খোশ আমদেদ মাহে রমজান

 

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউসুফ আলী: আজ ১২ রমজান। পবিত্র মাহে রমজানের মাগফেরাত দশকের আজ দ্বিতীয় দিন। বহু ফজিলত ও পুণ্যময় বৈশিষ্ট্যের আধার এ মাসে মহান আল্লাহতায়ালা বান্দার মাগফেরাতের ব্যবস্থা করেছেন। সহিহ রেওয়াতে বর্ণিত,যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় তারাবির নামাজ আদায় করবে তার অতীতের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে (বুখারি,মুসলিম,তিরমিজি,আবু দাউদ,ইবনে মাজা,নাসাঈ)। নাযন ইবনে শায়বান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের একাংশে হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তোমাদের ওপর রমজানের রোজাকে ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের ওপরের তারাবির নামাজকে সুন্নত সাব্যস্ত করেছি। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রোজা ও তারাবির নামাজ আদায় করবে সে এমনভাবে গোনাহ্মুক্ত হবে যেন এই মাত্র তার মা তাকে প্রসব করলো (ইবনে মাজাহ)। তারাবির নামাজ অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। রসুল (সা.) তারাবি নামাজের ব্যাপারে ফরজ বা ওয়াজিবের মতো কঠোর নর্দেশ দিতেন না,তবে সাহাবিদেরকে এ নামাজের জন্য খুব উৎসাহিত করতেন (মুসলিম)। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, একদা রমজান মাসে রসুল (সা.) স্বীয় ঘর হতে বের হয়ে দেখতে পান যে, মসজিদের এক পাশে কিছু সাহাবি নামাজ আদায় করছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন- এরা কি করছে?তাকে বলা হোল- এদের কোরআন মুখস্ত না থাকায় তারা উবাই ইবনে কা’বের (রা.) পেছনে মুকতাদি হিসেবে তারাবির নামাজ আদায় করছে। নবী করীম (সা.) বলেন, তারা ঠিকই করছে (আবু দাউদ: ২/১৩৭৭) এ নামাজ সুন্নত হওয়ার ব্যাপারে সকল ইমাম এক মত। তারাবির নামাজের ফজিলত হুজুর (সা.) এর কাছে এতো বেশি ছিলো যে,তিনি জামাতের সাথে সাহাবিদের নিয়ে এ নামাজ বেশ কয়েক দিন আদায় করেছিলেন (ছিহাহ্ সিত্তার সকল কিতাব)। তবে এ নামাজ উম্মতের ওপর ফরজ হওয়ার আশঙ্কায় তিনি পরবর্তীতে জামাতের এহতেমাম করেননি। কিন্তু সাহাবায়েকেরাম (রা.) তখনও বিছিন্নভাবে জামাতের সাথে অথবা একাকি এ নামাজ আদায় করেছেন। মদিনার বিখ্যাত ইমাম মালিক (রহ.) তার প্রসিদ্ধ সহিহ হাদিসগ্রন্থ মুয়াত্ত মালিক কিতাবে বর্ণনা করেছেন,হযরত উমর (রা.)’র খেলাফত কালে সাহাবিরা রমজানে ২০ রাকাত তারাবি ও ৩ রাকাত বিতর পড়তেন। ইহাই শেষ পর্যন্ত স্থির করা হয় (মুয়াত্ত মালিক,তারাবিহ অধ্যায়)। সুনানে বায়হাকিতে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে,হুজুর (সা.) রমজানে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করতেন। যাক্ওয়ান আবু আমর (র.) নবী করিম (স.)’র সহধর্মিণী আয়েশা (রা.)-এর ক্রীতদাস ছিলেন। ওই যাক্ওয়ান রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়িতেন এবং আয়েশা (রা.) তার পেছনে অন্যান্যদের সাথে মুকতাদি হয়ে নামাজ পড়তেন অথবা তার কোরআন পাঠ শুনতেন (মুয়াত্ত মালিক, তারাবি অধ্যায়)। সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই দীর্ঘ চৌদ্দশত বছর যাবত মক্কা মোকাররমা ও মদিনা মনোওয়ারার হারামাইন শরিফে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ এবং ৩ রাকাত বিতর নামাজ জামাতে আদায় হয়ে আসছে। তাই আসুন,আমরা সবাই রমজানের তারাবির নামাজ যথাযথভাবে আদায় করি এবং মহান আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্য হাসিল করি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *