দামুড়হুদার লোকনাথপুরে আর্সেনিক ও আয়রণমুক্ত তারা ডেভিট অকেজো : নিরাপদ খাবার পানির অভাব

 

তাছির আহমেদ: দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সবার জন্য উম্মুক্ত আর্সেনিক ও আয়রণমুক্ত নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহের গভীর হস্ত চালিত তারা ডেভিটে এখন আর পানি উঠছে না। ফলে এলাকাবাসী, পথচারি ও সাধারণ মানুষেরা নিরাপদ খাবার পানির অভাবে নিরুপায়ে জেনেশুনে বাধ্য হয়ে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ অর্ধলক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি এ সম্পদটি এলাকার মানুষের কল্যাণে বাস্তবায়িত হলেও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগের রক্ষণাবেক্ষন, সঠিক তদারকি ও মেরামতের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়কে দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের লোকনাথপুর বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিমে উম্মুক্ত রাস্তার পাশে এ প্রকল্পটির অবস্থান। স্থানীয় সরকার পল্লীউন্নয়ন ও সমবায়  মন্ত্রণালয় এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, ব্রিটিশ সরকার এবং ব্রিটিশ ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টার ন্যাশনাল ডেভোলপমেন্টের সহযোগিতায় ১৯৯৯-২০০০ সালে আর্সেনিক দুষণের ওপর পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি জেলা বাদে সারাদেশে ব্যাপক জরিপ চালায়। তার ধারাবাহিকতায় ঢাকার কমিউনিটি হাসপাতাল জয়দেবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিভাগের সহায়তার একটি জরিপে বিপদজনক মাত্রার আর্সেনিক ধরা পড়ে এ দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের নলকূপগুলোর পানিতে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগ ও বিভিন্ন এনজিও আর্সেনিক বিষ থেকে গ্রামবাসী ও পথচারীকে রক্ষা করতে এ ইউনিয়নের লোকনাথপুর বাসস্ট্যান্ডে আর্সেনিক ও আয়রণমুক্ত পানি সরবরাহের জন্য প্রায় ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩শ ফুট গভীরতায় তারা ডেভিট নামে এ হস্তচালিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও নির্মাণকাজ শেষে এলাকার জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাস পানি ওঠার পর তা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এলাকাবাসীর  অভিযোগ  বিভিন্ন স্থানে অগভীর নলকূপ, তারা নলকুপ, রিংওয়েল, ভিএসএসটি ও রেইন সিস্টেম হারভেস্টিং পদ্ধতিতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হলেও সচেতনতা, সঠিক রক্ষণাবেক্ষন ও তদারকির অভাবে তার বেশিরভাগই এখন অকেজো হয়ে অচল।

লোকনাথপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসীন্দা মুরাদ আলী, বদরুদ্দিন ও আতিয়ার রহমান  জানান, এ হস্তচালিত প্রকল্প থেকে আর্সেনিক ও আয়রণমুক্ত  নিরাপদ খাবার পানি সহজলভ্য। কিন্তু কিছুদিন পানি ওঠার পর এখন আর পানি ওঠে না। বর্তমানে একদম অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। সরকারি এ সম্পদটি এলাকার মানুষের কল্যাণে বাস্তবায়িত হলেও আজ পর্যন্ত এটি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগ সঠিক রক্ষণাবেক্ষন সঠিক তদারকি ও মেরামতের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এ বিভাগের তদারকি ও মেরামতের অভাবের কারণে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকারও বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প থেকে এলাকাবাসী আর্সেনিক ও আয়রণমুক্ত নিরাপদ খাবার পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে এলাকাবাসী পথচারী ও সাধারণ মানুষেরা নিরুপায় হয়ে নিরাপদ খাবার পানির অভাবে জেনেশুনে বাধ্য হয়ে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ জানান, সাধারণত এ জাতীয় প্রকল্প থেকে গভীর তলা থেকে পানি ওপরে উঠে আসতে একটু দেরী হয়। অনেকে জানে না এ জাতীয় প্রকল্প থেকে পানি উঠতে দেরী হয়। তাই অনেকে মনে করে পানি উঠছে না, অকেজো হয়ে গেছে। কোনো ক্রুটির কারণে পানি না উঠলে মেরামত করে তা ব্যবহার করার উপযোগী করে দেয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. সাইদ উর রহমান বলেন, পানির অপর নাম জীবন। আর্সেনিক দুষণ যতোটা প্রতিরোধক ততোটা প্রতিষেধক নয়। আর্সেনিক বিষ ক্রিয়ার প্রভাবে মানবদেহে লিভার, কিডনি, গ্যাংগ্রিন, শ্বাস কষ্ট ও ত্বকে ক্যান্সারসহ রোগীর মুত্যু হতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *