স্বপ্নের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

মাথাভাঙ্গা মনিটর: ফুটবল বড়ই নিষ্ঠুর খেলা। আগের ম্যাচটিতেই যে হল্যান্ডটাইব্রেকার নামক ভাগ্য-পরীক্ষায় ‘বীরত্বে’র সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলোসেমিফাইনালে, কাল সেখানেই টাইব্রেকার তাদের নিঃস্ব-রিক্ত করে দিলো। ১২০মিনিটের খেলা গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনা কাল টাইব্রেকারে (৪-২) জিতে উঠে গেলো ফাইনালে। ১৩ জুলাই মারাকানায় জার্মানির সঙ্গে হবে তাদেরশিরোপা লড়াই। এ যেন ১৯৯০ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি। সেবার ম্যারাডোনারআর্জেন্টিনা টা​ইব্রেকারে জিতেই দাঁড়িয়েছিলো রোমের ফাইনালে। কাল মেসিরআর্জেন্টিনাও জিতলো টাইব্রেকারে। এবার সোনালি ট্রফিটা কাদের হাতে উঠবে?২৮বছর পর শিরোপা উঠবে আর্জেন্টিনার হাতে, নাকি ২৪ বছর পর আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে জার্মানি?

প্রথমে নির্ধারিত ৯০ মিনিট, তারপর অতিরিক্ত ৩০ মিনিট। সাওপাওলোর অ্যারেনা করিন্থিয়ানসে গোলের দেখা পেল না কোনো দলই। শুরু থেকেইএমন ট্যাকটিক্যাল লড়াই চললো যে, বোঝাই যাচ্ছিলো, ম্যাচটি গড়াতে যাচ্ছেটা​ইব্রেকারে। বিনা যুদ্ধে সূচ্যগ্র মেদিনী ছাড়তে রাজি ছিলো না কেউই নাআর্জেন্টিনা, না হল্যান্ড। আগের সন্ধ্যার ৮ গোলের সেমিফাইনালের পর দ্বিতীয়সেমিফাইনালটি দাঁড়ালো তাই পেনাল্টি শুট আউটের সামনে।ইতিহাস বলে, ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে আর্জেন্টিনাই পায়ভাগ্যের ছোঁয়া। এর আগে বিশ্বকাপে চারবারের তিনবার জিতেছে তারাটাইব্রেকারে, হল্যান্ড দুইবারে একবার। এবারও দুর্ভাগা দলটির নাম হল্যান্ড।টাইব্রেকারে সব সময়ই সুযোগ থাকে গোলকিপারের নায়ক হয়ে ওঠার। কাল যেমননায়কের আসনে বসলেন আর্জেন্টাইন গোলকিপার সার্জিও রোমেরো। প্রথমেইহল্যান্ডের রন ভ্লারের কিকটি রুখে দেন তিনি। এরপর রুখে দেন ওয়েসলিস্নাইডারের কিক। আর্জেন্টিনার পক্ষে মেসি প্রথম কিক থেকে গোল করার পর একেএকে গোল করেন এজেকিয়েল গ্যারাই, সার্জিও আগুয়েরো ও ম্যাক্সি রদ্রিগেজ।রদ্রিগেজের কিকটি ডাচ গোলকিপার ইয়াসপার সিলেসেনের হাতে লেগেও জালে আশ্রয়নিতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়ে মেসির দল। গ্যালারিতেও তখন অজস্রআকাশি-সাদা পতাকার ওড়াউড়ি। এ যে বড় আনন্দের দিন আর্জেন্টাইনদের কাছে। ২৪বছর পর তারা ফাইনালে!

লড়াইটা ছিলো আক্রমণাত্মক দুটি দলের দুই আক্রমণত্রয়ীর।লড়াইটা ছিলো ট্যাকটিকসের। এই দুটো লড়াইয়েই থাকল আশ্চর্য রকমের সমতা। গোলেরসুযোগ তৈরি করা দূরে থাক, অ্যাটাকিং থার্ডে ঢুকতে পারেনি কোনো দলই।পাঁচজন ডিফেন্ডারে রক্ষণকে দুর্ভেদ্য করে রেখেছিলেন লুই ফন গাল। তবুকয়েকবার হানা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। হলে কী হবে, মেসি ১৮ গজের কাছে এলেইহল্যান্ডের তিন ডিফেন্ডার এগিয়ে এসে তাঁকে ব্লক করেছেন। তুলনায় হল্যান্ডেরপ্রধান অস্ত্র আরিয়েন রোবেন ছিলেন যথেষ্টই শান্ত। তাঁকে প্রায় বোতলবন্দীকরে রেখেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখে তাঁরই একসময়ের সতীর্থ মার্টিন ডেমিচেলিস।

নব্বই মিনিটে অচলায়তন ভাঙতে পারেনি তাই কোনো দলই। তবেগোল করার মতো প্রথম সুযোগটা এসেছিল আর্জেন্টিনার কাছে। ১৪ মিনিটে বক্সেরবাইরে থেকে দুর্দান্ত একটা ফ্রি-কিক নিয়েছিলেন মেসি। গড়ানো কিকটা ধরতেভালোই একটা পরীক্ষা হয়ে যায় ডাচ গোলকিপার সিলেসেনের। এরপর গঞ্জালোহিগুয়েইনের বদলি হিসেবে নেমে সার্জিও আগুয়েরো প্রায় গোল করার কাছাকাছিচলে গিয়েছিলেন। ১:১ অবস্থায় শট নিতে যাবেন, এমন সময় কোত্থেকে উড়ে এসেস্লাইড করে বল বের করে দেন পুরো ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলা রন ভ্লার। তবেসহজতম সুযোগটি অবশ্যই হল্যান্ডের। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে আরিয়েনরোবেনকে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত করেছেন হাভিয়ের মাচেরানো। বার্সেলোনাডিফেন্ডার শেষ মুহূর্তে স্লাইড করে আর্জেন্টিনার পতন ঠেকিয়েছেন কর্নারেরবিনিময়ে।

 

Leave a comment

Your email address will not be published.