যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

 

স্টাফ রিপোর্টার: সিমকার্ড: সিমকার্ডের ওপর বর্তমান শুল্কহার ১৫ শতাংশ হারে নির্ধারিত রয়েছে। বাজেটে এ হার ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আমদানীকৃত চিনি: আমদানিকৃত অপরিশোধিত চিনির টনপ্রতি কাস্টমস ডিউটি ছিলো ২ হাজার টাকা। আগামী ১ আগস্ট থেকে প্রতি মেট্রিক টন চিনির কাস্টমস ডিউটি দ্বিগুণ অর্থাত্ চার হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর পরিশোধিত চিনির ক্ষেত্রে টনপ্রতি চার হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে আট হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সয়া মিলস: সয়া মিলসের কাস্টমস ডিউটি ২০ শতাংশ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অটোরিকশা ও থ্রি হুইলার: দুই স্টোক বিশিষ্ট অটোরিকশার ও থ্রি হুইলারের ইঞ্জিনের সম্পূরক শুল্ককার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মোটর সাইকেল: ইলেকট্রিক ব্যাটারি চালিত মোটরগাড়ির ক্ষেত্রে এতদিন কোন সম্পূরক শুল্কহার না থাকলেও নতুন বাজেটে ২০ শতাংশ আরোপের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আর চার স্টোক বিশিষ্ট বিযুক্ত মোটর সাইকেলের উপর সম্পূরক শুল্কহার ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোটর সাইকেলের বা সমজাতীয় যানবাহনের সিট আমদানীর ক্ষেত্রে শুল্ক ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।

সিগারেট: অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, এটি সুবিদিত এবং সর্বজন স্বীকৃত যে, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয়ের জন্য সিগারেট অত্যন্ত ক্ষতিকর। সিগারেটের ক্ষতিকর দিক বিবেচনার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিসহ সিগারেট উত্পাদন ও বিক্রয় ব্যবসায় নিয়োজিত অন্যান্য সকল করদাতা যথা ব্যক্তি, অংশীদারী ফার্ম ইত্যাদির উপর ৪৫ শতাংশ হারে একটি একক করহার ধার্য করার প্রস্তাব করছি। অন্যদিকে বাজেটে মানভেদে সিগারেটের ওপর ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত করহার বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিড়ির ক্ষেত্রে ফিল্টার বিহীন ২৫ শলাকার প্যাকেটের ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ১৪ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৭ দশমিক ৬ টাকা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকার প্রতি প্যাকেট ৬ দশমিক ৯২ টাকা থেকে ৭ দশমিক ৯৮ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

চা: চা আমদানিতে প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ব্যাটারি:মারকুইরিক অক্সাইড, সিলভার অক্সাইড ও লিথিয়াম ব্যাটারির উপর এতদিন কোন শুল্ক ধার্য না থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড, অন্যান্য প্রাইমারি সেল ও অন্যান্য ব্যাটারির সম্পূরক শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার জন্য বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে।

জুয়েলারি: অমসৃণ হীরা ও ইমিটেশন জুয়েলারিতে সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর প্রস্তাবিত বাজেটে স্বর্ণ ও রৌপ্যকার এবং স্বর্ণের ও রৌপ্যের দোকানদার, স্বর্ণ পাকাকারী প্রভৃতি সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ এবং যোগানদার সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ মূসক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাইপ: কাস্ট আয়রনের তৈরি টিউব পাইপস ও ফাঁপা প্রোফাইলের ক্ষেত্রে বর্তমান শুল্কহার না থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে ২০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। অয়েল অথবা পাইপ লাইনে ব্যবহূত লাইন পাইপ: ভিতরের ব্যাস ৮ ইঞ্চি অথবা তার নিম্নের এবং আয়রনের বা স্টিলের তৈরি পাইপের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্যানিটারি ওয়্যার: কপার ও এ্যালুমিনিয়ামের স্যানিটারি ওয়্যার ও যন্ত্রাংশের সম্পূরক শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

ডেইরি পণ্য:মাখন এবং দুগ্ধজাত চর্বি ও তৈল, ডেইরি স্প্রেডস, হিমায়িত চিংড়ি, বিভিন্ন ধরনের সবজি প্রভৃতির উপর সম্পূরক শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। কিছু মাছের ক্ষেত্রে এ হার ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *