স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যাকরে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ

 

 

বেগমপুর প্রতিনিধি: সংসারের সুখ আর সন্তানদের মুখের পানে চেয়ে দাম্পত্ত জীবনের দীর্ঘ ৩০ বছর কেটেছে যন্ত্রণা আর গঞ্জনার তিব্র কষাঘাতে। অবশেষে জীবন দিয়ে এ যন্ত্রণার হলো অবসান। অভিযোগ উঠেছে, পাষণ্ড স্বামী নওশাদ আলী তার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুনকে হত্যাকরে আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আম্বিয়ার পিতা পক্ষ এ অভিযোগ তুলে মামলা করেছে। অভিযুক্ত খুনি নওশাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের বড়শলুয়া ছাপড়াপাড়ার মুনছুর আলীর ছেলে নওশাদ আলী (৫০) ত্রিশ বছর আগে সংসার জীবন গড়ে তোলে একই গ্রামের সেন্টারপাড়ার দুখি মণ্ডলের মেয়ে দুসন্তানের জননী আম্বিয়া খাতুনের সাথে। আম্বিয়ার পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকে নওশাদ স্ত্রী আম্বিয়ার ওপর চালাতে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেরে ৩ বার আত্মহত্যার অপচেষ্টাও চালান আম্বিয়া। সংসার এবং দুটি সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে সবকিছু মুখবুঝে সহ্য করে নেন আম্বিয়া। অবশেষে গতপরশু রোববার রাতে নওশাদ স্ত্রী আম্বিয়া পিটিয়ে এবং বালিশ চাপা দিয়ে হত্যাকরে মুখে তামাকের বিষ ঢেলে দেয়। ভোরের দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা নওশাদের বাড়িতে ঢুকার চেষ্টা করলে সে হাতে হেঁসো নিয়ে প্রতিবেশীদের শাসাতে থকে। একপর্যায়ে আম্বিয়ার বাড়ির লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে গতকাল সকাল ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে নওশাদ তার স্ত্রী স্ট্রোক করে মরেছে বলে প্রচার করতে থাকে। খবর পেয়ে তিতুদহ ক্যাম্পপুলিশের ইনচার্জ এসআই ওয়ালিউর রহমান খুনি নওশাদকে গ্রেফতার করেন এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালমর্গে প্রেরণ করেন। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রাতেই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রতিবেশীরা অভিযোগ করে বলেন, নওশাদের মতো নিষ্ঠুর মানুষ চোখে পড়ে না। স্ত্রী হত্যা করেও তার এতোটুকু অনুশোচনা নেই। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। এবিষয়ে এসআই ওয়ালিউর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃত নওশাদকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এঘটনায় আম্বিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যামামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃত নওশাদ কোনো প্রকার অনুশোচনা না করেই বলেন, সে স্ট্রোক করে মারাগেছে। শরীরে কালচে কালচে মারের দাগ হলো কি করে এমন প্রশ্নের জবাব মেলেনি তার কাছে। নওশাদের বড় ছেলে আবদিন হোসেন বলেন, আমার পিতা দুবছর আগে আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে তাই এব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারবো না। একশ বছরের বৃদ্ধ আফসার আলী সকলের সামনেই বলেন, অথ্যাচারিত নওশাদের ফাঁসি ওহয়া উচিত। সে মানুষ না। এমন অত্যাচার চোখে দেকা যায় না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *