সৈকতে প্রধানমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পাথুরে সৈকতখ্যাত ইনানী সমুদ্র উপকূলে গতকাল শনিবার দুপুরে প্রায় ৮০ কিলোমিটার লম্বা ‘কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ’ সড়কের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘বেওয়াচ রিসোর্ট’-সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণও দেন। ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী নেমে পড়েন সমুদ্রসৈকতে। সমুদ্রতীরে যাবেন আর জলে পা ভেজাবেন না, তা কি হয়? হয় না বলেই প্রধানমন্ত্রী নেমে পড়েন ঝিনুকফোটা সাগরবেলায়। তিনি অনেকটা সময় খালি পায়ে হাঁটেন। মন ভেজান সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে। প্রায় ১৫ মিনিট তিনি সমুদ্রজলে পা ভিজিয়ে খুঁজে বেড়ান নিজের শৈশবকাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই সমুদ্র দেখার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জীবনে প্রথম এই সমুদ্রসৈকত দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো বাবা-মায়ের সাথে। বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমুদ্র অনেক প্রিয় ছিলো। সমুদ্র আমাদেরও টানতো।’ তিনি বলেন, ১৯৬২ ও ১৯৬৪ সালে বাবা-মায়ের সাথে তিনি এখানে এসেছেন বলে জানান। এই সৈকতের সাথে বঙ্গবন্ধুর অনেক স্মৃতি, তাই এটাকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং উড়োজাহাজ মেঘদূতে চড়ে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামেন। এরপর সেখানে তিনি বোয়িং বিমানের বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের উদ্বোধন করেন। বেলা ১১টার দিকে তিনি সেখান থেকে সড়কপথে যান ৩৫ কিলোমিটার দূরের ইনানী সৈকতে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী মেরিন ড্রাইভ সড়কের অন্তত ৪৫ কিলোমিটার ঘুরে দেখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর চৌকস দলের সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণীরা নৃত্যের মাধ্যমে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীকে। এরপর তিনি সেখানে ফলক উন্মোচন করে মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মেরিন ড্রাইভ সড়কের রেজুখালী সেতু নির্মাণ এবং সৈকতের কলাতলী থেকে দুই কিলোমিটার ওয়ার্ক ওয়ে নির্মাণের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই সড়ক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কেবল পর্যটনের বিকাশ নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন মানের অর্থ-সামাজিক পরিবর্তনও ঘটবে। সড়কটি নির্মাণের জন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তাল সমুদ্র আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেই সড়ক নির্মাণ করতে হয়েছে। এই সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে পাহাড় ধসে ৬ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তিনি নিহত সেনা সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ‘কক্সবাজার-চট্টগ্রাম’ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।

 

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *