আলমডাঙ্গার শিয়ালমারী গ্রামে রহমত মাস্টারের কাণ্ড

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অপচেষ্টা : তোলপাড়

 

 

ঘটনা স্থল থেকে ফিরে সদরুল নিপুল/অনিক সাইফুল: আলমডাঙ্গার শিয়ালমারী গ্রামে অসহায় ৫ম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছেন একই গ্রামের রহমত মাস্টার। আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করতে গিয়ে প্রভাবশালীদের চাপের মুখে মামলা করতে পারেনি ছাত্রীর পরিবার। গ্রাম্য সালিসে সমাধানের আশ্বাস দেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা ভেস্তে যায়। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত রহমত ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন।             সরেজমিনে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের শিয়ালমারী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ৫ সন্তানের জনক রহমতউল্লাহ ওরফে রহমত মাস্টার গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একই গ্রামের ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীকে (১০) ধর্ষণের অপচেষ্টা চালান। ধর্ষণের অপচেষ্টার শিকার অসহায় স্কুলছাত্রী (১০) জনসম্মুখে অভিযোগ করে জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়িতে আসি। আমি ঘরের ভেতর একা একা পড়াশুনা করছিলাম। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলো না। অভিযোগকারী ধর্ষণের অপচেষ্টার শিকার স্কুলছাত্রী আরো জানায়, গ্রামসম্পর্কের সুবাদে নানা রহমত মাস্টার (৬৫) বাড়িতে প্রবেশ করেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে চৌকির ওপর আমার পাশে বসেন। এ সময় আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত বোলাতে থাকেন। আমি বাধা দিলে আমাকে চৌকির ওপর ফেলে জোর করে ধর্ষণ করতে যান। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখান। গায়ের ওড়না দিয়ে আমার হাত বেঁধে ফেলেন এবং তার হাতে থাকা ধারালো হেঁসো গলায় ধরে রাখেন। তিনি বলেন চিৎকার করলে মেরে ফেলবো।

গতকাল সকালে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে পাঁচকমলাপুর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এএসআই (এবি) রবিন্দ্রনাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

গ্রামবাসী জানায়, স্কুলশিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণের অপচেষ্টার ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। স্কুলছাত্রীর মামা অভিযোগ করে জানান, সুষ্ঠু বিচারের জন্য আমি আমার ভাগ্নীকে নিয়ে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু ক্ষমতাশীন দলের নেতা ও প্রভাবশালীদের চাপের মুখে মামলা করতে পারিনি। এলাকার সচেতন মহল অভিযুক্ত শিক্ষক রহমতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *