দলে যোগ দিয়েই প্রার্থী : নির্বাচনী ব্যয় বাড়িয়ে হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার: বহুল আলোচিত ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দি পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০১৩’ গত রোববার সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। তবে এ বিলের একটি ধারা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৩ বছর ওই দলের সদস্য থাকার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া হয়েছে। ফলে যেকোনো ব্যক্তি দলে যোগ দিয়েই সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ। বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই প্রস্তাব জমা দিলেও তাদের অনুপস্থিতির কারণে তা উত্থাপিত হয়নি। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দি পিপল অর্ডার-১৯৭২’ সংশোধনের লক্ষ্যে আনা এ বিলে বলা হয়েছে। পাস হওয়া বিলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয় ১৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর দলীয় প্রধানদের নির্বাচনী ভ্রমণ ব্যয় এ হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া বিলে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলে ব্যক্তির অনুদানসীমা ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর কোনো কোম্পানি বা সংস্থার অনুদান সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে। যা আগে ছিলো ২৫ লাখ টাকা। বিলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করা হয়েছে। আর নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজন মাফিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করার পস্তাব করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এ বিলটি উত্থাপন করা হয়। পরে তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। গত রোববার বিলটি পাসের সুপারিশ করে সংসদে রিপোর্ট জমা দেয় সংসদীয় কমিটি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *