতায়েন করবে ভারত

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ সীমান্তে ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। বিএসএফ’র এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার ভারতীয় পত্রিকা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে কড়া নজরদারির জন্য আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিক্যালস (ইউএভি) বা চালকবিহীন আকাশযান মোতায়েন করা হবে। কার্যকরভাবে এসব যান পরিচালনার জন্য বিএসএফ ও ভারতীয় বিমান বাহিনীর মধ্যে একটি খসড়া চূড়ান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ সীমান্ত ছাড়াও পাকিস্তান সীমান্তেও এটি ব্যবহার করা হবে বলে বিএসএফ জানিয়েছে।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এ ব্যাপারে বলেন, ড্রোন মোতায়েনের বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। তবে এটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকিজনক কিছু হলে তার জোরালো প্রতিবাদ করা হবে। তিনি বলেন, এ জাতীয় বিমান নো-ম্যান্স ল্যান্ডের আকাশসীমায় আসার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সীমান্তে কারো অনুপ্রবেশ অথবা মাদক পাচার হচ্ছে কি-না তা-ও এ জাতীয় ড্রোন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে না। এছাড়া এটি পাকিস্তান ও ভারত সীমান্তের বিষয়। এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। বিএসএফ মহাপরিচালক সুভাষ জোশির জানায়, নজরদারির জন্য ইউএভি সীমান্ত এলাকার ১০ থেকে ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় চলাচল করবে। ছবি তোলার পাশাপাশি ভারতীয় সীমান্তের আশেপাশে কেউ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে বা কারো গতিবিধি দেখা গেলে তাত্ক্ষণিকভাবে সেসব তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানাবে। সুভাষ জোশি আরো বলেন, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে খুব শিগগিরই ইউএভি মোতায়েন করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। শুধু ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত নয় বরং পূর্বাঞ্চলীয় বাংলাদেশ সীমান্তেও এ ড্রোন ব্যবহার করা হবে।

বিএসএফ’র মহাপরিচালক বলেন, এ ড্রোনগুলো অনেক উঁচুতে চলাচল করবে। তবে আকাশপথের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হচ্ছে আমাদের। এজন্য ভারতীয় বিমান বাহিনীর সাথে আমাদের যুক্তভাবে কাজ করতে হবে। অপর এক কর্মকর্তা বলেন, ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে সীমান্তে নজরদারি আরো কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে সীমান্তে অপতত্পরতা দমনের পাশাপাশি অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত প্রমাণ পাওয়া যাবে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সীমান্তে ড্রোন ব্যবহারের জন্য গত বছর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দেয় বিএসএফ। তবে সীমান্তে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার ও বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভারত ইতোমধ্যেই লং-রেঞ্জ রিকনাইসেন্স অ্যান্ড অবজারভেশন সিস্টেম (এলওআরআরওএস), ব্যাটলফিল্ড সারভিল্যান্স রাডার (বিএফএসআর) এবং রাতে দেখার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে। বর্তমানে ভারতের নকশাল (চরমপন্থি) অধ্যুষিত ঘন বনাঞ্চলগুলোতে গোপন আস্তানার সন্ধানে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ইতোমধ্যেই রাজস্থান সীমান্তে ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে বলে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যম প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *