ফেলানী হত্যার পুনঃবিচার চায় পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত কোনটি? পূর্বে যাই থাক, এখন গুগল এখন এর জবাব দেয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। সীমান্তে একের পর এক প্রাণহানির মাঝে বহুল আলোচিত হয়ে ওঠা ফেলানী হত্যা মামলার রায়ে হতাশায় গ্রাস করেছে বিচার প্রার্থীদের। তারা বাংলাদেশ ও ভারত সরকার, দু দেশের জনগণ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃবিচার দাবি করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ফেলানীর পিতা নুর ইসলাম এ দাবি জানান। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তাও চেয়েছেন তিনি। এদিকে খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের কয়েকটি স্থানে গতকাল ফেলানী হত্যামামলার পুনঃবিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে প্রয়োজনে মামলাটি আন্তর্জাতিক আদালতে পাঠানোর দাবি জানানো হয়। এদিকে চুয়াডাঙ্গাসহ পার্শ্ববর্তী সমান্তে অসংখ্য প্রাণ ঝরেছে। নিজ জমিতে চাষ করার সময় বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হন এক কৃষক। সে বিষয়ে দামুড়হুদা থানায় মামলা রুজু হলেও তা আর বেশিদূর এগোয়নি। এভাবে অধিকাংশ ঘটনাই একতরফা যুক্তির চাপেই বিচারের চাওয়ার কণ্ঠ স্থমিত হয়ে যায়, যাচ্ছে।

ফেলানী হত্যা মামলার পুনঃবিচার দাবি করে ভারত সরকারের নিকট আবেদন করা হয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে ফেলানীর পিতা নুরুল ইসলাম বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর ই-মেইলে ভারতীয় হাইকমিশনার, পশ্চিম বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) এর পরিচালক কিরিটি রায় এবং বাংলাদেশের আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী প্রধানের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে পত্র পাঠিয়েছি।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারত থেকে পিতার সাথে কুড়িগ্রামে আসার পথে অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে ফেলানী নিহত হয়। কাঁটাতারের বেড়ায় দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা তার ঝুলে থাকার ছবি সংবলিত সংবাদ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অব্যাহত দাবির মুখে দীর্ঘ আড়াই বছর পর সম্প্রতি প্রহসনের বিচার করে বিএসএফ অভিযুক্ত সদস্যকে মামলা থেকে খালাস দেয়।

ফেলানী হত্যামামলার রায় এবং সীমান্তে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনাটি বিশ্বজুড়েই আলোচিত সমালোচিত হয়ে উঠেছে। এরই মাঝে প্রশ্ন উঠেছে, কোন সীমান্তে এখন প্রাণহানীতে শীর্ষে? সংখ্যা অনুপাতেই গুগলের জবাব হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত। অথচ এক সময় ফিলিস্তিনিদের গাজা ভূখণ্ডের সাথে ইসরায়েলের সীমান্তে প্রাণহানি ছিলো শীর্ষে। বছরের পর বছর সেখানকার বহু ফিলিস্তিনির নিষ্ঠুর হত্যার শিকার হয়েছে। এখন অবশ্য ২৫ মাইল সীমান্তজুড়ে তারা গড়ে তুলেছে নিরাপত্তাপ্রাচীর এবং পাঁচটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ। সে হিসেবে গাজা এখন কার্যত বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত জেলখানা। আমেরিকা মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্র আর মেক্সিকোর সীমান্ত? ওটাকেও হার মানিয়ে আলোচনায় এসেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। কেননা, সংখ্যার দিক থেকে সীমান্তে প্রাণহানিতে বিশ্ব রেকর্ডটি এখন এখানেই। আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে হতাহতের সবাই না হলেও অন্তত ৯৫ শতাংশই বাংলাদেশি। ফেনীর অভাগা ফেলানী তাদেরই একজন।

Leave a comment

Your email address will not be published.