শার্শা-বেনাপোলে এইডসে আক্রান্ত ২১ জন

 

স্টাফ রিপোর্টার: যশোরের শার্শা-বেনাপোল সীমান্তে এইচআইভি এইডস আক্রান্ত ২১ নারী-পুরুষকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে চারজন। এর ফলে শার্শা-বেনাপোল এলাকায় এইচআইভি এইডসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। বেনাপোলের এসএমসি মধুমিতা নামের একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থায় রক্ত পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা করে এইচআইভি পজেটিভ রোগী পাওয়া যায়।

এসব রোগীরা ভারত থেকে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রবেশ করছে। তাদের দেয়া রক্ত ও যৌন মিলনে অন্যদের শরীরে জীবানু ছড়াচ্ছে। আজ রোববার বিশ্ব এইডস দিবসে সকালে বেনাপোল চেকপোস্টের নোম্যান্সল্যান্ডে বসবে ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিদের মিলন মেলা। বেনাপোলের এসএমসি মধুমিতা সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা শারমীন নাহার রুমা জানান, শার্শা-বেনাপোল সীমান্তে ২১ জন নারী পুরুষকে এইচআইভি এইডস আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জন নারী ও পাঁচজন পুরুষ। এইচআইভি এইডসের ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।

বেনাপোলে এইডসের ওপর কাজ করা এনজিওসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের মধ্যে যশোরের শার্শা-বেনাপোল সীমান্ত এলাকার সবচেয়ে বেশি নারী জীবিকার জন্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যাতায়াত করছে। সংসারে অভাব অনটনের সুযোগে স্থানীয় দালাররা এসব নারীদের ভালো কাজ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে যায়। পরে তাদের অনেককে জোর করে পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। এসব নারী সীমান্ত পথে বৈধভাবে অথবা পুলিশের হাতে আটকের পর বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাধ্যমে দেশে ফিরে আসে। দেশে ফেরার পর এসব নারীদের শরীরে এইচআইভি এইডস আছে কি-না তা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

ভারতের সাথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সিংহভাগই সম্পন্ন হয় বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৩শ বাংলাদেশি ট্রাকচালক ও ৪শ ভারতীয় ট্রাকচালক দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেনাপোল বন্দরে আসছেন আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনের কাজে। বিভিন্ন সময় পণ্য খালাস প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে দিনের পর দিন তাদের বেনাপোলে অবস্থান করতে হয়।

এ সময় রাতে ট্রাকচালক ও হেলপাররা বেনাপোল বন্দর এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বন্দর ট্রাক টার্মিনালে রাত যাপন করছে। এক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ যৌন কর্মীদের সাথে অনেকটা অবাধ বিচরণের সুযোগ পায় তারা। এর মাধ্যমে এইডস ছড়ানোর ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিদিন শ শ পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত করছে। বেনাপোল চেকপোস্টে এসব ট্রাকচালক ও পাসপোর্ট যাত্রীদের রক্ত পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এর ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এইচআইভি এইডস রোগী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অভিজ্ঞমহল।