যশোরে ক্রসফায়ার ও মামলার ভয় দেখিয়ে  পুলিশের অর্থ আদায়

 

স্টাফ রিপোর্টার: নিরীহ মানুষকে ক্রসফায়ার ও মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারলে মামলায় জড়ানো হচ্ছে। এ অভিযোগ উঠেছে যশোরের কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। গত সাত মাসে স্থানীয় লোকজন জেলার ১২ জন পুলিশ সদস্যকে এ ধরনের ঘটনায় হাতেনাতে ধরে বিক্ষোভ করেছেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করে আনা হয়েছে। এছাড়া অনেক ভুক্তভোগী এসব পুলিশ সদস্যের নাম উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সচেতন নাগরিক কমিটি, যশোরের সহসভাপতি সুকুমার দাস বলেন, যার-তার পকেটে ইয়াবা-গাঁজা ঢুকিয়ে মানুষকে জিম্মি করে পুলিশ যে কায়দায় অর্থবাণিজ্য করছে, তাতে যশোরে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। পুলিশ মানুষের রক্ষক হয়ে ভক্ষকে পরিণত হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাঁচটি ঘটনায় জনতার হাতে আটক হওয়া ১২ পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‍্যাব), আরেকজনকে এসপিবিএনে বদলি করা হয়েছে।

যশোর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে যশোর পুলিশের ২১৮ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনকে গুরুদণ্ড (চাকরিচ্যুত, পদাবনতি, বার্ষিক বেতন স্থগিত ও কালো চিহ্ন) এবং ১৯৪ জনকে লঘুদণ্ড (তিরস্কার, সতর্ক ও পানিশমেন্ট ড্রিল) দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান গতকাল রোববার রাতে বলেন, যশোরে এ ধরণের কিছু ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানামাত্র ব্যবস্থাও নিয়েছেন। এখন এ ধরণের ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধ মামলা করা হবে। তিনি জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৫১ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যশোর পুলিশে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

গত শনিবার বিকেলে যশোর সদর উপজেলার বারীনগর বাজারে কোতোয়ালি থানার কনস্টেবল সিরাজুল ইসলাম এক ব্যবসায়ীর পকেটে ইয়াবা বড়ি ঢুকিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। পিকুল নামের এই ব্যবসায়ী চিৎকার দেন। এতে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে কনস্টেবল সিরাজুলকে ইয়াবা বড়িসহ আটক করে পিটুনি দেয়। এ ঘটনায় কনস্টেবল সিরাজুলসহ দুজনকে আসামি করে গতকাল রোববার কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় সিরাজুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলায় ওই ব্যবসায়ীকেও আসামি করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, ‘ওই কনস্টেবল নেশাগ্রস্ত ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে উদ্ধারের পর যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ওয়াশ করানো হয়।’

গত ১৮ মে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শার্শা উপজেলার অগ্রভুলট গ্রামের নাসিমা খাতুন অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী হাতেম আলীকে বাড়ি থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদাপোশাকে কয়েকজন বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে। ১১ জুন মনিরামপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ঝুমুর নামে এক নারী অভিযোগ করেন, ৬ জুন তিনি ও তাঁর শ্বশুরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান কোতোয়ালি থানার এসআই আসাদ ও দেবাশীষ। এরপর তাঁরা তিন লাখ টাকা দাবি করেন। পরে এক লাখ টাকা দিয়ে তারা ছাড়া পান। পরদিন ওই দুই কর্মকর্তা কিস্তিতে কেনা তাঁর (ঝুমুর) একটি ট্রাক জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে নিতে পারেননি। এ সময় এসআই দেবাশীষ ফোনে দেখা করতে বলেন।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *