ভূগর্ভের পানি নেমে যাচ্ছে নিচে : শুকিয়ে যাচ্ছে খালবিল নদী নালা

চুয়াডাঙ্গায় মাছের ঘাটতি ৬ হাজার মেট্রিকটন : উৎপাদন বৃদ্ধিতে আসছে এয়ারেটর
আহসান আলম: চুয়াডাঙ্গা জেলায় মাছের ঘাটতি ৬ হাজার মেট্রিক টন। ঘাটতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। খালবিল বাওড় নদী-নালা পানিশূন্য হয়ে পড়ায় কমছে মাছ উৎপাদন। একে তো চুয়াডাঙ্গা অঞ্চল সমুদ্রভূপিষ্ঠ থেকে তুলনামূলক কিছুটা উঁচুতে, তার ওপর ভূগর্ভের পানি নেমে যাচ্ছে নিচে। ফলে অল্প জলাশয়ে অধিক মাছ উৎপাদনের লক্ষে এয়ারেটর পদ্ধতিতে মাছের অক্সিজেনের জোগান দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
মৎস্য অফিসসূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় জনসংখ্যা অনুপাতে বার্ষিক মাছের চাহিদা ১৭ হাজার মেট্রিকটন। উৎপাদন হয় ১১ হাজার মেট্রিকটন। চালানি ও পাশের অন্যান্য জেলা থেকে কিছুটা জোগান এলেও জনপ্রতি প্রতিদিন যে ৫৬ গ্রাম মাছের প্রয়োজন তা মেটানো যাচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় মাছের উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার ২৭ দশমিক ৮৫ মেট্রিকটন। চাহিদা ৬ হাজার ৬শ ২২ মেট্রিক টন। এ হিসেবে ঘাটতি ১৫ মেট্রিকটন। আইন প্রয়োগে কি এ ঘাটতি পূরণ সম্ভব? জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ ইঞ্চির ছোট রুই, কাতলা, কালবাউশ ও মৃগেল ধরা, বিক্রি এবং পরিবহন করা আইনত অপরাধ। আর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১২ ইঞ্চির ছোট বোয়াল ও আইড়মাছ ধরা, বিক্রি ও বহন করা আইনের দৃষ্টিতে বারণ। এ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টিতে ঘাটতি পূরণে কিছুটা সহায়ক হলেও উৎপাদন বৃদ্ধির বিকল্প নেই। চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত এক মৎস্য কর্মকর্তা তথ্য দিয়ে বলেছেন, একটি পুকুরে এখন যে পরিমাণে মাছ চাষ করে যে ফলন পাওয়া যায়, সেই একই পুকুরে একই পরিমাণের পোনা ছেড়ে দ্বিগুণ পরিমাণের মাছ পাওয়া সম্ভব শুধুমাত্র বাইরে থেকে মেশিনের মাধ্যমে পানিতে বাতাসের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহের করে। এ পদ্ধতিকে এয়ারেটর পদ্ধতি বলা হয়। উন্নত বিশ্বে এ পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই চালু রয়েছে, আমরা এখন আমাদের প্রয়োজনের তাগিদেই এ পদ্ধতি অনুসরণের জন্য মাছ চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছি।
চুয়াডাঙ্গায় একসময় ভৈরব বয়েছে প্রখর ¯্রােতে। কুমার নদেও থেকেছে পানি। চিত্রাও দিয়েছে মাছের জোগান। ফারাক্কা বাঁধের কুপ্রভাবে উৎসমুখে পানি না পেয়েও এখন পর্যন্ত মাথাভাঙ্গা নিজের বুকে থাকা ঝর্ণা ধারায় কোনো রকম বয়ে চলেছে। অথচ অসংখ্য অবৈধ বাধসহ ¯্রােতের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেয়া কোমরের কারণে মরতে বসেছে এই নদী। দেশি মাছের অন্যতম উৎসই শুধু নয়, মাথাভাঙ্গা এলাকাকে এখনও পর্যন্ত মরুভূমি হওয়া থেকে রক্ষা করে চলেছে। মাথাভাঙ্গাকে বাঁচাতে হবে’ এ স্লোগান মাঝে মাঝে তীব্রতর হলেও করণীয় নির্ধারণে কর্তাদের তেমন উদ্যোগ নেই। তবে মৎস্য বিভাগের তরফে এবার মাথাভাঙ্গায় মাছের জন্য নাকি স্থাপন করা হচ্ছে এয়ারেটর প্লান্ট। যা পানিতে বাতাসের মাধ্যমে দেয়া হবে বাড়তি অক্সিজেনের জোগান। পানিই যদি না থাকে ওই প্লান্ট স্থাপনে কী হবে? এ প্রশ্ন এড়াতে হলেও কর্তাদের মাথাভাঙ্গা বাঁচাতে বাস্তবমুখি পদক্ষেপ নেয়া দরকার। এ অভিমত অনেকের।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *