বিক্রি হচ্ছে না মোবারকগঞ্জ চিনিকলের চিনি : ৬৮কোটি টাকার ১৭ হাজার মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত!

 

ঝিনাইদহ অফিস: রমজান মাসে চিনির ব্যাপক চাহিদা বেড়ে গেলেও ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলে এখনো ৬৮কোটি টাকার ১৭ হাজার মেট্রিকটন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। খোলাবাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে আর চিনিকলে কেজিপ্রতি মাত্র ৪০ টাকা দাম ধরা হয়েছে। এর চেয়েও কমদামে মিলছে প্রাইভেট রিফাইনারি মিলের চিনি।তাই লোকসানের আশঙ্কায় মিলের ডিলাররা ও ব্যবসায়ীরা চিনি তুলছেন না।ফলে লালচে রঙের চিনি, মিষ্টি মানে উন্নত হলেও গুদামের চিনি গুদামেই থাকছে। প্রাইভেট রিফানারিরা কম দামে বাজারে চিনি বিক্রি করতে পারছে, তাই দেশের চিনি শিল্পের সাথে সঙ্গতি রেখে বেসরকারি চিনিকলের ভ্যাট, ট্যাক্স, শুল্কায়ন হওয়া উচিত, তবেই অসম বাজার ব্যবস্থা থাকবে না এমনটিই মনে করছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকলে ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ এ দু মাড়ায় মরসুমে ১৭হাজার মেট্রিকটনের ওপরে চিনি অবিক্রিত রয়েছে। এর বাজারমূল্য ৬৮ কোটি টাকার ওপরে। রমজানে খোলাবাজারে চিনির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খোলাবাজারে চিনির কেজি ৪৫ টাকা আর মিলের চিনির দাম ৪০ টাকা, তবুও চিনি নিচ্ছে না আওতাভুক্ত ৩৯জন ডিলার আর ব্যবসায়ীরা। প্রাইভেট রিফাইনারি মিলের চিনি আরো কমদামে পাচ্ছে তারা, এমনটি জানান, চিনিকলের আওতাভুক্ত ডিলার ও চিনি ব্যবসায়ী শাহীন ট্রেডার্সের মালিক সরোয়ার হোসেন। শাদা ও ঝরঝরে চিনির প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রাইভেট রিফাইনারি কোম্পানির চিনি বিক্রি করছে, এমন কথা জানান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের খুচরো ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিত ও জাকির হোসেন। রমজানকে সামনে রেখে চিনির দাম বেড়ে গেছে কেজি প্রতি ৫টাকা। ৪০ টাকার চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫টাকায়। শৈলকুপার মিষ্টি ব্যবসায়ী জনি সাহা জানান, রমজানের এ সময়ে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় মিষ্টির দামও বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ, ক্রেতা-বিক্রেতারা হতাশা প্রকাশ করছে। সরকারের পরিকল্পনার অভাব ও প্রাইভেট সেক্টরের চিনির ওপর ভ্যাট, ট্যাক্স বাড়ানোর দাবি চিনিকলের শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল মোচিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মশিউর রহমান জানান, তাদের মিলের চিনি বেশি মিষ্টি ও ভালো হওয়া স্বত্তেও বিক্রি হচ্ছে না সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে। প্রতিবছর চিনির দাম কমানো স্বত্তেও প্রাইভেট রিফানাইরীরা আরো কম দামে বাজারে চিনি বিক্রি করতে পারছে তাই দেশের চিনি শিল্পের সাথে সঙ্গতি রেখে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারের আমদানি নীতি, শুল্ক সামঞ্জস্যপূর্ণ করলে চিনিকলের চিনির মূল্য থাকবে বলে জানান কর্মকর্তারা। চিনিকলের আওতাভুক্ত ডিলাররা জরিমানা স্বত্তেও লোকসানের ভয়ে চিনি উত্তোলন করেন না বলেও জানান মোবারকগঞ্জ চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক মো. দেলোয়ার হোসেন।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *