অর্থ উপার্জন করা সুখের, আর অন্যদের সুখী করতে পারা পরম সুখের

স্টাফ রিপোর্টার: বিখ্যাত বিজনেস সাময়িকী ফোর্বস-এর আয়োজনে ফোর হান্ড্রেড আজীবন সম্মাননা পদক পেয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। মানবদরদী উদ্যোক্তাদের নিয়ে গত বছর থেকে ফোর হান্ড্রেড সামিট আয়োজন করছে। প্রফেসর ইউনূস সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে এ স্বীকৃতি পেয়েছেন। উচ্ছ্বসিত ইউনূস পদক গ্রহণকালে তার বক্তব্যে বলেন, এই সম্মান পাওয়া আমার জন্য অনেক কষ্টের মধ্যেও অপ্রত্যাশিত অর্জন।

স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে উপস্থিত সুধীজনদের তিনি বলেন, অর্থ উপার্জন করা সুখকর ব্যাপার। তবে অন্যদের সুখী করতে পারা পরম সুখের বিষয়। উল্লেখ্য, এখানে উপস্থিত ছিলেন সারা বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিরা। যাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ ধারণার অগ্রদূত। তার গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র নারীদের ঋণ দিয়েছে যা এর আগে কেউ দেয়নি। এমন নারীরাই বর্তমানে ব্যাংকটির ৯৭ শতাংশ মালিকানার অধিকারী। ইউনূস ক্ষুদ্র ঋণের শুরুর কাহিনী বর্ণনা করে বলেন, এটা একটা পরীক্ষামূলক বিষয় ছিলো। এর মাধ্যমে পাঁচ ডলার করে তাদের ঋণ দেয়া হয়। ভিক্ষার পাশাপাশি এ অর্থ দিয়ে তারা চকলেট-বিস্কুটের মতো পণ্য বিক্রি করতে থাকে। ইউনূস ভেবেছিলেন ১০০০ জন এ কর্মসূচিতে অংশ নিবেন। কিন্তু এক লাখের বেশি এতে অংশ নেন। দু বছরের মধ্যে ২৫ হাজার ভিক্ষুক পুরোপুরি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেন। তারা বাড়ি বাড়ি ফেরি করার মাধ্যমে এমনভাবেই সফল হন। ইউনূস স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার সহকর্মীরা বলছিলেন, অন্যদের এগিয়ে আসা দেখতে আর কতো অপেক্ষা করবো আমরা? আমি বলেছি, তাদেরকে তাড়া করো না। তাড়া করে তাদের মূল ব্যবসা রাতারাতি বদলানো যাবে না। অন্যদের সাহায্য করুন যেন তারা নিজেদের সাহায্য করতে পারে-  উপস্থিত সুধীজনদের এমন সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সুতরাং খেয়াল করুন, আপনি মানুষকে একটু সুযোগ দিন, তারা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করবে। আজকে এখানে এটাই আমার বক্তব্য। তার এ বক্তব্যে হলভর্তি বিলিয়নররা দাঁড়িয়ে সম্মান দেখান দরিদ্র বাংলাদেশি কৃষকদের সন্তানের প্রতি এবং চিৎকার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *