রায়সা বিলের ৯৭ একর জমির বন্দোবস্ত বাতিল

চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলা ভূমি অফিসের সাফল্য

 

বখতিয়ার হোসেন বকুল: দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামসহ মোট ৪৬ জনের নামে অবৈধভাবে নেয়া কুড়ুলগাছি রায়সার বিলের ৯৭ একর জমির বন্দোবস্ত বাতিল ঘোষণা করে উপজেলা ভূমি অফিস দেশসেরা সাফল্য অর্জন করেছে। রায়সা বিলের সায়রাতভূক্ত জলমহালটি বর্তমানে ইজারা চালু থাকা, বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব আদায়সহ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যেই ওই জলমহালের অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদুর রহমান।

উপজেলা ভূমি অফিসসূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছির ঐতিহ্যবাহী রায়সা বিলের ২০১৩ সালে নথিপত্র যাচাই-বাছাইকালে দেখা যায়, প্রায় বছর বিশেক আগে এলাকার ভূমিদস্যুরা অফিসের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তার যোগসাজশের মাধ্যমে ৯৭ একর সায়রাতভুক্ত বিল শ্রেণির জমির কোনো শ্রেণি পরিবর্তন না করেই অবৈধভাবে বন্দোবস্ত নেয়। জলমহালটির ইজারা চালু থাকা, বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব আদায়সহ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণের লক্ষ্যেই জলমহালের ওই অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিলের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ হোসেন। তিনি উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার গোলাম মোস্তফা, বড়বাবু জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, নাজির সোহেল রানা, পিয়ন আব্দুল করিমসহ অফিসের অন্যান্য স্টাফদের সহায়তায় রায়সা বিলের সমস্ত নথিপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করেন। যাচাই-বাছাই শেষে দামুড়হুদা বাজারপাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের নামে ১ একর ৫০শতক, জহুরুলের পিতার নামে ১ একর ৫০ শতক, একই গ্রামের মৃত ইছাহকের ছেলে আবু হানিফার নামে ১ একর ৫০ শতক, আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুর রশিদের নামে ১ একর ৫০ শতক, রশিদের পিতার নামে ১ একর ৫০ শতক, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের শহিদুলের স্ত্রী মমতাজ খাতুনের নামে ৩৮ শতক, জেলা শহরের মুক্তিপাড়ার মৃত তৈয়ব আলীর মেয়ে রেক্সোনার নামে ৩ একর ১৩ শতক, জীবননগর উপজেলার হাসাদাহের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে আবুল কাশেমের নামে ৩ একর ১৫ শতক, দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামের আবু কাইজারের ছেলে আবু ইয়াহিয়ার নামে ৯৪ শতক, ইয়াহিয়ার ভাই আবু হুরাইরার নামে ১ একর ৪৪ শতক, একই গ্রামের দাউদ আলীর ছেলে ইঞ্জিল হোসেনের নামে ৬ একর ৭১ শতক, উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের ছুন্নত আলীর ছেলে ছুরাত আলীর নামে ১ একর ৫০ শতক, একই গ্রামের রূপচাঁদের ছেলে জান মোহাম্মদের নামে ৪৮ শতক, মোস্তবারীর ছেলে আকবারের নামে ১ একর ৩২ শতক, মান্দারের ছেলে হযরতের নামে ১ একর ২৭ শতক, হযরতের ভাই আব্দুর রাজ্জাকের নামে ১ একর ৩০ শতক, বাদশার ছেলে রহিম বক্সের নামে ৮৯ শতক, কেসমতের ছেলে মকসেদের নামের ১ একর ৫০ শতক, পানছদ্দির ছেলে আইজেলের নামে ১ একর ৫০ শতক, ফকির মোহাম্মদের ছেলে ওয়াজেলের নামে ১ একর ৫০ শতক, অমূল্য মণ্ডলের ছেলে আলী হোসেনের নামে ১ একর, শাহাজদ্দিনের ছেলে ইউনুচের নামে ১ একর ৫০ শতক, পাঁচকড়ির ছেলে হামিদের নামে ১ একর ৫০ শতক, গুল মোহাম্মদের ছেলে ওহাবের নামে ১ একর ৫ শতক, ধান্যঘরা গ্রামের বানু মণ্ডলের ছেলে আবু তাহেরের নামে ১ একর ৮৬ শতক, তাহেরের ভাই ইছাহকের নামে ১ একর ৪৮ শতক, একই গ্রামের বাহারের ছেলে বাদশার নামে ১ একর ৫০ শতক, ইদ্রিসের ছেলে ফজলুর নামে ১ একর, ইদুর ছেলে আত্তাপের নামে ১ একর ২৩ শতক, শাহাজদ্দির ছেলে নজরুলের নামে ১ একর ৪২ শতক, তার ভাই বজলুর রশিদের নামে ১ একর ৫০ শতক, সদর আলীর ছেলে রফিকের নামে ১ একর ৫০ শতক, নূর মোহাম্মদের ছেলে মজিবারের নামে ১ একর ৫০ শতক, চণ্ডিপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে শরিফের নামে ১ একর ৪০ শতক, একই গ্রামের খোদা বক্সের ছেলে এরশাদের নামে ১ একর ২৮ শতক, ফরজানের ছেলে জালালের নামে ১ একর ১৭ শতক, নজিরের ছেলে ছানোয়ারের নামে ১ একর ৪০ শতক, পীরু সর্দারের ছেলে লোকমানের নামে ৪০ শতক, প্রতাবপুর  গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে আলী কদরের নামে ৯৪ শতক, একই গ্রামের আলেকের ছেলে মহাতাবের নামে ১ একর ৫০ শতক, মহাতাবের ছেলে খাজার নামে ১ একর ৫০ শতক, কানাই মণ্ডলের ছেলে আয়ুবের নামে ১ একর ৫০ শতক, সুবুলপুর গ্রামের রমজানের ছেলে মজিবারের নামে ৬৬ শতক, কার্পাসডাঙ্গার গফুরের ছেলে ওহাবের নামে ১ একর ৫০ শতক, একই গ্রামের আমোদ আলীর ছেলে জয়নালের নামে ১ একর ৫০ শতক ও তার ভাই আনছারের নামে ১ একর ৫০ শতকসহ মোট ৪৬ জনের নামে ৯৭ একর জমির অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য অক্টোবর মাসের উপজেলা ভূমি বরাদ্দ সভায় উপস্থাপন করেন। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেন। জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসাইন বিষয়টির বিস্তারিত বিবরণসহ নথিসৃজন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর সুপারিশ করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে সম্প্রতি ওই ৪৬ জনের নামে নেয়া অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিল ঘোষণা করে।

এ বিষয়ে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ হোসেন বলেন, আমি দামুড়হুদায় যোগদান করার পর এলাকায় সরকারি জমির অবৈধ দখলমুক্ত করণের উদ্যোগ গ্রহণ করি। সে মোতাবেক রায়সার বিল ছাড়াও উপজেলার বটতলি বিলের ৫১ একর এবং পাকুড়িয়ার বিলের ২৪ একর জমির অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদুর রহমান বলেন, দামুড়হুদা উপজেলায় যে পরিমাণ সরকারি খাসজমি অবৈধদখলমুক্ত করা হয়েছে তা বাংলাদেশের আর কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এটাকে দেশসেরা সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করার মতো ঘটনা। আর এর সবটুকু কৃতিত্ব তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফরিদ হোসেনের।

Leave a comment

Your email address will not be published.