স্থানীয় সরকারপল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী

 

উপজেলায় পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলুন

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রতিটি উপজেলায়পরিকল্পিত নগরায়ন গড়তে স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের মহাপরিকল্পনাপ্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষকে নগরের সুবিধা দিতেতার সরকার কাজ করছে। আর এজন্য প্রত্যেক উপজেলা নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান করতেহবে। যেখানে গ্রামীণ পরিবেশ, চাষের জমি, আলাদা শিল্প এলাকা, স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ সবকিছু থাকবে পরিকল্পিতভাবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়েস্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও মন্ত্রণালয়েরকর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতা বিকেন্দীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে অধিকতর শক্তিশালী করতে হবে।আর স্থানীয় সরকার যতো শক্তিশালী হবে, জনগণও ততো বেশি সেবা পাবে। এ প্রসঙ্গেতিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে নজর না দেয়ার জন্যপঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক শাসকদের সমালোচনা করেন।

অপরিকল্পিতনগরায়নের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সব জায়গায় দ্রুত নগরায়নহচ্ছে। যত্রতত্র নগরায়নের ফলে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ বসবাসেরঅনুপযোগী হচ্ছে। দেশের স্বার্থেই চাষের জমি রক্ষা করতে হবে।পরিকল্পিতনগরায়ন ও দেশব্যাপি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেতিনি বলেন, সবাই ঢাকা থাকতে চায়। যারা গ্রামে থাকে তারা কেন নগরের সুবিধাপাবে না?ঢাকা শহরে যারা বসবাস করবে তারা প্লট পাবে, ফ্ল্যাট পাবে, আরআমাদের গ্রামের মানুষ পাবে না, তারা উন্নত জীবন পাবে না এটা কেমন কথা?এবৈষম্য তো হতে পারে না। আমরা চাই গ্রামের মানুষও নগরের সুবিধা পাবে। তারাওফ্ল্যাট বাড়িতে থাকবে। আবার গ্রামীণ পরিবেশের মতো তাদের গরু পালারব্যবস্থাও থাকবে। তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুত দিচ্ছি, উন্নতমানের জীবনযাপনকরাতে চাচ্ছি। আর সেজন্য পরিকল্পিত নগরায়ন হলে এই সেবাগুলো দ্রুত দিতেপারবো।

আগামীতে সমবায়ের নামে কেউ যেন প্রতারণা করতে না পারে তানিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণেরউন্নয়ন ও জাতীয় উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতাবাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে।স্থানীয় পর্যায়ে আয় বাড়াতে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের মনোযোগী হওয়ারআহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সব কেন্দ্র থেকে করে দেবে এটা ঠিক নয়।আপনারাও স্থানীয় পর্যায়ে আয় বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে উন্নয়নের কাজকরুন। স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে পর্যায়ক্রমে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ওইউনিয়ন পরিষদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েপ্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর স্তর পুনর্বিন্যাস করেপর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিকনিরাপত্তা এবং অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা এসব সংস্থায় ন্যস্ত করা হবে।

সমবায়খাতকে একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করে শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালেরসর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রাম সমবায়নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। গ্রামে-গঞ্জে মেহনতী মানুষের যৌথ মালিকানায় সমপদসৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তারের প্রয়াস নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় উদ্যোগী যুব সমাজ সমবায়ের মাধ্যমে তাদেরআর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সফলতা লাভ করছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। খাদ্য উত্পাদনবাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গেতরি-তরকারি, গম, ভুট্টা এগুলোতে আমরা গুরুত্ব দেব।

প্রধানমন্ত্রীবলেন, তার সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয়বর্ধনমূলক কর্মসংস্থান, কৃষিউত্পাদন বৃদ্ধি, সমবায়ভিত্তিক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনের জন্য সহজশর্তে মূলধন জোগান দিচ্ছ। ক্ষুদ্র ঋণসহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবংঅবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্গম এলাকা, চরাঞ্চল ওদারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রীবলেন, তার সরকার দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এজন্যসরকার বিশ্বব্যাপি প্রশংসিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি দরিদ্র মানুষেরআত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বৃদ্ধিমূলক পেশা নির্বাচন ও বিকল্প আয়ের উত্সসৃষ্টির জন্য একটি বাড়ি একটি খামারপ্রকল্প বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেবলেন, এ প্রকল্পের আওতায় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসরত ১ কোটি পরিবারেরপ্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষকে পর্যায়ক্রমে দারিদ্র্যমুক্ত করার উদ্যোগনেয়া হয়েছে।

সেতু, কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারেরপ্রকৌশলীদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আমাদেরমেয়াদ ২০১৯ সাল পর্যন্ত। এর মধ্যে আমাদের কাজগুলো শেষ করতে হবে।অনুষ্ঠানেস্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দআশরাফুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীমসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান শিকদার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সচিব এম একাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ.কে.এম শামীম চৌধুরীসহমন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published.