১৩ ভোটারের সামনে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বী

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে ভোট ২০ আগস্ট
স্টাফ রিপোর্টার: ভোটার ১৩ জন। প্রার্থীর সংখ্যা ৭ জন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীর সংখ্যা এমনই হাস্যকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন? কারণ চুয়াডাঙ্গার মাখালডাঙ্গা, নেহালপুর ও বেগমপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জেলা পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডটি গেজেটভুক্ত হলেও নবগঠিত নেহালপুর ও মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নে এখনও পর্যন্ত নির্বাচনই হয়নি। ফলে এ দুটি ইউনিয়ন ভোটার শূন্য। শুধুমাত্র বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান ও সদস্য মোট ১৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
গত বছর ২৮ ডিসেম্বর দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আইনি জটিলতা থাকায় মাখালডাঙ্গা, নেহালপুর ও বেগমপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৩ নং ওয়ার্ডের পুরুষ সদস্য নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। আইনি জটিলতা কাটিয়ে পুনরায় তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গতকাল ২৪ জুলাই সোমবার ছিলো মনোনয়পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। শেষ দিনে ১৩ জন ভোটারের বিপরীতে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রার্থীদের মধ্যে আছেন শফিকুল ইসলাম, আব্বাস আলী, আখলাকুর রহমান আজাদ, জহুরুল ইসলাম, মহাবুল ইসলাম লাল্টু, মানিকুজ্জামান মানিক ও নুরুল ইসলাম। মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নে কোনো ভোটার না থাকলেও সে এলাকা থেকে প্রার্থী হয়েছেন ৫ জন। বাকি একজন নেহালপুর এবং একজনের বাড়ি বেগমপুর ইউনিয়নে। প্রশ্ন উঠেছে প্রতিজন প্রার্থীর একজন প্রস্তাবকারী এবং একজন সমর্থনকারীর দরকার। সে হিসেবে ভোটার সংখ্যা ১৩ জন, প্রার্থী সংখ্যা ৭ জন। তাহলে কে পায়নি একজন প্রস্তাবকারী অথবা সমর্থনকারী ? তবে ২৬ জুলাই যাচাই-বাছাই হলেই বোঝা যাবে কার ভাগ্যে জোটেনি একজন প্রস্তাব বা সমর্থনকারী। আগামী ২০ আগস্ট নির্বাচন। হজে যাবেন ইউপি সদস্য আবু বাক্কা। এ নিয়ে টানাপড়নের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান ভোটদান থেকে নিজেকে বিরত রাখার আভাস দিয়েছেন। ফলে বাকি ১১টা ভোটের মধ্যে ৬ জন ভোটারকে টার্গেট করে প্রার্থীরা সারাক্ষণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তবে স্থানীয় নির্বাচনে ভোটার না থাকা ইউনিয়নের লোকজন প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন কি-না তা নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে। এদিকে এলাকায় গুঞ্জণ রয়েছে একজন ভোটারের দর ২ লাখ টাকার ওপরে হাঁকানো হয়েছে। তাই খোশ মেজাজে আছেন ভোটাররা। অপরদিকে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে সঠিক সময়ে নির্বাচন হবে কি-না তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
আগামী ২০ আগস্ট গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হবে। গতকাল সোমবার ছিলো মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন। ২ আগস্ট প্রত্যাহারের শেষ দিন। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন মহাবুল হোসেন লাল্টু। তারপক্ষে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাফরপুরের মোহাম্মদ আলী মল্লিকের ছেলে শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি গতকাল মনোনয়ন পেশ করেন। এ সময় সাথে ছিলেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মামুন অর রশিদ আঙ্গুর, ইউনুস আলী ম-ল, কায়েম উদ্দীন, সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলামসহ অনেকে।

Leave a comment

Your email address will not be published.