টালমাটাল জাতীয় পার্টি

বাবলু বাদ হাওলাদারকে মহাসচিব পদে ফেরালেন এরশাদ প্রত্যাখ্যান সংসদীয় দলের
স্টাফ রিপোর্টার: প্রায় ৩৪ বছর আগে, ১৯৮২ সালে সেনাবাহিনী প্রধান থাকা অবস্থায় ক্ষমতা দখল করে ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে বিচারপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে নিজেই রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ আরো কয়েকটি দল থেকে নেতাদের বাগিয়ে গঠন করেন জাতীয় পার্টি (জাপা)। পাঁচ ভাগে বিভক্ত সেই জাতীয় পার্টির অবস্থা এখন টালমাটাল।
গত রোববার রংপুরে ছোট ভাই জিএম কাদেরকে নিজের উত্তরসূরি এবং দলের কো-চেয়ারম্যান করার পরদিন বিদ্রোহের মুখে পড়েন এরশাদ। দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এবং ১৮ জন সংসদ সদস্যসহ দলের একটি অংশ গত সোমবার এক যৌথ সভা করে রওশন এরশাদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে। পাল্টা হিসেবে এরশাদও মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে সরিয়ে দলের মহাসচিব করেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে। পরে বিকেলে এক সভায় এরশাদের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল। এ অবস্থার মধ্যেই এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এখন সবচেয়ে বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে। জাতীয় পার্টি নামে এখন মাঠে সক্রিয় দল আছে ৫টি। এর মধ্যে ৪টির নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন রয়েছে। এরশাদের পতনের পর থেকে বেশ কয়েকবার ভাঙন ধরে দলে। এর মধ্যে ৩টি ভাঙন ছিলো বড় ধরনের, তারা দল থেকে বেরিয়ে একই নামে আবার দল করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় দলটির আরো কিছু নেতা দলছুট হয়েছেন, একাধিকবার ছোট ছোট ভাঙনের মুখে পড়েছে দলটি। বড় ভাঙনগুলো হয়েছিলো মূলত বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে। কখনো আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে, আবার কখনো ভেঙেছে মন্ত্রী হওয়া নিয়ে।
এখন এরশাদ এবং তার স্ত্রী রওশনের দ্বন্দ্বে পার্টি আবারো ভাঙনের মুখে পড়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে জাপায় এরশাদ ও রওশনকে কেন্দ্র করে দলে দুটি বলয় তৈরি হয়। সেই দুটি বলয় এখন প্রকাশ্য ২ শিবিরে বিভক্ত। গত রোববার রংপুরে এরশাদ তার ভাই জিএম কাদেরকে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এর এক দিনের মাথায় সোমবার রওশনপন্থীরা এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এরশাদ বলেছেন, রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা অবৈধ। এখনো অবশ্য এই দুটি অংশের কেউ আলাদা হওয়ার ঘোষণা দেয়নি।
রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় আলাদা জাতীয় পার্টি হলো কি-না, এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জাতীয় পার্টির সদ্য অব্যাহতি পাওয়া মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, এরশাদ দলের চেয়ারম্যান আছেন। রওশন এরশাদ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অবশ্য এরশাদ বলেছেন, রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ব্যাপারে শিগগিরই তিনি ব্যবস্থা নেবেন। এরশাদের নেতৃত্বাধীন এই অংশটি মূল জাতীয় পার্টি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচন কমিশনে এই দলটি নিবন্ধিত লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে। এছাড়া আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি) নিবন্ধিত বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে এবং নাজিউর রহমান মঞ্জুর জাতীয় পার্টি (বিজেপি) নিবন্ধিত গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে। আর গত নির্বাচনের আগে এরশাদের দলে আরেক দফা ভাঙন ধরিয়ে নতুন জাতীয় পার্টি করেন কাজী জাফর আহমদ। এর বাইরে কাঁঠাল প্রতীকে তাসমিনা মতিনের নামেও জাতীয় পার্টির নিবন্ধন রয়েছে। জাতীয় পার্টির নেতা এমএ মতিনের নেতৃত্বে এই অংশটি আলাদা হয়েছিলো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *