বহুদিনের উত্ত্যক্তকারী বখাটে বাবুর জেল : সাক্ষীর ওপর নগ্ন হামলা

আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করায় জনতার প্রতিরোধ : চুয়াডাঙ্গা ভিমরুল্লায় ভ্রাম্যমাণ আদালত

 

স্টাফ রিপোর্টার: যে ছেলের উৎপাতে অতিষ্ঠ ছিলো ভিমরুল্লাহসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা, সেই ছেলে তারিকুল ইসলাম বাবু (২১) অবশেষে ধরা পড়েছে। গতকাল তাকে হাতেনাতে ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। রায়ের পর তাকে ভিমরুল্লাস্থ জেলা কারাগারে নেয়া হলেও সন্ধ্যায় তার ভাইসহ কয়েকজন মামলার সাক্ষী আক্তার হোসেনকে মেরে আহত করায় উত্তেজনা তীব্রতর হয়ে ওঠে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছুলে হামলাকারীরা আত্মগোপন করে। পরিস্থিতি শান্ত হয়।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের ভিমরুল্লাহ পুরাতন মসজিদপাড়ার ইসরাইল আলীর ছেলে তাকিরুল ইসলাম বাবু দীর্ঘদিন ধরে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিলো। আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীর পিছু নেয় সম্প্রতি। ছাত্রীর নিকটজনসহ স্থানীয়রা বখাটে তারিকুল ইসলাম বাবুকে হাতেনাতে ধরে। বিকেলে ভিমরুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুন উজ্জামান পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত সাক্ষ্য প্রমাণ পরীক্ষা করেন। তারিকুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। এ সময় উপস্থিত জনতা সন্তোষ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বলেন, ওই ভবঘুরের উৎপাতে এলাকার বহু মেয়েকে বাল্যবিয়ের আসনে বসতে বাধ্য করেছে তাদের অভিভাবকেরা। এবার সাজা হলো। এতে যদি সুধরে বাবু সুপথে ফেরে তবেই মঙ্গল। ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আাব্দুল মতিন, সদর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আব্দুল্লাহ আল সামীসহ অনেকে।

এদিকে সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার সময় একই পাড়ার মাদার হোসেনের ছেলে আক্তার (৪০) হামলার শিকার হন। তিনি তারিকুল ইসলাম বাবুর অপকর্মের বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাক্ষ্য দেন। এ কারণেই দণ্ডিত তারিকুল ইসলামের ভাই তরিকুলসহ তাদের লোকজন হামলা চালিয়ে আক্তার হোসেনকে মারপিট করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামে উত্তেজনা তীব্রতর হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে সদর থানার এসআই খালিদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। হামলাকারীরা বাড়িঘর ছেড়ে সটকে পড়ে। উত্তেজিত গ্রামবাসীকে পুলিশ শান্ত করে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *