সারাদেশে যাচ্ছে ঝিনাইদহের কাঁঠাল

 

 

ঝিনাইদহ অফিস: আকারে বড়, পুষ্টিগুণও বেশি জাতীয় ফল কাঁঠালে। কৃষক পরিবারে কাঁঠালের কোনো অংশই অপ্রয়োজনীয় নয়। পাকা কাঁঠালের কোশ সুস্বাদু খাবার,বাকল গোবাদি পশুর খাদ্য, বীজ ও কাঁচা কাঁঠাল তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। তাই কাঁঠালের চাহিদা সব পরিবারেই রয়েছে। আর ঝিনাইদহের মাটি এ ফল উৎপাদনের উপযোগী হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। যা সারাদেশের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখছে।

কাঁঠালচাষিরা জানান, গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি কৃষক পরিবারে বসতবাড়ির আশপাশে কম বেশি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। একটি বড় গাছ থেকে শতাধিক কাঁঠাল পাওয়া যায়। কৃষকেরা মরসুমে তারা নিজেদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকিগুলো বিক্রির মাধ্যমে পয়সা আয় করে থাকেন। কালীগঞ্জ উপজেলার কামালহাট গ্রামের কৃষক আব্দুল হক জানান, তার নিজের শতাধিক কাঁঠাল গাছ রয়েছে। প্রতিবছর তিনি ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার কাঁঠাল বিক্রি করে থাকেন। তিনি জানান, প্রতি মরসুমে এ এলাকার উৎপাদিত কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকাররা কিনে নিয়ে যান। তিনি আরো জানান, পাইকারি বাজারের চেয়ে স্থানীয় বাজারে খুচরা বিক্রি করতে পারলে দ্বিগুন পয়সা পাওয়া যায়। কিন্তু কাঁঠাল পাকা শুরু করলে ঘরে অথবা গাছে রেখে দেয়ারও সুযোগ নেই। ফলে পাইকারি ব্যবসায়ীরা যে দামই বলুক না কেন চাষিদের বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকে না। এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে লাভ করে পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে কালীগঞ্জের কাঁঠাল বাজারে গেলে কোটচাঁদপুর উপজেলার সাবদালপুর থেকে আসা কাঁঠাল বিক্রেতা লিয়াকত শেখ জানান, নিজের গাছের ১৪৫টি কাঁঠাল বাজারে বিক্রি করতে এনেছেন। মাঝারি গোছের কাঁঠাল প্রতিটি ৪২ টাকায় বিক্রি করেছেন।

পটুয়াখালী থেকে মহেশপুরে কাঁঠাল কিনতে আসা ব্যাপারী আজিম উদ্দীন জানান, আজ থেকে ২০ বছর আগে থেকে প্রতি বছর কাঁঠালের মরসুমে এ অঞ্চল থেকে কাঁঠাল কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, বাউফল, শরিয়তপুর, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করেন থাকেন। এভাবে তারা ব্যবসা করেন বছরে কমপক্ষে ৩ মাস।কালীগঞ্জের কাঁঠাল ব্যবসায়ীরা জানান, ১৭ বছর ধরে কাঁঠালের মরসুমে গ্রাম গ্রাম ঘুরে কাঁঠাল কিনে শুক্র ও সোমবার কালীগঞ্জের কাঁঠালের বাজারে বাইরে থেকে আসা পাইকারদের নিকট বিক্রি করে থাকেন। তার মতো অনেকে প্রতি মরসুমে এভাবে কাঁঠালের ব্যবসা করে থাকেন।কালীগঞ্জ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, এ উপজেলাতে কতোটুকু জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে তার কোনো হিসাব তাদের কাছে নেই। কেননা গ্রামাঞ্চলের বন বাদাড়ে বসতবাড়ির আশপাশে যেখানে সেখানে কাঁঠাল গাছ দেখা যায়। তবে কেউ কেউ পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এখন কাঁঠাল চাষ শুরু করেছেন। তিনি আরো জানান, কাঁঠাল গাছ তেমন একটা পানি সহ্য করতে পারে না। এ অঞ্চলের স্থলভাগ অপেক্ষাকৃত উঁচু হওয়ায় স্থায়ী কোনো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় না। যে কারণে এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদন হয়ে থাকে।

Leave a comment

Your email address will not be published.