১০ মাস আগে সর্প দংশনে ছেলের মৃত্যুর পর মায়ের মৃত্যু

আলমডাঙ্গার পাইপাড়ায় সাপে কাটা রোগী নিয়ে কবিরাজদের ঝাড়ফুঁক

 

অনিক সাইফুল: আলমডাঙ্গার পাইকপাড়া গ্রামের এক গৃহবধূকে নিজ বাড়ির রান্না ঘর থেকে বিষধর কুলিন সাপে দংশন করে। বাড়ির লোকজন দ্রুত নিয়ে যায় পার্শ্ববর্তী শিশিরমাঠ গ্রামের কবিরাজের কাছে। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলে ঝাড়ফুঁক। রোগীর লোকজন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দেয় কবিরাজ। মারা যাওয়া রোগী নিয়েও চলে আধাঘণ্টা ধরে ঝাড়ফুঁকের নাটক। গত ১০ মাস আগে একই কবিরাজের কাছে মৃত্য গৃহবধূর বড় ছেলেকে সাপে দংশনের পর নিয়ে যাওয়া হয়। তারও করুণ মৃত্যু হয়। ছেলের মৃত্যুর ১০ মাস পরে মায়ের মৃত্যুতে গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। কবিরাজের শাস্তির দাবি।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গার ঘোলদাড়ি পাইকপাড়া গ্রামের লাল্টু আলীর স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী জাফরিন বেগমকে (৪০) গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়ির রান্না ঘর থেকে বিষধর কুলিন সাপে দংশন করে। তাকে দ্রুত নেয়া হয় পার্শ্ববর্তী শিশিরমাঠ গ্রামে। শিশিরদাড়ি গ্রামের কথিত কবিরাজ আমির মণ্ডল ও তার সাগরেত শফি উদ্দিন, ছাকত আলী, সাহাজান আলী, মজিবার রহমান ও আমির মল্লিক শুরু করে ঝাড়ফুঁক আর কাটা ছেড়া। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে কবিরাজের ঝাড়ফুঁকের নাটক। রাত ৮টার দিকে গ্রাম্য ডাক্তার হাজির হয়ে রোগীকে মৃত্য ঘোষণা করে। তার পরেও চলতে থাকে ঝাড়ফুঁকের নাটক। অনেকই হাসপাতালে নেয়ার কথা বলায় কবিরাজ রেগে গিয়ে বিভিন্ন তাটবাহানা শুরু করে। হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দেয় বলে গ্রামসূত্রে জানা যায়। অপরদিকে গ্রামবাসী বিষধর সাপটি ধরে আগুনে পুড়িয়েছে।

গ্রামবাসী জানায়, জাফরিন বেগমের বড় ছেলে জাকির হোসেনকে একইভাবে সাপে দংশন করে। তাকেও নেয়া হয় কবিরাজের কাছে। মায়ের মতো করে একইভাবে তারও মৃত্যু হয়। সন্তানের মৃত্যুর ১০ মাস পর মায়ের মৃত্যুতে গ্রামবাসী সোকাহত।

গ্রামবাসী আরও জানায়, ২ বছর আগে গ্রামের আজগার আলীর মেয়ে খালেদাকে সাপে দংশন করলে তাকেও নেয়া হয় ওই ভণ্ড কবিরাজের কাছে। তাকেও একইভাবে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলে বলে অভিযোগ করা হয়। বর্তমানে ওই কবিরাজ সিন্ডিকেটের আমির মণ্ডল বৃদ্ধ হয়ে গেলেও শফি উদ্দিন কবিরাজির নামে অপচিকিৎসা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে বেড়াচ্ছে। রাত ১১টার দিকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জাফরিনের জানাজা শেষে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।

এলাকার সচেতন মহল জানায়, বর্তমানে দেশে উন্নত চিকিৎসা সেবা মানুষের দৌড় গোড়ায়। রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে অকালে প্রাণ দিতে হতো না। ভণ্ড কবিরাজের কারসাজি আর ভণ্ডামীর কারণে আজ তাজা একটি প্রাণ ঝরে গেলো। এই কবিরাজদের ভণ্ডামী না থামালে এভাবে আরও কতো প্রাণ অকালে ঝরবে কে জানে? এলাকাবাসী ভণ্ড কবিরাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

 

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *