দৌলতপুর আসনে লড়ছেন আওয়ামী লীগের দু প্রার্থী

দৌলতপুর প্রতিনিধি: দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন আওয়ামী লীগেরই দু প্রার্থী। নৌকা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের যুগ্মআহ্বায়ক স্বতন্ত্রপ্রার্থী রেজাউল হক চৌধুরী আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আফাজ উদ্দিন আহমেদ সাধারণ ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় হলেও তা মানতে নারাজ হানিফপন্থি নেতা রেজাউল হক চৌধুরী।

এবারের নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের এ দু প্রার্থী ছাড়াও আরো তিনজন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তাদের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা ঋণ খেলাপি হওয়ায় যাচাই-বাছাইয়ে তিনি বাদ পড়ে যান। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী কোরবান আলী ও উপজেলা জাসদের আহবায়ক অধ্যক্ষ রেজাউল হক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় এখন নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগেরই দু প্রার্থী। তারা দুজনই সমানভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন আহমেদ সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধশালী উপজেলা গঠন এবং অসামাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার নিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন।

অপরদিকে রেজাউল হক চৌধুরী নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত উপজেলা গঠনের লক্ষ্য নিয়ে তার আনারস প্রতীকে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর আত্মঘাতী বোমা হামলার শিকার হওয়ার পর চলাফেরা সীমিত করে দেয়ার ফলে নেতাকর্মীদের সাথে কিছুটা দুরত্ব সৃষ্টি হলেও তা আর নেই বলে জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ। উপজেলা আওয়ামী লীগকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসায় তার নেতৃত্বের প্রতি অনুগত রয়েছে এখানকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ কারণে আফাজ উদ্দিন আহমেদকে উপজেলা আওয়ামী লীগের কান্ডারি হিসেবেই মনে করেন তারা।

অপরদিকে হানিফ সমর্থিত প্রার্থী রেজাউল হক চৌধুরীর প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলাকা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এলাকাবাসী জানায়, ২০০১ সালে রেজাউল হক চৌধুরীর ছোট ভাই আললারদর্গা বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে ছাত্রদল নেতা খোকনকে গুলি করে হত্যা করে। আরেক ভাইয়ের মদদে এলাকায় মাদকব্যবসা চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর তিনিই সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ কামনা করছেন।

কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর সংসদীয় আসনটি ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এটি জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা হলেও বৃহত উপজেলাটি আজো অনেকাংশে অবহেলিত। ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় এবার ভোট কেন্দ্র ১২৬টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ৪৩৩ জন।  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *