দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে ঝিনাইদহ-৪ কালীগঞ্জ আসনটি এবারও হারাতে পারে বিএনপির

ঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় (ঝিনাইদহ-৪ আসন) বিএনপির দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণে এবারও এ আসনটি বিএনপি হারাতে পারে বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টু এবং অপরটির নেতৃত্ব দিছেন কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহাবুবার রহমান ও প্যানেল মেয়র হামিদুল ইসলাম। দুটি গ্রুপই কালীগঞ্জ উপজেলায় আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করছে। আর এ সুযোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনীতি দল। গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ গ্রুপিঙের কারণেই চারবার বিএনপির হাতে থাকা  ঝিনাইদহ-৪ আসনটি আওয়ামী লীগের কাছে চলে যায়। এ উপজেলায় বিএনপির দুটি গ্রুপের আলাদা দুটি কমিটি গঠন হয়েছে বলে জানা গেছে। একটি কমিটিতে সাবেক এমপি শহিদুজ্জামান বেল্টু সভাপতি ও  আইনাল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দিয়েছেন বলে নেতাকর্মীদের দাবি। অন্য একটি কমিটি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ করেছেন মাহাবুবার রহমান আহ্বায়ক ও হামিদুল ইসলাম যুগ্মআহ্বায়ক। মাহাবুবুর রহমান গ্রুপের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কালীগঞ্জ উপজেলায় এখনো বিএনপির কোনো কাউন্সিল হয়নি এবং জেলা কমিটির অনুমোদন ছাড়া বিএনপির কোনো কমিটি  হতে পারে না। তারাই একমাত্র জেলা কমিটির অনুমোদিত আহ্বায়ক কমিটি।

বিভিন্নসূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচেন ২ লাখ ২২ হাজার ১২৫ ভোটের মধ্যে শহিদুজ্জামান বেল্টু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়েছিলেন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান ১ লাখ ৫ হাজার ৮৫২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে। অনেক স্থানে দুটি গ্রুপ পাল্টাপাল্টি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করে। কালীগঞ্জ উপজেলায় বেশ কয়েকটি স্থানে বিএনপির দুটি গ্রুপের সভা-সমাবেশ করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো। মূলত এ আসনটি বিএনপির হাতেই ছিলো। লবিং গ্রুপিঙেয়ের কারণে এ আসন হারায় ২০০৮ এর নির্বাচনে।

কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান জানান, সাবেক এমপি শহীদুজ্জামান বেল্টু বর্তমানে এ আসন থেকে বিএনপি মনোনয়ন পাওয়ার জন্য গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ করে  যাচ্ছেন। সাধারণ নেতাকর্মীরা তাকে আর চান না। যার কারণে তার কোনো প্রোগ্রামে বেশি লোক সমাগম হচ্ছে না। তিনি এখনো পর্যন্ত শহরে কোনো মিটিং মিছিল করেতে পারেননি। আমরাই মূলত গত ওয়ান ইলেভেনের পর থেকেই বিএনপির রাজনীতি কালীগঞ্জে চাঙ্গা করে রেখেছি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের সাথে ১৮ দলীয় জোটের শরিকদলগুলো আছে।

কালীগঞ্জ বিএনপর যুগ্মআহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান বেল্টু নির্বাচনে জয় লাভ করার পর নেতাকর্মীদের চেনেন না। তিনি অনেক নেতাকর্মীকে নির্যাতন করেছেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছেন। আমরাই বেল্টু ভাইকে পাস করিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের মূল্যায়ন করেননি। নেতাকর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। এখন সাধারণ নেতাকর্মীরা তাকে আর চান না।

শহিদুজ্জামান বেল্টু বলেন, আমি মূলত তৃর্ণমূল থেকে কাজ শুরু করেছে। আমি প্রথমে গ্রাম, তারপর ইউনিয়ন, তারপর উপজেলায় আন্দোলন জোরদার করছি। আমি ও আমার নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি। তিনি বলেন, আমাকে মাইনাস করার জন্য এ বিভক্তি। আমি আশা করছি আগামী নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে আমিই মনোনয়ন পাবো এবং বিএনপির হারানো সিটটি আমি ফিরিয়ে আনবো। তিনি আরো বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, হামলা, মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমি দলকে সাজাতে কাজ করছি। আমার সাথে কালীগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মীরা থাকবে।

তবে সাধারণ ভোটারদের শঙ্কা, যদি বিএনপির দুটি গ্রুপকে এক না করা যায় তাহলে আওয়ামী লীগ সেই সুযোগটি কাজে লাগাবে এবং ২০০৮ এর মতো বিএনপি এবারও এ আসনটি হারাবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *