যশোরে হিজবুত তাহরীরের ৩ সদস্যের আত্মসমর্পণ

স্টাফ রিপোর্টার: নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীরের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক দক্ষিণবঙ্গে বিস্তৃত থাকলেও এতদিন জঙ্গিরা ছিলো অধরা। মাত্র ১১ মাস আগে যশোরের পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং করে হিজবুত তাহরীরের আঞ্চলিক নেতা তানজীব আহম্মেদ ওরফে আশরাফুলকে আটকের সময় হিজবুতের আরেক নেতা শহরতলীর ধর্মতলা ছুটিপুর রোডের আব্দুস সালামের ছেলে রায়হানের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। সেই রায়হানসহ পাঁচজনকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ অফিস থেকে সম্প্রতি পোস্টারও ছাপা হয়। এদেরই একজন জঙ্গি রায়হান ও অপর দুজন বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর পুলিশ লাইন্সে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় ওই তিনজনের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তিনজনের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনির-উজ-জামান।

তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলে সহায়তা করা হবে মর্মে পুলিশের আইজির ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ তিনজন আত্মসমর্পণ করেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে তাদের আইনগত সহায়তা দেয়া হবে।’ আইনগত সহায়তা বলতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি হ্যাঁ সূচক জবাব দেন। সেক্ষেত্রে আত্মসমর্পণে ইচ্ছুক জঙ্গিদের আগ্রহে ভাটা পড়বে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের যথাসম্ভব ‘সহানুভূতিশীল দৃষ্টিকোণ’ থেকে দেখা হবে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার দ্বার খুলে দিতে চাই।’

গতকাল আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে হিজবুত তাহরীরের ‘মোশরেক’ পদবির (ক্যাডার সদস্যের দাবিদার) একজন এবং প্রাথমিক সদস্য ‘শাবাব’ পদবির দুজন রয়েছেন। মোশরেক সদস্য মো. সাদ্দাম ইয়াসির ওরফে সজল (৩২) শহরের খোলাডাঙ্গা কদমতলার মৃত শফিয়ার রহমানের ছেলে। শাবাব সদস্যদের মধ্যে একজন শহরতলীর ধর্মতলা ছুটিপুর রোডের আব্দুস সালামের ছেলে রায়হান আহম্মেদ (২০)। তিনি যশোর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর যশোর পলিটেকনিক কলেজ থেকে ডিপ্লোমা নেন। অপর শাবাব সদস্য শহরের খোলাডাঙ্গা কদমতলার মো. মেহেদী হাসান পাশা (২০)। তার বাবা যশোর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সুপারিনটেনডেন্ট একেএম শরাফত মিয়া। তিনজনের মধ্যে রায়হান আহম্মেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় চার্জশিট দেয়া আছে বলে জানান এসপি আনিসুর রহমান। তাকে ধরিয়ে দিতে গতমাসে পুলিশ পোস্টারও ছাপায়। তবে এদের মধ্যে ‘মায়ের ওপর রাগ করে ঘরছাড়া’ মুন্না ফিরে আসায় পুলিশ সেই পোস্টার তেমনভাবে প্রচার করেনি। বাকি দুজনের প্রোফাইল দেখা হচ্ছে। এসপি জানান, হিজবুত তাহরীরের মূল প্রশিক্ষক ঢাকার তানজীব। তার কাছ থেকেই আত্মসমর্পণকারীরা প্রশিক্ষণ পেয়েছে। তারা হিজবুত তাহরীরের বেশকিছু বইপুস্তক ও লিফলেট জমা দিয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *