সিনহার শপথ ভঙের ইঙ্গিত খায়রুল হকের

স্টাফ রিপোর্টার: আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেছেন, সংসদকে অকার্যকর বলে প্রধান বিচারপতি সবচেয়ে আপত্তিকর কথা বলেছেন। সংসদকে অকার্যকর বলা একজন জজ বা জুডিশিয়ারির ভাষা হতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের ভাষা হতে পারে না। জজ সাহেবরা একটা শপথ নেন। শপথে বলা হয়, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে আমি কিছু করবো না, কিন্তু রায়ের পর্যবেক্ষণে যা বলা হয়েছে তাতে অনুরাগ না হোক, বিরাগ আছে কি না এবং তা থাকলে তার ফলাফল আপনারা জানেন।

প্রসঙ্গত, ইতোপূর্বে হাইকোর্ট সংসদ সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছিলো  সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বাতিল করে দেয়া রায়ে সেটি অনাঙ্ক্ষিত ও অনুচিত বলে মন্তব্য করা হয়েছে। আলোচ্য রায়ে বলা হয়- আমরা কেউ কারো এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারি না। বরং সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া পর্যবেক্ষণে বলা হয়- আমাদের দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র এখনো পরিপক্বতা অর্জন করতে পারেনি।

বিচারপতি খায়রুল হক বলেন, তিনি ওনার এই বক্তব্যগুলো বিরাগের বশবর্তী হয়ে যদি বলে থাকেন তাহলে সে রায়ের কি অবস্থা হবে- তা আপনারাই বিবেচনা করবেন। তিনি বলেন, কোনো রায় অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হতে পারবে না। আমরা জজ সাহেবরা শপথ গ্রহণ করি কোনো অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো কিছু করবো না; কিন্তু রায়ে যদি অনুরাগ বা বিরাগের প্রভাব বিস্তার করে তাহলে রায়ের কি অবস্থা দাঁড়ায়? এক্ষেত্রে আমার বলার কিছু নাই। ‘জাতীয় শোক দিবস, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিচারপতি খায়রুল হক এসব কথা বলেন।

বিচারপতি খায়রুল হক বলেন, সংসদ সদস্যরা ইমম্যাচিউরড, সংসদ অকার্যকর, সংসদ আমাদের নির্দেশ মানেনি এ কথাগুলো যদি অনুরাগ, বিরাগের মধ্যে চলে আসে তাহলে সে জজ সাহেবের পজিশনটা কি হবে, তার শপথ থাকছে কি না সেটাও আপনাদের বিচার করা উচিত বলে আমি মনে করি। আমি পয়েন্ট আউট করে দিলাম। কখনো কোনো বিচারপতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কিছু লিখতে পারবেন না। যদি লেখেন তাহলে তার শপথ ভেঙে যায়। আর শপথ ভঙ্গ হলে কি হতে পারে তা আপনারাই ভালো জানেন?

গতকাল শনিবার নগরীর সিরডাপ মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ওয়ালিউর রহমান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক উপস্থিত ছিলেন না। তবে আরেক বিশেষ অতিথি খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি বলেন, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা আপিল বিভাগের বিচারক থাকাকালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপিল বেঞ্চের একজন সদস্য ছিলেন। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ও আমাদের পক্ষে দিয়েছেন। এসব অনেক কিছুতেই দেখছি যে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের পক্ষের মানুষ। কিন্তু ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি পুরো ইউটার্ন করেছেন, এতে আমার ভয় হয়।

 

Leave a comment

Your email address will not be published.