গরম কাপড়ের পোশাক না থাকায় কাতর হয়ে পড়েছে আলমডাঙ্গার পারকুলা আবাসন প্রকল্পের শিশু-কিশোর

এম হাফিজ/আতিকুর রহমান সজিব: হাড়কাঁপানো কনকনে শীতের তাণ্ডবে কাতর হয়ে পড়েছে আলমডাঙ্গার পারকুলা আবাসন প্রকল্পের প্রায় দেড় শতাধিক শিশু-কিশোর। শীত মোকাবেলার মতো কোনো গরম কাপড়ের পোশাক না থাকায় শিশুদের এখন নাকাল অবস্থা।

জানা গেছে, ভূমিহীন মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিতে প্রায় ৮ বছর আগে সরকারিভাবে আলমডাঙ্গা উপজেলার পারকুলা আবাসন প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৪০টি পরিবার বসবাসের উপযোগী করে এ আবাসন প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে সময় এলাকার ১৪০টি ভূমিহীন অতি দরিদ্র পরিবার এ আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাস করলেও এখন বসবাস করে ৬০টি পরিবার। নানা অসুবিধার মধ্যেও তারা এখানে বসবাস করে শুধুমাত্র নিরুপায় হয়ে। এক চিলতে জমি যদি থাকতো তাহলে এ আবাসনে থাকতেন না বলে জানিয়েছেন আবাসনে বসবাসকারী রতন আলী, মাঝ বয়সী আবুল কাশেম।

এখানে বসবাসকারী ভ্যানচালক আশাদুল জানিয়েছেন, এখানে বসবাসকারীরা এলাকার সবচেয়ে দারিদ্রক্লিষ্ট মানুষ। তারপরও তাদেরকে কোনো সরকারি সাহায্য দেয়া হয় না বলে আক্ষেপ করেছেন। শীতের কোনো কাপড় পেয়েছেন কি-না বয়বৃদ্ধ মতিয়ার রহমানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি হতাশার সুরে বলেন- ‘এই দ্যাশে সত্যি সত্যি যারা গরিব, তারা কি আর গরিবির মাল পায়! গরিবির মাল খায় বড় লোকে। মিথ্যে বলবো না, পেতথম পেতথম দু বার কারা যেন কম্বল দিইলো। আর কেউ দিতি আসিনি। নিজির কতা তো বাদই দিলাম, আপনারা দেখছেন তো ছোট ছোট ছেইলে-মেয়েগুন জাড়ে কি কষ্ট করচে! যেন সারা শরিলি সুঁই দিয়ে শিলায় দেচচে!’ হাতে ক্যামেরা দেখে ১০/১২ জন শিশু তো সার্বক্ষণিক পেছনে লেগে রয়েছে। তাদের কারোরই পর্যাপ্ত শীতের পোশাক নেই। এদের আবার কয়েকজনের গায়ে ছেঁড়া পোশাক। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেলো, স্কুল দূরে বলে এদের বেশির ভাগ পড়ে না। হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন প্রাইমারি স্কুলে পড়ে। একটু বড় হয়ে উঠলে এদের কেউ কেউ কামলা খাটে, কেউ বাপের সাথে ভ্যান চালায় আবার কেউবা দোকানের কর্মচারী হয়। মেয়ে শিশুরা মানুষের বাড়িতে ঝির কাজ করে। তবে প্রাইমারি পাস করেছে যারা, তাদের অনেকেই সেলাই শিখে সেলায়ের কাজ করছে।

Leave a comment

Your email address will not be published.