পানিতে ডুবে ভি.জে স্কুলের ছাত্র তানভীর নিহত

চুয়ডাঙ্গা মাঝেরপাড়ায় পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে বিপত্তি

সাঁতার শেখার আবদার পূরণ না করার সান্ত¦না খুঁজে পাচ্ছেন না মা
স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গায় আরো এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা মাঝেরপাড়ার শিশু তানভীর প্রতিবেশীর পুকুরের পানিতে পড়ে ডুবে মারা গেলে মা লিপি খাতুনের সামনে উঠে আসে তার একমাত্র সন্তানের সাঁতার শেখার আকুতির সেই ছবি। মাসখানেক আগে সাঁতার শেখার জন্য মায়ের কাছে আকুতি-মিনতি করেছিলো সে। যে সন্তান সাঁতার শেখার জন্য অতো করে বলেছিলো, সেই সন্তানের পানিতে ডুবে মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মা লিপি খাতুন।
তানভীর আহমেদ চুয়াডাঙ্গা ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির প্রভাতী শাখার ছাত্র ছিলো। তার পিতা আবু সাঈদ রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক। গত মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের রিজিয়া খাতুন প্রভাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির দু ছাত্রী লামিয়া ও ইয়াসিমন পানিতে ডুবে মারা যায়। চুয়াডাঙ্গার পীরপুরে বেড়াতে গিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে নেমে পানিতে ডুবে একই পরিবারের দু শিশু মারা গেলে বেলগাছি মুসলিমপাড়ায় নেমে আসে শোকের ছায়া। জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শুধু সহযোগিতার হাতই বাড়াননি, সেদিন তিনি শিশুদের সাঁতার শেখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তারই অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে ঘুরে শিশুদের সাঁতার শেখার বিষয়ে সচেতনতার আলো ছড়াচ্ছেন। এরই মাঝে সপ্তাহ না ঘুরতেই চুয়াডাঙ্গায় পানিতে ডুবে মারা গেলে আরও এক শিশু। এরপরও কি শিশুদের সাঁতার না শিখিয়ে উদাস সময় কাটাবেন অভিভাবকেরা? সঙ্গত প্রশ্ন সচেতনমহলের।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের মাঝেরপাড়ার আবু সাঈদের ছেলে তানভীর আহমেদ তার সহপাঠীপদের সাথে নিয়ে বাড়ির পাশের আহাদুল ইসলামের পুকুরপাড়ে খেলছিলো। দুপুর ১২টার দিকে তানভীর পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। খেলার সাথীরাই খুঁজতে থাকে। ভাগ্যিস অন্য শিশু ওর মতো পড়েনি। খেলার এক সাথী বলেছে, পুকুরের পানিতে নেমে হাত মুখ ধুতে গিয়ে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর উপুড় হয়ে ভেসে ওঠে। তানভীর আহমেদ তার পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। তানভীরের মৃত্যুর খবরে মহল্লাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ওর মা মাঝে মাঝেই মুর্ছা যেতে থাকেন। তিনি বলেন, মাসখানেক আগেও সাঁতার শেখার জন্য কতো করে বলতে লাগলো। আমি বলেছিলাম, এবার নয়, আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সাঁতার শিখতে দেবো। তার আগেই পানিতে কেড়ে নিলো ওকে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *