নেতাকর্মী চাঙ্গা করতে উদ্যোগী হচ্ছে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: ২৮/১ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। চিরচেনা এ কার্যালয়ের ঠিকানাই প্রায় ভুলে যাচ্ছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা। দেড় মাস পর যেন কার্যালয়ের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন তারা। কার্যালয়ে প্রবেশে পুলিশি বাধা নেই এমন খবর নিশ্চিত হওয়ার পরই আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা কার্যালয়মুখি হচ্ছেন। নেতাকর্মীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে কার্যালয়টি। পুরোদমে সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছেন দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। দীর্ঘদিন পর নেতাকর্মীদের কাছে পেয়ে অফিস সহকারীরাও ছিলো বেশ উৎফুল্ল। বৃহস্পতিবার কার্যালয়ে আসেন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেকেই।

শেষ পর্যন্ত একটি নির্বাচন শেষে নতুন মন্ত্রিসভাও গঠন হয়ে যাওয়ার পর এখন দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল ফিরিয়ে আনার দিকেই আপাতত বেশি মনোযোগ দিতে যাচ্ছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারাসহ কারাবন্দি থাকা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মুক্ত করাই এখন মূল লক্ষ্য। নির্বাচনের আগে-পরে বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে ফেরারি থাকা নেতা-কর্মীদের আগাম জামিনের ব্যবস্থা করার ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে। এছাড়া মামলা-হামলার ভয়ে পলাতক থাকা কিংবা আত্মগোপনে চলে যাওয়া নেতা-কর্মীদেরও প্রকাশ্যে আনতে উদ্যোগী দলটি। সব মিলিয়ে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর অনেকটা হতাশ হয়ে পড়া বিএনপিতে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের সাথে সংলাপের চেষ্টা অব্যাহত রেখে যতো দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আদায় করতেও দলটি সচেষ্ট থাকবে।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে জানা গেছে, পুনরায় বড় ধরনের আন্দোলনে যেতে আরও বেশ কিছুদিন সময় নেবে দলটি। কারণ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আন্দোলনে সফল হতে না পেরে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মনোবল অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। মনোবল ফিরিয়ে তাদের চাঙ্গা করাই এখন প্রধান ও প্রথম কাজ। এ লক্ষ্যে তাদের কাছে আন্দোলনের চেয়েও দলীয় রাজনীতি পুরোদমে সক্রিয় করে তোলা, দলের ঐক্য অটুট রাখা, জেলবন্দী-পলাতক-আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের মুক্ত করে ফের সক্রিয় করা, কেন্দ্রীয় দপ্তরসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই অধিকতর গুরুত্ব দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে.জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন- এটা তো ঠিক-আমাদের নেতা-কর্মীরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। সুতরাং তাদেরকে ভীতিমুক্ত করে সক্রিয় করাই এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
বিএনপির কেন্দ্রীয় দুজন ভাইস-চেয়ারম্যান জানান, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় করে তোলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়ার কারণেই আপাতত কঠোর আন্দোলনে বিরতি দিয়েছে বিএনপি। চলতি মাসে বড় ধরনের কিছু না দিয়ে অহিংস কর্মসূচি দিয়েছেন দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসব কর্মসূচির মাধ্যমেও নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপির কর্মসূচি পর্যালোচনা করলেই স্পষ্ট হয় যে, অন্তত চলতি জানুয়ারি মাসে বড় কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছে না দলটি। সূত্রমতে, ফেব্রুয়ারি জুড়েও দেশব্যাপি সভা, সমাবেশ, গণসংযোগ ও রোডমার্চ কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে কর্মসূচি। নেতা-কর্মী-সমর্থকদের হতাশা কাটানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিগগিরই তৃণমূল সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া মনে করছেন বিশেষ করে ২৯ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচি প্রায় পুরোপুরি ফ্লপ হওয়ায় এবং ওইদিন নেতাদের কাউকেই না পেয়ে হতাশ হয়েছেন মাঠ কর্মী-সমর্থকরা। এখন তিনিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলে পৌঁছুলে তাদের সেই হতাশা অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে বলে দল মনে করে। তাই নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করে তুলতে তাদেরকে ইতিবাচক কথা শুনিয়ে বিভিন্নভাবে আশ্বস্ত করারও পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবেই বুধবার খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষণস্থায়ী, গায়ের জোরে অবৈধ এ সরকার খুব বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। আন্দোলনের বিজয় অনিবার্য, সে বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি থেকে আপাতত সরে আসায় দলের কারাবন্দি নেতা-কর্মীরাও সহসাই মুক্তি পাবেন বলে মনে করছে বিএনপি। এতোদিন আত্মগোপনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেফতার বা হয়রানি না করার জন্য হাইকোর্ট গতকাল যে আদেশ দিয়েছে, সেটিকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *