দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুজিবনগর সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে

চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন স্থানে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনাসভায় বক্তারা

 

স্টাফ রিপোর্টার: ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাসে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা অপরিসীম। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাসহ দেশে-বিদেশে ওই যুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি  ও সমর্থন আদায় করার ক্ষেত্রে ওই সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকার গঠনের পর থেকে অগণিত মানুষ দেশকে মুক্ত করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিটি পদক্ষেপই যুদ্ধকালীন সময়ের অপরিহার্য এবং মুক্তিযুদ্ধকে একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে পরিচিতি প্রদানে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো তা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস না জানলে স্পষ্ট হবে না। তাই বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো ইতিহাসের মূল চেতনা উপলব্ধি করার আহ্বান জানানো হয়।

চুয়াডাঙ্গায় গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবপ্রসাদ পাল। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকন, পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আনজুমান আরা, জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম মালিক, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান ও আদর্শ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নওরোজ মোহাম্মদ সাঈদ। সহকারী কমিশনার ফখরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দে, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলীসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আদর্শ সরকারি মহিলা কলেজের প্রাক্তণ অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএম ইস্রাফিল। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা।

বদরগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আলিয়ারপুর আজিজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ইটভাটামালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল মোতালেব। বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. জাকিরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মো.সাইফুল ইসলাম স্বপন, এনএস আশিফ মিয়া, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মঈনুদ্দিন আহমেদ খাজা ও হাতেম আলী মণ্ডল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় ছিলেন ক্রীড়া শিক্ষক মো. সানোয়ার হোসেন।

আলমডাঙ্গা ব্যুরো জানিয়েছে, আলমডাঙ্গায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে দিবসের পটভূমি ও তাৎপর্যের ওপর আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদে হলরুমে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খালেদুর রহমান অরুন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকবর আলী, ওজোপাডিকোর আবাসিক প্রকৌশলী আবেদ আলী, কালিদাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম, সমাজসেবা অফিসার আবু তালেব, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের দুই অংশের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, আল-ইকরা ক্যাডেট একাডেমির অধ্যক্ষ আব্দুল হাই প্রমুখ।

কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কোটচাঁদপুরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন- মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমান, সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. ইব্রাহিম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. তাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা ফারজেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খাতুন ও সাফদারপুর এসডি কলেজের অধ্যক্ষ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সি ফিরোজা সুলতানা।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কুষ্টিয়ায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ দিবসটি পালন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান। এ সময় বক্তব্য রাখেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, আবু হেনা মো. মুস্তাফা কামাল, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক আনার কলি মাহবুব, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাক আহমেদ, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *