বিশ্বের নজর ছিল ফ্রান্স-জার্মানি ম্যাচটির দিকেই

বিশ্বের নজর ছিল ফ্রান্স-জার্মানি ম্যাচটির দিকেই৷ বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে জিদানের দেশ জার্মানিকে বিপাকে ফেলতে পারে কিনা তা নিয়েই গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল গোটা  ফুটবল বিশ্বে৷ কিন্তু সেই জিদানও নেই, ফ্রাঙ্ক রিবেরিও নেই৷ কোনও আলো ছড়াতে পারলেন না করিম বেনজিমারা৷ বিক্ষিপ্ত লগ্নে জার্মানিকে ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করলেও সেই পরাজিতের দলেই রয়ে গেল দিদিয়ের দেশঁয়ের দল৷ শেষ হাসি হাসলেন জোয়াকিম লো৷ ফ্রান্সকে এক গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গেল জার্মানি৷ এই নিয়ে পরপর চারবার বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠল জার্মানি৷ম্যাচের ১৩ মিনিটেই হামেলসের গোল জার্মানিকে আরও ছন্দময় ও সুসংগঠিত করতে সাহায্য করেছে৷ শক্তিশালী ফ্রান্সের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল মেলে ধরেছে জোয়াকিম লো-র দল৷ একটি  ফ্রি-কিক থেকে দুরন্ত হেডে গোল করেন  ম্যাটস হামেলস৷  বিশ্বকাপে তাঁর দ্বিতীয় গোল এটি৷ এই গোলের পরে টমাস মুলার-ক্লোজেরা আরও ক্ষুরধার হয়ে উঠেন৷ সকলেই ভেবেছিল জার্মানিকে জোর ধাক্কা দেবে ফ্রান্স৷ কিন্তু সেভাবে মেলেই করতে পারলেন না দিদিয়ের দেশঁয়ের ছেলেরা৷ শুরুতে বেনজিমা একটি শট নিয়েছিলেন ৷ কিন্তু তা বাইরে চলে গিয়েছে৷  জার্মানির গোলের পরে ফ্রান্সের যাবতীয় আক্রমণ হারিয়ে যায়৷  ওই অর্ধের শেষ পর্বে অবশ্য কিছুটা জেগে ওঠেন বেনজিমারা৷ ৪৩ মিনিটে বেনজিমার শট সরাসরি জার্মানির গোলরক্ষকের হাতে চলে গিয়েছে৷ এদিন প্রথমার্ধে দু’বার পেনাল্টির দাবি করেছে জার্মানি৷ একবার পেনাল্টির দাবি করেছে ফ্রান্স৷ কিন্তু রেফারি বেশ দক্ষতার সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন৷ তিনি পেনাল্টির দাবি কর্ণপাত করেননি৷ বিরতির সময় এক গোলেই এগিয়ে ছিল জার্মানি৷
বিরতির পরে প্রত্যাশামতোই গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দেশঁয়ের ছেলেরা৷ পরপর দু’বার আক্রমণ গড়ে ফ্রান্স৷ কিন্তু ওই পর্বে সতর্ক ছিলেন জার্মানির গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নিউয়ার৷ বেশ দক্ষতার সঙ্গে সেই আক্রমণ প্রতিহত করেন জার্মানির গোলরক্ষক৷ ম্যাচটি ছিল জোয়াকিম লো ও ফরাসি ম্যানেজার দিদিয়ের দেশঁ-র ট্যাকটিসের লড়াই৷ দু’জনের কাছেই এটা ছিল অ্যাসিড টেস্ট৷  এই লড়াইয়ে দেশঁকে টেক্কা দিলেন লো৷ অভিজ্ঞ ফিলিপ লামকে রাইট ব্যাকে খেলিয়ে বাজিমাত করেন তিনি৷ সেই কারণেই ফরাসিদের যাবতীয় আস্ফোলন জার্মানির পেনাল্টি বক্সে এসেই থমকে গিয়েছে ৷ খেলা যত গড়িয়েছে ততই মরিয়া হয়ে আক্রমণ শানানোর চেষ্টা করেছে ফান্স৷  করিম বেনজিমা অনন্ত বার দুয়েক গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন৷ অতিরিক্ত সময়ে তো প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন ফারসি স্ট্রাইকারটি৷ কিন্তু সেখানেও ম্যানুয়েল নিউয়ারের দুরন্ত গোলকিপিং নিশ্চিত পতন থেকে রক্ষা করেছে৷ এদিন হামেলস নতুন রেকর্ড গড়তে পারতেন৷ কী সেই রেকর্ড?  দলের হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন তিনি৷ বিরতির পরে তাঁর আত্মঘাতী গোলেই সমতা ফেরাতে পারত ফরাসি দল৷ কিন্তু হামেলসের নেওয়া হেড বাইরে চলে গিয়েছে৷ শেষ পর্বে অলিভিয়ার জিরোদকে নামান ফরাসি কোচ৷ কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হয়েছেন ৷ গ্রুপ লিগে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে উঠে এসেছিল ফ্রান্স৷ গ্রুপ লিগ ও প্রি-কোয়ার্টার মিলিয়ে দশটি গোল করেছেন বেনজিমারা৷ কিন্তু এদিন গোলের রাস্তা খুঁজে পেলেন না তারা৷ দু’একটি ইতিবাচক আক্রমণ গড়লেও কাজের কাজ করতে পারেননি ফরাসি ফুটবলাররা৷

Leave a comment

Your email address will not be published.