বিয়ের দেড় মাসের মাথায় কিশোরী বধূকে শ্বাসরোধে করে হত্যা মামলার আসামি স্বামী রাজু ও বন্ধু আলমগীর গ্রেফতার

 

আলমডাঙ্গা ব্যুরো: প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৩ বছরের কিশোরী আরজিনাকে বিয়ে করে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার আসামি স্বামীর রাজুর বন্ধু আলমগীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গতকাল দুপুরে রাজুর বন্ধু আলমগীরকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ আটক করেছে।

জানা গেছে, মেহেরপুর গাংনী ররায়পুর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (২২) একই উপজেলার সালদা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ১৩ বছরের মেয়ে আরজিনা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। গতকাল মঙ্গলবার ১৪ জনু আলমডাঙ্গা থানার এসআই আফজাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাটবোয়ালিয়ায় অভিযান চালিয়ে আলমগীরকে আটক করে থানায় নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, আলমডাঙ্গার নগরবোয়ালিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের নাতিছেলে রাজু মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সালদা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ১৩ বছরের মেয়ে আরজিনার সাথে মোবাইলে প্রেমসম্পর্ক গড়ে তোলে। রাজুকে ভালোবেসে দেড়মাস আগে আরজিনা গোপনে বাড়ি থেকে চলে এসে রাজুকে বিয়ে করে। রাজু কিশোরী বধূকে নিয়ে নগরবোয়ালিয়ার মেহেরুল্লাহ শাহ’র ভাড়াবাড়িতে ওঠে। কিন্তু নববধূকে ঘরে তুলেই নানা ফন্দি আঁটতে থাকে। রাজুর বড় স্ত্রী তাদের ২য় বিয়ে মেনে নিচ্ছে না এমন অজুহাত তুলে সে আরজিনার কাছে ৮০ হাজার টাকা দাবি। সে বলে ৮০ হাজার টাকা পেলে বড় স্ত্রীকে দিয়ে ওর বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু আরজিনা রাজুর দাবিকৃত টাকা সংগ্রহ করতে পারেনি।

আরজিনার বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২১ মে আরজিনা তাকে মোবাইলে ৮০ হাজার টাকার কথা জানিয়ে বলেছিলো, টাকা না পেলে রাজু তার অনেক ক্ষতি করে দেবে। ২৪ মে রাজুর বড় স্ত্রী-কন্যা-সন্তান নিয়ে ওই ভাড়া বাড়িতে এসে ওঠার কথা ছিলো। এদিকে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে রাজু তার মুচিপাড়ার এক বন্ধু আলমগীরকে ডেকে আনে বাড়িতে। তখন দুপুর ২টা। আরজিনাকে নিয়ে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয় রাজু। আধাঘণ্টা পর রাজু ও তার বন্ধু আলমগীর ঘরের দরজা খুলে আরজিনাকে বাইরে নিয়ে এসে মাথায় পানি দিতে থাকে। তখনও আরজিনা বেঁচে ছিলো। এরপর তারা আরজিনাকে হারদীতে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।

চিকিৎসক জানান, দুটি ছেলে অল্প বয়সী মেয়েটিকে এনেই রেখে দ্রুত চলে যায়। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়। থানার এসআই আফজাল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত আরজিনার লাশ থানায় নিয়ে যান। এদিকে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালে উপজেলার ভোগাইলবগাদী গ্রামের প্রয়াত চাঁন্দু মেম্বারের স্কুলপড়ুয়া ছেলে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বাপকে না পেয়ে খুনিরা স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ওই হত্যামামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি রাজু।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *