পরিকল্পনাকারী জিয়া ও তামিম ডিবির জালে?

 

তারা ঢাকাতেই আছেন-পুলিশ : বারিধারায় রাতভর ব্লকরেইড

স্টাফ রিপোর্টার: গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার মাস্টারমাইন্ড মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ জিয়াউল হক ও তামিম আহমেদ চৌধুরী ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইউনিটের হাতে আটক হয়েছে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে! যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি। তবে গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে তারা ঢাকায় আছেন। এর আগে গত ৬ আগস্ট পুলিশ সদর দফতরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেছিলেন, তারা নজরদারিতে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী শিল্পগোষ্ঠীর এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, মাস্টারমাইন্ড জিয়া ও তামিমসহ আরো কয়েকজন নজরদারিতে রয়েছে। সময়মতো তাদের আটক করা হবে।

এই দুই মাস্টারমাইন্ডকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য গত ২ আগস্ট পুলিশ সদর দফতর থেকে ২০ লাখ টাকা করে ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের ধারণা, তারা ঢাকাতেই আছেন। আমরাও চেষ্টা করছি এবং অন্য সবার কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। ধরিয়ে দিতে পারলে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কারের ঘোষণাও হয়েছে।

সূত্র জানায়, মেজর জিয়া ও তামিমকে আটক করতে ইতোমধ্যে ঢাকার গুলশানের নিকেতন ও বারিধারায় ব্লকরেইড চালিয়েছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতভর বারিধারার সন্দেহভাজন বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। জিয়া ও তামিমের আরেক সহযোগী সেজাদ করিমকে আটকের জন্য এই অভিযান চালানো হয়।

গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলাকারী দাওলাতুল ইসলাম বাংলাদেশের মাস্টারমাইন্ড জিয়া ও তামিম আগেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর মেজর জিয়ার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চালানর পর একটি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে আটক হন তিনি। ওই সময় মেজর জিয়া সাভার সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ১৫ দিন আটক থাকার পর তাকে সাভার সেনানিবাসে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থান করার পর কৌশলে তিনি পরিবার নিয়ে সেনানিবাস থেকে বের হয়ে আমিনবাজারে একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। এরপর থেকেই তিনি লাপাত্তা। গত ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মেজর জিয়াকে খুঁজতে থাকে। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী  গুলশানের নিকেতন এলাকা থেকে তাকে আটক করে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়।

আরেক জঙ্গি তামিম আহমেদ চৌধুরীও বারিধারার একটি অভিযান থেকে আটক হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়। হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা চালাতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ সদস্যদের সমন্বয়ে দাওলাতুল ইসলাম বাংলাদেশ গঠন করা হয় এই তামিমের পরিকল্পনায়। একসময় হিযবুত তাহরীরের অপারেশন কমান্ডার মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ জিয়াউল হকও তামিমের দিকে জঙ্গি সংগঠন গঠন করতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। মেজর জিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রিটেনে অবস্থানকারী মেজর (অব.) ইশরাক আহমেদ তাকে সহযোগিতা করেন বলে গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছে। ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর সেনাবাহিনীতে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চালানোর সময় মেজর (অব.) ইশরাক আহমেদ লন্ডনে অবস্থান করে মিডিয়া ক্যু করার চেষ্টা করেছিলেন।

২৫ জুলাই কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের সফল অভিযান পরিচালনার পর তথ্য বেরিয়ে আসে যে, হলি আর্টিজানে হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড তামিম আহমেদ চৌধুরী। এরপর থেকে তামিমকে আটক করতে পুলিশ প্রথমে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। হলি আর্টিজানে হামলার সময় জঙ্গিরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হাসনাত রেজা করিমের মোবাইলফোন থেকে উইকার অ্যাপস ডাউনলোড করে। ওই অ্যাপসের মাধ্যমে জঙ্গিরা তাদের হামলার চিত্র ও তথ্য পাঠায়। সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট নিশ্চিত হয় যে, জঙ্গিদের সাথে মেজর জিয়া ও তামিমের যোগাযোগ হয়েছে। সেখান থেকেই তামিমের অবস্থানও তারা শনাক্ত করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *