চুয়াডাঙ্গরকারি গণ-গ্রন্থাগারের পাঠক বাড়ার সাথে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সদস্য হওয়ার নিয়মও

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যোগ হয়েছে ইন্টারনেট : লোকবল সঙ্কটে নাস্তানাবুদ
খাইরুজ্জামান সেতু: চুয়াডাঙ্গা জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের পাঠক সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। একই সাথে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কয়েক বছর আগে চালু হওয়া সদস্য হওয়ার নিয়মও। ইতোমধ্যে ৪৬ জন সরকারি গণগ্রন্থাগারের বই পড়ার জন্য সদস্য হয়েছেন। কিন্তু এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে লোকবল সঙ্কট। গণগ্রন্থাগারের প্রধানের মতে শূন্য পদগুলোতে লোকবল দিলে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারটি।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গাতে ১৯৬৫ সালে বেসরকারিভাবে গণগ্রন্থাগার চালু হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিকটে। তা স্থানান্তর করে যথাক্রমে ঝিনুক স্কুল, অ্যাসোসিয়েশন হল, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা, কো-অপারেটিভ ব্যাংক, এস.এম ইস্রাফিল স্যারের বাড়ি, তারপর আবারও অ্যাসোসিয়েশন হলে ফিরে যায়। এর মধ্যে যখন কো-অপারেটিভ ব্যাংকে স্থানান্তর করার পর ৭-৮ মাসের জন্য গণগ্রন্থাগারটি বন্ধ ছিলো। ১৯৮৫ সালে গ্রন্থাগারটি সরকারি করা হয়। অ্যাসোসিয়েশন হলেই দীর্ঘদিন চলতে তাকে কার্যক্রম। পরে ২০১১ সালে নিজস্ব ভবন নির্মাণ হলে সেখানে স্থানান্তর হয়ে আসে গ্রন্থাগারটি। শুরুর পর থেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের পাঠক সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। ২০১২ সালের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি গণগ্রন্থাগারে সদস্য হয়ে বাড়ি বই নিয়ে পড়তে পারেন। এই নীতিমালা প্রণয়নের পর থেকেই চুয়াডাঙ্গাতে যেমন পাঠক সংখ্যাও বেশি বাড়ছে, ঠিক তেমনই সদস্য হওয়ার নিয়মটিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকারি গণগ্রন্থাগারে বসে পাঠকেরা বিনামূল্যে বই, পত্রিকা ও সাময়িকী পড়তে পারেন। আর নীতিমালা প্রণয়নের পর ২০১৩ সাল থেকে সদস্য সংগ্রহ শুরু করে গ্রন্থাগারটি। আর এই পাঠক সংগ্রহ করা হচ্ছে তিন ক্যাটাগরিতে। তাহলো শিশু, ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ। অনূর্ধ্ব ১৬ বছর শিশুদের সদস্য হওয়ার জন্য ফেরতযোগ্য ২শ’ টাকা ফি ও ১০ টাকার ফরম সংগ্রহ করতে হয়। প্রতি বছরে ২৫ টাকা দিয়ে সদস্যপদ নবায়ন করতে হয়। ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে একই সাথে যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী সদস্য হিসেবে অর্ন্তভুক্ত হতে পারে। সদস্য হওয়ার জন্য ফেরতযোগ্য ৩শ’ টাকা ফি ও ১০ টাকার ফরম সংগ্রহ করতে হয়। প্রতি বছরে ২৫ টাকা দিয়ে সদস্য পদ নবায়ন করতে হয়। বয়স ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কিন্তু ছাত্র-ছাত্রী নয়, এমন ব্যক্তিরা সাধারণ সদস্য হতে পারেন। সদস্য হওয়ার জন্য ফেরতযোগ্য ৫শ’ টাকা ফি ও ১০ টাকার অফেরতযোগ্য ফরম সংগ্রহ করতে হবে। প্রতি বছর ২৫ টাকা দিয়ে সদস্য পদ নবায়ন করতে হয়। বর্তমানে মোট সদস্য সংখ্যা ৪৬ জন। এর মধ্যে শিশু সদস্য ৮, ছাত্র-ছাত্রী ২৮ ও সাধারণ সদস্য ১০ জন। ২০১৩ সালে সদস্য সংগ্রহ হয় ১২জন। এর মধ্যে শিশু সদস্য ৪, ছাত্র-ছাত্রী ৭ ও সাধারণ সদস্য ১ জন। ২০১৪ সালে মোট সদস্য সংগ্রহ ১০ জন। এর মধ্যে শিশু সদস্য ১, ছাত্র-ছাত্রী সদস্য ৬ ও সাধারণ সদস্য ৩জন। ২০১৫ সালে মোট সদস্য সংগ্রহ ৫ জন। এর মধ্যে শিশু ২, ছাত্র-ছাত্রী ১ ও সাধারণ সদস্য ২জন। ২০১৬ সালে মোট সংগ্রহ হয় ৯ জন। ছাত্র-ছাত্রী ৮ ও সাধারণ সদস্য ১জন। ২০১৭ সালে সদস্য সংগ্রহ হয় মোট ৯জন। শিশু সদস্য ১, ছাত্র-ছাত্রী ৫ ও সাধারণ সদস্য ৩ জন। চলতি বছরে গতকাল পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে ১জন। প্রতি সদস্য একসাথে ২টা বই নিয়ে পড়তে পারেন। একই সাথে সর্বোচ্চ ১৫ দিন বই রাখতে পারেন। ১৫ দিন পার হয়ে গেলে সদস্যকে জরিমানা দিতে হয়। পাঠক ও সদস্যদের জন্য বর্তমানে ৩২ হাজার ৫০৭ খানা বই রয়েছে। এর মধ্যে বাংলা বই আছে ৩০ হাজার ৪০৪, ইংরেজী ২ হাজার ৩৫৬, অন্যান্য যেমন আরবি, ফার্সি ও উর্দূ ইত্যাদি বই রয়েছে ৬৪১টি। পাঠক ও সদস্যদের জন্য প্রতিবছরই বইয়ের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। আর সাথে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকাও নিয়মিত নেয়া হয়। বর্তমানে যোগ হয়েছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বইসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা পড়ার সুযোগ। তবে লোকবল সঙ্কটের কারণে জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারটি পাঠক ও সদস্যদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ গ্রন্থাগারটিতে চারটি পদের মধ্যে দুটিই শূন্য। জুনিয়ার লাইব্রেরিয়ান পদে লোক থাকলেও শূন্য রয়েছে লাইব্রেরিয়ান পদ। অফিস সহকারী কাম নিরাপত্তা প্রহরী পদে লোক থাকলেও সহকারী লাইব্রেরিয়ান রয়েছেন ডেপুটেশনে যশোর সরকারি গণগ্রন্থাগারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *