মাথাভাঙ্গা নদীতে ডুবে প্রভাতীর দু ছাত্রীর মৃত্যু ॥ এলাকাজুুড়ে শোকের ছায়া

চুয়াডাঙ্গার বেলগাছি থেকে পীরপুর বেড়াতে গিয়ে বিপত্তি ॥ সান্ত¦না খুঁজে পাচ্ছেন না আম্বিয়া খাতুন

 

ঘটনাস্থল থেকে ফিরে কামরুজ্জামান বেল্টু: চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কের রিজিয়া খাতুন প্রভাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির দু ছাত্রী লামিয়া ও  ইয়াসমিন মাথাভাঙ্গা নদীতে ডুবে মারা গেছে। শিশু লামিয়া ও ইয়াসমিন পরস্পর আত্মীয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের বেলগাছি মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা। আলুকদিয়ার পীরপুরে বেড়াতে গিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে নেমে দু শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। গতরাতে বেলগাছি কবরস্থানে দুজনের দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।

শিশু লামিয়া খাতুন বেলগাছি মুসলিমপাড়ার হারুন অর রশিদের মেয়ে। তিনি পেশায় রঙমিস্ত্রি। ইয়াসমিনের পিতা সন্টু একই স্থানের বাসিন্দা। চা দোকানি। পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, আম্বিয়া খাতুনের পিতার বাড়ি আলুকদিয়ার পীরপুরে। তিনি তার ছেলে হারুনের মেয়ে লামিয়া ও ভাই সন্টুর মেয়ে ইয়াসমিনকে সাথে নিয়ে বাপের বাড়ি পীরপুরে বেড়াতে যান। পীরপুরে পৈত্রিক বাড়িতে ভাই ঠা-ু বিশ্বাস নতুন পাকাঘর নির্মাণ করছেন। ঢালাইয়ের দিন খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হবে। সেই আয়োজনের আমন্ত্রণেই আম্বিয়া খাতুন তার নাতিসহ ভাতিজিকে সাথে নিয়ে পৈত্রিক বাড়িতে গিয়েছিলেন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে পীরপুরে পৌঁছান। দুপুরে লামিয়া ও ইয়াসমিন মাথাভাঙ্গা নদীতে যায়। নদীর অধিকাংশ জুড়েই হাঁটু পানি। অথচ ওই ঘাটের পাশেই বেশ গভীর। স্থানীয়দের ভাষায় বেশ বড় গর্ত মতো। ডোবা পানি। দু শিশু বুঝতে না পেরে ওই গভীর পানি পেরিয়ে পানিতে ভাসা কলাগাছ ধরতে গেলে ডুবে যায়। অপরদিকে বাড়ির পীরপুরে ঠা-ু রহমানের বাড়িতে দু শিশুকে না পেয়ে আম্বিয়া খাতুন অস্থির হয়ে পড়েন। তিনি সকলকে জানালে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। এক পর্যায়ে জানা যায় দু শিশু পানিতে নেম আর ওঠেনি। গ্রামের বহু মানুষ পানিতে নেমে তল্লাশি শুরু করার পাশাপাশি ফায়ার স্টেশন অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সে খবর দেয়। গ্রামের আরিফ, ইয়াসিন, রনি, জাহিদুল ও আনারুলসহ অন্যদের খোঁজাখুঁজিতে আধাঘণ্টার ব্যবধানে দু শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। লাশ উদ্ধারের পর পৌঁছায় ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা। খবর পেয়ে সদর থানার একদল পুলিশও পৌঁছায় পীরপুরে। তখন বিকেল পৌনে ৫টা। বিকেলেই দু শিশুর মৃতদেহ নেয়া হয় তাদের নিজ পৈত্রিক বাড়ি বেলগাছি মুসলিমপাড়ায়। মাতা পিতাসহ নিকটজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ স্বশরীরে শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিজস্ব তহবিল থেকে দুটি পরিবারে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা করেন। বলেন, শিশুদের প্রতি বড়দের বেশি বেশি যতœবান হওয়া দরকার।

লামিয়া (১১) দু বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে ছিলো দ্বিতীয়। ইয়াসমিন ছিলো দু বোন এক ভাইয়ের মধ্যে ছোট। নাতি লামিয়া ও ভাতিজি ইয়াসমিনকে সাথে নিয়ে যে আম্বিয়া খাতুন তার পৈত্রিক বাড়ি পীরপুরে গিয়েছিলেন তিনি কিছুতেই সাান্তনা খুঁজে পাচ্ছেন না। কেনো এতোবড় সর্বনাশ হলো, কেনই বা ওদের তিনি চোখের সামনে রাখলেন না, কেনই বা তিনি মাথাভাঙ্গা নদীতে নামা ঠেকাতে পারলেন না? এসব প্রশ্ন নিজেই নিজেকে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গতরাত ৯টার দিকে বেলগাছি কবরস্থানে দু শিশুর মৃতদেহ পাশাপাশি কবরে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়। এলাকার অসংখ্য মুসল্লি তাদের নামাজে জানাজায় শরিক হন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *