রাতে দেখা চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল

 

উজ্জ্বল মাসুদ/রহমান রনজু: মোটরবাইকযোগে গন্তব্যে পৌঁছে ব্রেক করতেই এগিয়ে এলেন এক যুবক। ভাবটা পূর্বপরিচিত। ভালো আছেন? প্রশ্ন করেই আক্ষেপের সুরে একই কথা বার বার বলতে লাগলো, ইস, ‘একটু আগে এলেই সব পেতেন, এখন তো লাখ টাকা দিলেও পাবেন না।’ কী পাবো না? কিশোর খানেকটা থেতোমেতো খেয়ে আমতা আমতা করতে লাগলো। অভয় দেয়ার পর বললো ‘গুটি’।

স্থান চুয়াডাঙ্গা বাস টার্মিনাল। সময় তখন রাত ১১টা। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ঝিনাইদহ সড়কের শুরুতেই বাস টার্মিনালটি ১৯৯৪-৯৫ সালে স্থাপিত। এ টার্মিনালের পার্কিং প্লেসে অর্থাৎ গাড়ি রাখার স্থানে সারিবদ্ধ প্রায় অর্ধশত বাস। যার সবই আন্তঃজেলার বিভিন্ন সড়কে চলে। বাসগুলো রেখে কিছু চালক আছেন যারা গলায় বাংলা ঢেলে বকবক করে বাড়ি ফেরেন। আর হেলপারদের কেউ কেউ গাঁজায় দম দিয়ে ঘন ঘন সস্তা সিগারেট টানতে থাকে। যেন নেশা না করলেই ওদের চলে না। তাই তো বাস টার্মিনালগুলোতে হেন নেশাদ্রব্য নেই যে সন্ধ্যার পর মেলে না। গতরাত সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখতে গেলে কিশোর মূলত ইয়াবাকেই গুটি বলেছে। যা ওই সময়ই বুঝতে বাকি থাকেনি। না, সব কিছু পাওয়া যায় বলে দাবি করলেও টার্মিনালে সস্তা কসমেটিকের উগ্র ব্যবহারকারীদের তেমন দেখা মেলে না। তবে পাশের একটি সরকারি দফতরের নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা আন্তঃবাস টার্মিনালে দূরপাল্লার কোচের যেমন টিকিট কাউন্টার রয়েছে, তেমনই লোকাল বাসগুলোর টিকিট বিক্রিরও নির্ধারিত স্থান রয়েছে। এসবের কর্তৃত্ব নিয়ে মাঝে মাঝে উত্তেজনাও ছড়ায়। টার্মিনালের এক প্রান্তে রয়েছে পান্তার চা দোকান। পান্তার প্রাণান্ত চেষ্টায় চায়ের স্বাদে এনেছিলেন নতুনত্ব। ঠোঁটে লেগে থাকার মতো দুধচা খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন অনেক। পান্তার মৃত্যুর পরও চায়ের স্বাদ অনেকটা তেমনই আছে। অবশ্য গতরাতে যখন পৌঁছুই আমরা তখন চলছিলো বন্ধের তোড়জোড়। পাশের ইয়ামিনের দোকানের চায়ে চুমুক দিয়েও স্বাদে গন্ধে মনে হয়নি এটা কোনো টার্মিনালের টি স্টল। চায়ের স্বাদটা বেশ মনে রাখার মতোই। ইয়ামিনের চা দোকানের সামনে মোটরবাইক রেখে টার্মিনাল ঘুরে দেখতে গেলে প্রথমেই ধাক্কা। পরিত্যক্ত কাউন্টারের পাশ থেকে ভেসে এলো এক মাতালের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। তাকে ঘিরে থাকা কয়েকজন থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন। মাতাল যখন রুখলো আমাদের দিকে, তখন ফিরতে হলো অগত্য। কারণ ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। টার্মিনালে দেখা মেলেনি মেলে না পুলিশের।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *