চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির পশু ঘাটতি থাকলেও জোগান দেবে পাশের জেলা

ভারতীয় গরু ঢলের মতো না এলে ক্ষুদ্রখামারিরা দেখবে লাভের মুখ : পশু পালনে পাবে উৎসাহ

 

আহসান আহমেদ: ঈদুল আজহা আসন্ন। আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে কুরবানির পশুহাটগুলো জমতে শুরু করেছে। চুয়াডাঙ্গায় যে সংখ্যক গরু ও ছাগল কোরবানি দেয়া হয় তা কি আছে? নাকি জোগান পেতে হাত বাড়াতে হবে আশে পাশে? জেলা প্রাণী সম্পদক কর্মকর্তার দেয়া তথ্যমতে এবারও চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির জন্য দরকার ৫৫ হাজার থেকে ৮৫ হাজার গরু। আর ছাগল দরকার সোয়া এক লাখ। সরকারি হিসেবে গতবার এই সংখ্যক ছাগল গরু চুয়াডাঙ্গায় কোরবানি দেয়া হয়।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবারও ঘরে ঘরে গরু মোটাতাজা করা কৃষক পরিবারগুলোর মধ্যে যেমন জেগেছে আশার আলো, তেমনই ভর করেছে লোকসানের শঙ্কা। ভারতীয় গরু আমদানি হলে লোকসানের শঙ্কা বাড়িয়ে ঘরে ঘরে গরু মোটাতাজা করার উদ্যোগে আবারও বড়ধরণের ধাক্কা দিতে পারে। অপরদিকে ঈদ উপলক্ষে দূরপাল্লার বাস, ট্রেন, লঞ্চের আগাম টিকেট বিক্রির দিনক্ষণ নির্ধারণও করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট থেকে বাসের টিকিট বিক্রি শুরু হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় গত বছর ৫৫ থেকে ৫৮ হাজার গরু কোরবানি দেয়া হয়। ছাগল কোরবানি করা হয়েছিলো ১ লাখ ১০ হাজারের মতো। এবারও প্রায় একই সংখ্যক ছাগল গরু কোরবানি দেয়া হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখা হয়েছে। এতো গরু-ছাগলের জোগান আসবে কীভাবে? চুয়াডাঙ্গায় হৃষ্টপুষ্টকরণ পশুর সংখ্যা বর্তমানে ষাড় ১৯ হাজার ১শ ৯৯, বলদ ৪৪৪টি। ছাগল হৃষ্টপুষ্ট ১৬ হাজার ৫১৫, ভেড়া ৩৩৬টি। প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের এ হিসেব যদি সত্যি হয়, তাহলে জেলায় কোরবানির গরুর ঘাটতি তিনগুণ, আর ছাগলের ঘাটতি ১০ গুণ। অবশ্য কুরবানিতে যে শুধু হৃষ্টপুষ্ট গরু ছাগলই কুরবানি করা হয় তা নয়, সাধারণভাবে পালন করে কুরবানি দেয়া পশুর সংখ্যা যেমন কম নয়, তেমনই আশেপাশের জেলা থেকেও ছাগল গরু আমদানি করা হয়। চুয়াডাঙ্গার তুলনায় মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে গরু ছাগল পালনের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি। চুয়াডাঙ্গার চাহিদা পূরণে এসব জেলার খামারিরাই দেবে জোগান। খামারিদের অনেকে এ মন্তব্য করে বলেছে, ভারত থেকে দেদারছে গরু দেশে পাচার করে না আনা হলে গরুর দাম বাড়লেও ঘরে ঘরে গরু মোটাতাজা করার উৎসাহ বাড়বে। এতে পরনির্ভরতাই শুধু দূর হবে না, গরু পাচারের নামে অস্ত্র বারুদ মাদক চোরাচালানীও হ্রাস পাবে। অন্যথায় গরুর দাম কমবে। ক্ষতিগ্রস্থ হবে খামারিরা।

গরু ভারত থেকে দেদারছে পাচার হয়ে না এলে এবার কোরবানির পশুহাটে গরুর দাম নিম্নমধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে যেতে পারে। সে হিসেবে কোরবানি দেয়ার মতো গরু কিনতে হলে অর্ধলাখ টাকা নিয়েই হাটে যেতে হবে। আর ভাগা নিয়ে কোরবানি দেয়ার মতো গরুর দাম এবার কমপক্ষে ৭০ হাজার হতে পারে। আর দেখনাই গরু? লাখ পার। এরকম দামের পূর্বাভাস পেয়ে গরু মোটাতাজা করা পরিবারের কৃষক কৃষানীর মুখে স্বস্তির রেখা ফুটে উঠলেও দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না। তাদের অনেকেরই শঙ্কা। শেষ মুহূর্তে ভারতীয় গরুর ঢল নামলে গরু পালনের খরচই ওঠবে না। ফলে সীমান্তরক্ষীদের এদিকে বিশেষ নজর দেয়া দরকার বলেও তাগিদ গ্রাম বাংলার পরিশ্রমী ক্ষুদ্র খামারীদের।

 

Leave a comment

Your email address will not be published.