সম্ভ্রম ও প্রাণের ভয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে অনেকেই চলে যাচ্ছে অন্যত্র 

চুয়াডাঙ্গার নেহালপুর গড়াইটুপি ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে কাটেনি আতঙ্ক

 

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত নেহালপুর ও গড়াইটুপি ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে এখনও কাটেনি আতঙ্ক। একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলেও নেই কোনো প্রতিকার। সম্ভ্রম ও জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে অন্যত্র। দিনের পর দিন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বোমাবাজি ও সম্ভ্রমহানিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে পারলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে অপরাধ জগতের মূলহোতারা।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত নেহালপুর ও গড়াইটুপি ইউনিয়ন এলকার বিভিন্ন গ্রামে এবং সড়কে বেশ কিছুদিন ধরে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং বোমাবিস্ফোরণের মতো বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রতিরোধে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এলাকাবাসীর সহায়তায় গ্রামে গ্রামে গঠন করেছেন রাত্রীকালীন গ্রামপাহারা দল। একদিকে চলছে গ্রামপাহারা অপরদিকে চলছে চুরি, ডাকতি, ছিনতাই ও বোমাবিস্ফোরণের মতো ঘটনা। এসব ঘটনার পাশাপাশি ঘটেছে নারীদের সম্ভ্রমহানির মতো ঘটনা। লোকলজ্জার ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও ডাকাতির কবলে পড়া পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলতে গিয়ে দেখা গেছে তাদের মুখে রয়েছে অন্যরকম ছাপ। প্রতিরাতেই ইউনিয়নের কোথাও না কোথাও দুষ্কৃতী লোকের আগমনের খবরে গ্রামবাসী ও পুলিশ মাঠে মাঠে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বোমাবিস্ফোরণের ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে পারলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে অপরাধজগতের মূলহোতারা। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে এলাকায় বিরাজ করছে অজানা আতঙ্ক। আর ডাকাতির কবলে পড়া পরিবারগুলোর অনেক সদস্য রাতে ঘুমাচ্ছে না বাড়িতে। আবার সম্ভ্রম ও প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্রে আশ্রয় নিয়েছে। ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যেত্রে চলে যাওয়া ডিহি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে তোফাজ্জেল হোসেন তুফান ও সবুর আলী বললেন, জায়গা সংকটরে কারণে আট বছর আগে পিতার বাড়ি থেকে এখানে এসে বসবাস শুরু করি। গত সোমবার রাতে ডাকাতেরা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে যে তাণ্ডব চালিয়েছে তা বর্ণনা করার মতো না। ডাকাতদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে আমরা আসামি তারা বাড়ির মালিক। বড়িতে ঢুকেই বলছে আমাদের স্যার ঘরে ঢুকবে দরজা খোলেন। দরজা খুলতেই যা ঘটার তাই ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই বাড়ি ঘর ছেড়ে গ্রামের মধ্যে পিতার ভিটায় রাতযাপন করছিলাম। গতকাল রোববার সকাল থেকে ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে পুনরায় পিতার ভিটায় আশ্রয় নিয়েছি। কোন ভরসায় সেখানে থাকবো। প্রতিরাতেই তো চেঁচামেচি আর চিৎকারের শব্দ শুনতে পরছি। তাই সাজানো সংসার ভেঙে জীবন বাঁচাতে চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। কারণ দুষ্কৃতীরা শাসিয়ে গেছে। জানাজানি করলে প্রাণে মেরে ফেলবে। জীবনের মায়া তো সবারই আছে।

উল্লেখ্য, গত দু মাসে নেহালপুর ও গড়াইটুপি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় চুরি ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২৫টি, ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ২০টি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ৮টি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ৭টি এবং সম্ভ্রমহানির মতো ঘটনা ঘটেছে ২টি। গড়াইটুপি এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে তিতুদহ ক্যাম্প পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করতে পাররেও নেহালপুর ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনারও কোনো কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এ ব্যাপারে হিজলগাড়ি ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই আমিরুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার কারণে কেউ যদি অন্যত্রে চলে যায় সেখানে আমাদের কি বা করার আছে।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *