প্রতি জেলায় আইটি ভিলেজ হবে : শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঢাকার মহাখালী, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশালে আইসিটি ভিলেজ স্থাপন করা হবে। দেশের প্রতিটি জেলায়একটি আইটি ভিলেজ বা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়াহয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সফটওয়্যার ও আইটির বিভিন্ন সেবা রপ্তানি করে ১২৫মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে। গতকাল রোববার সকালে সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আউটসোর্সিঙেরআয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এর মাধ্যমে আয়করার ক্ষেত্রে প্রয়োজন ট্রেনিং ও ভাষা শিক্ষা। সরকার এ লক্ষ্যে ব্যবস্থানিয়েছে। আউটসোর্সিঙের মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘বাড়ি বসে বড়লোক’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ৪৮ মিনিটের দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীতথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সফলতার কথা তুলে ধরেন।তিনি তথ্য দেন, শুধু ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪০লাখ মানুষ সেবা গ্রহণ করছে।

বিগত বিএনপির সরকারের কারণে মহীসোপানেবাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা বলেন, ‘তারা (বিগত বিএনপি সরকার) সময়মতো পদক্ষেপ নিলে এ রায়ের সাথে সাথে মহীসোপানে আমাদের অধিকার সুনির্দিষ্ট হয়ে যেত।’ তিনি বলেন, সমুদ্রেঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আমরা ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত কাজ অনেকটাএগিয়ে রেখে যাই। আমাদের আশা ছিলো, পরবর্তীতে যে ক্ষমতায় আসবে তারা ওই কাজএগিয়ে নেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের তারা (বিগত বিএনপি সরকার) কোনোপদক্ষেপ নেয়নি। যেকোনো কিছুর একটা সময় থাকে। সে সময়ে তারা সঠিক পদক্ষেপনেয়নি বলে আমরা পিছিয়ে গেছি। আসলে তাদের এ নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনাই ছিলো না।

সমুদ্রেঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তাদের বিরুদ্ধে মামলাকরে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কাজটা অতো সহজ ছিলো না। আমাদের অনেক কাজকরতে হয়েছে, অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সমুদ্রসীমাআইন করে গেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের পর যারা ক্ষমতায়এসেছিলো, ২১ বছর তারা ক্ষমতায় ছিলো। দু-দুটি মিলিটারি ডিকটেটর ক্ষমতায় ছিলো।তারা কেউ কিন্তু এ বিষয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমরা ’৯৬ সালে ক্ষমতায়এসে আবার উদ্যোগ নিই। কেবিনেটে বিষয়টি রেটিফাই করি, জাতিসংঘে অনুস্বাক্ষরেরব্যবস্থা করি।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জনগণের উন্নয়নেসরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ওতথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবেপালন করার নির্দেশ দেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের যাকে যেদায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করবেন। মনে রাখবেন, সরকারের মেয়াদপাঁচ বছর। যার মধ্যে ছয় মাস চলে গেছে, সাত মাস চলছে। আর বাকি আছে চার বছরপাঁচ মাস। এ সময়ের মধ্যে আমাদের সব কাজ শেষ করতে হবে। সবাই সততা, কর্মদক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে দেশকে দ্রুতএগিয়ে নেয়া যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়েরদেশে পরিণত করা হবে। কিন্তু তার আগেই আমরা এটা করতে পারবো। ২০৪১ সালের মধ্যেউন্নত বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হব।’

শেখ হাসিনা বলেন, আগে গ্রামেরমানুষ ভাত-কাপড় চাইতো। সত্যি কথা বলতে কি, এখন তারা চায় বিদ্যুত। তারা বলেআমাদের বিদ্যুত দেন। ইন্টারনেটের গতি কম কেন-এ প্রশ্নেরও জবাব দিতে হয়।মানুষেরচাহিদার পরিবর্তন হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় মানুষ আর্থিকভাবে সফলতার মুখদেখছে। মানুষের সঞ্চয় বাড়ছে। এখন আর সুদের জন্য ঘরের চাল টেনে নিচ্ছে নাকেউ। প্রতিটি জেলায় কেউ যাতে গৃহহীন না থাকে, কেউ থাকলে তাদের খুঁজে বেরকরে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসময় ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফসিদ্দিকী, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ, সচিব আবু বকর সিদ্দিকসহ মন্ত্রণালয়েরঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *