নজিবের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী : এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ কোনো কাজকাম করেন না

 

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের দক্ষতা ও কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রাজস্ব আদায়ে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, এনবিআরের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা ও চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী। রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে তিনি অবিলম্বে এনবিআর চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন চান। কিন্তু শক্তিশালী আমলাদের বাধায় তা হয়ে উঠছে না, এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রীর ক্ষেদোক্তি- ‘এক বছর হয়ে গেছে অথচ এনবিআরের চেয়ারম্যান জানেনই না যে এনবিআর কিভাবে চলে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, তাকে (নজিবুর) নিয়ে কাজ করা মুশকিল। কিন্তু তার সঙ্গে আছেন শক্তিশালী আমলারা। তিনি রাজনীতিবিদদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছি। কারণ এনবিআরের চেয়ারম্যান কোনো কাজকাম করেন না। হ্যাঁ, কিছুই করেন না তিনি। খালি বক্তৃতা দেন।’ শুক্রবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিনি (এনবিআর চেয়ারম্যান) এত বক্তৃতা দেন যে তাকে আসলে তথ্যসচিব বানিয়ে দেয়া উচিত। সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর একান্ত সচিব ছিলেন তো, তারই প্রভাব পড়েছে এনবিআর চেয়ারম্যানের ওপর। আর আমার দায়ের কথা কী বলব। তিনি খালি বক্তৃতা দেন। তারও পুরো আচরণ হচ্ছে জনসংযোগ করা। করুক, আপত্তি নেই। কিন্তু নিজের কাজটা তো করতে হবে।’ একটি সংবাদপত্রের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারের একাংশে অর্থমন্ত্রী এনবিআর ও চেয়ারম্যানকে নিয়ে তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। খোদ অর্থমন্ত্রীর মুখে নজিবুর রহমানের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। রাজস্ব প্রশাসনের অধিকাংশ কর্মকর্তা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, এই অদক্ষ চেয়ারম্যান যত দ্রুত বিদায় হবে, ততই তা রাজস্ব আয়ের সহায়ক হবে। সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে। এর আগে এনবিআর চেয়ারম্যানকে নিয়ে আরও কয়েকবার প্রকাশ্য ক্ষেদোক্তি করেন অর্থমন্ত্রী। রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতির জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এনবিআরে বিরাজমান অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে চেয়ারম্যান ব্যর্থ হয়েছেন এমন মন্তব্যও করেন। পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যর্থতা, শীর্ষ পর্যায়ের অদক্ষতা ও অযোগ্যতাসহ রাজস্ব প্রশাসনে চলমান ক্ষোভ, অসন্তোষ, অস্থিরতাই রাজস্ব আদায়ে খারাপ প্রভাব ফেলছে বলে তিনি মনে করেন। এনবিআর চেয়ারম্যানের অদক্ষতা আর অযোগ্যতা নিয়েও অর্থমন্ত্রীর একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলছেন, দেশের অর্থমন্ত্রী যাকে চাচ্ছেন না, তিনি এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে কোন খুঁটির জোরে টিকে থাকছেন। অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যন্ত্রণা আর দাবি কেন সরকার জানছে না। যদিও অর্থমন্ত্রী এই পরিস্থিতির জন্য নজিবুর রহমানের পেছনে থাকা শক্তিশালী আমলাদের দায়ী করেছেন। খোঁজ নিয়েও এর সত্যতা পাওয়া গেছে।
সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সচিব, জনপ্রশাসনের সিনিয়র সচিবসহ প্রশাসন ক্যাডারে গুরুত্বপূর্ণ আমলারা চাচ্ছেন না, এনবিআর চেয়ারম্যান পদে ভিন্ন ক্যাডারের কেউ নিয়োগ পাক। তাদের বিরোধিতায় পছন্দের কাউকে না পাওয়া গেলে আগামী বাজেট পর্যন্ত এই চেয়ারম্যানই কাজ চালিয়ে যাবেন এমন সম্ভাবনার কথাও বলছেন কেউ কেউ। যদিও নজিবুর রহমান এনবিআরের সভায় প্রকাশ্য দম্ভোক্তি করেন, তার পেছনে খোদ প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ আছে। কাজেই অর্থমন্ত্রী বা সরকারের অন্য কোনো মন্ত্রীর অসন্তোষে কোনো কাজ হবে না। সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ মনে করেন, এনবিআর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তাই এনবিআরকে চেইন অব কমান্ড ও সিস্টেম মেনে কাজ করা উচিত। নীতিনির্ধারণ বাস্তবায়নকারীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকলে শুধু রাজস্বই নয়- কোনো খাতেই সুফল আসবে না। এনবিআরের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর দূরত্ব থাকলে তা মিটিয়ে ফেলা উচিত বলে মনে করেন তিনি। ভালো গানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি গান ভালো হতে হলে বাদক, গীতিকার, সুরকারসহ সবার মধ্যে সমন্বয়ের দরকার রয়েছে। তেমনি নীতিনির্ধারণ বাস্তবায়নকারীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকলে সব জায়গাতেই ছন্দপতন ঘটবে। জানা গেছে, এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব আদায়ের চেয়ে নিজের প্রচারেই বেশি মনোযোগী। এনবিআরের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো করায়ত্ত করার চেয়ে তার সিএফআই ফর্মুলা বাস্তবায়নে কাজ করেন। অহেতুক মিটিং ডেকে এনে কর্মকর্তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে সময় নষ্ট করেন। কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের নামে হয়রানি করেন। যার কারণে কর্মকর্তারা রাজস্ব আদায়ের দিকে মনোযোগ দেয়ার চেয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানকে তুষ্ট রাখতে ব্যস্ত থাকেন। ফলে অর্থবছরের ৮ মাসে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। অপরদিকে এনবিআর চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের কথা শুধু মুখে বললেও সে অনুযায়ী কোনো কাজ করছেন না।
উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রীর সুপারিশ উপেক্ষা করে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে নজিবুর রহমান এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি চেয়ারম্যান হবেন অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই তা চাননি। সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনের বিদায়ের পর এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে নজিবুর রহমান এবং গোলাম হোসেনের নাম আলোচিত হয়। এজন্য আমেরিকা থেকে নজিবুর রহমানকে দেশে আনা হয়। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর আপত্তি থাকায় নিয়োগ পান সাবেক বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে গোলাম হোসেনের চুক্তির মেয়াদ শেষের আগেই অর্থমন্ত্রী চেয়েছিলেন, গোলাম হোসেনই অন্তত ৬ মাসের জন্য নিয়োগ পান অথবা এনবিআরের সিনিয়র সদস্য ফরিদ উদ্দিন। কিন্তু প্রশাসনিক ক্যাডারের তীব্র আপত্তিতে অর্থমন্ত্রীর আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) উপেক্ষা করে নজিবুর রহমানকে নিয়োগে বাধ্য হয় সরকার। অর্থমন্ত্রী অনন্যোপায় হয়ে তা মেনে নেন। অর্থমন্ত্রীর যুক্তি ছিল, রাজস্ব আদায়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এনবিআর অভিজ্ঞদের দিয়েই নতুন বাজেট পর্যন্ত কঠিন সময় পার করা। কারণ প্রশাসন বা অন্য ক্যাডারের কোনো অনভিজ্ঞ কর্মকর্তা এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলে জটিলতা দেখা দেবে। কারণ রাজস্ব আদায়ের জটিল সব তত্ত্ব, ভ্যাট, কাস্টমস, আয়কর আইনের বিধি উপবিধি বুঝতেই নতুনদের কমপক্ষে ৪-৫ মাস লেগে যাবে। রাজস্ব প্রশাসনের সিংহভাগ কাজই মাঠ প্রশাসনের। কিন্তু নতুন চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের মাঠ পর্যায়ে কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তিনি সচিবালয়েও তেমন একটা কাজ করেননি। উপসচিব যুগ্মসচিবের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাও তার নেই। দীর্ঘদিন বিদেশে দূতাবাসে কর্মরত থাকায় রাজস্ব নিয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না। যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, এক বছর হলেও নজিবুর রহমান অনেক কিছুই বোঝেন না। না বুঝে নথিতে উল্টাপাল্টা অভিমত দিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে গায়ের জোরে কথা বলেন। যুক্তি বা আইন-বিধির তোয়াক্কা করেন না। রাজনৈতিক প্রভাব বা তদবিরকে উৎসাহিত করেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি নজিবুর রহমানের সবচেয়ে খারাপ দিক হল, তিনি অহংকারী। নিজেকে আমলা ভাবতে পছন্দ করেন। প্রচণ্ড প্রতিহিংসাপরায়ণ। তুচ্ছ বিষয়কে বড় করে দেখেন। চাটুকার কর্মকর্তাদের কানকথায় বিশ্বাস করেন। নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার একাধিক ঘটনা সমালোচিত হয়েছে। এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেলকে রাজস্ব আদায়ের কাজে ব্যবহার না করে নিজ স্বার্থে প্রতিহিংসা চরিতার্থে ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, একই অঞ্চলের হলেও প্রথম থেকেই নজিবুর রহমানকে পছন্দ করতে পারছিলেন না অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নিয়োগের পরপরই রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরোধ উসকে দেয়া হয়। কর্মকর্তাদের পেছনে গোয়েন্দাগিরি শুরু হয়। সাবেক চেয়ারম্যান পছন্দ করতেন এমন কর্মকর্তারা দক্ষ হলেও খারাপ পদায়ন করা হয়। নিজে কারণে-অকারণে অসংখ্যবার বিদেশ ভ্রমণ করলেও কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বা শিক্ষা সফরকে নিরুৎসাহিত করছেন। সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অসদাচরণ, কথায় কথায় কারণ দর্শানো নোটিশ, নীতিমালাপরিপন্থীভাবে বদলি আদেশ, গভীর রাত পর্যন্ত অফিস করাসহ বিভিন্ন কারণে রাজস্ব প্রশাসনে দেখা দেয় তীব্র অসন্তোষ আর অস্থিরতা।
জানা গেছে, নতুন চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রথমে বোর্ড সদস্যদের বিরোধ দেখা দেয়। কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের এক সভাকে কেন্দ্র করে তিনি পরিস্থিতি জটিল করে তোলেন। ৪১ জন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শৃংখলাপরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। এরপরই এনবিআর ও রাজস্ব প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করে ফেলা হয়। এনবিআরে একাধিক দক্ষ সদস্যকে জোরপূর্বক অবসর দেয়ার প্রস্তাব করেন চেয়ারম্যান। বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের (নজিবুর রহমানের সিনিয়র) জাহান আরা সিদ্দিকী নামের একজন সৎ ও দক্ষ সদস্যকে জোরপূর্বক অপমানজনক অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়। হুসেইন আহমেদ নামের আরেক সদস্য মেয়াদের আগেই চাকরি ত্যাগ করেন। মারুফুল ইসলাম নামের আরেক দক্ষ কমিশনার পদত্যাগপত্র দিয়ে বিদায় নেন। শুধু তাই নয়, অর্থমন্ত্রী যাকে এনবিআর চেয়ারম্যান করতে সুপারিশ করেন, সেই ফরিদ উদ্দিনসহ আয়কর সদস্য মাহবুবুর রহমান এবং কালিপদ হালদার, ফিরোজ শাহ আলমকে জোরপূর্বক অবসরে যাওয়ার প্রস্তাব করেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর তীব্র আপত্তিতে এ উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এরপরই তাদের গুরুত্বহীন করে রাখেন চেয়ারম্যান। এছাড়া অদক্ষ সদস্য ও কমিশনারদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে নিজের আজ্ঞাবহ করে রাখার কৌশল নেন তিনি। সশ্লিষ্টরা স্বীকার করেন, এনবিআর চেয়ারম্যানের অদক্ষতা ও অযোগ্যতায় পুরো রাজস্ব প্রশাসনেই এখন লেজেগোবরে অবস্থা। সর্বত্রই ভীতি বা আতংক কাজ করছে, যা রাজস্ব আদায়ে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি ১৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবে বিশাল অংকের রাজস্ব ঘাটতির মুখে নজিবুর রহমান ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি উচ্চ আদালতে আটকে থাকা মামলার জট ছাড়িয়ে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিসহ বকেয়া রাজস্ব আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এতে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি খাতের কয়েক হাজার কোটি টাকার বকেয়া আদায় করা সম্ভব হয়েছে, যা রাজস্ব আদায় হিসেবে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও প্রকৃত রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, চেয়ারম্যান হাতেগোনা কয়েকজন চামচা টাইপের কর্মকর্তাদের বলয়ে বন্দি। শতকরা ৯৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী তার কাজে ও আচরণে অসন্তুষ্ট। গভীর রাত পর্যন্ত বছরের পর বছর ধরে অফিস করার অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে কবে মুক্তি পাবেন সেই দিনক্ষণ গণনা করছেন সবাই। তাদের প্রশ্ন, এনবিআরে বর্তমানে চেইন অব কমান্ড বলতে কিছুই নেই। সব ক্ষেত্রেই গুমোট পরিবেশ। প্রতিটি বিষয়েই চেয়ারম্যানের তদবির শুনতে হয়। না শুনলে বিভিন্ন অজুহাতে শাস্তি আর হয়রানির খড়গ নেমে আসে। বিশেষ করে নতুন নিয়োগ এবং বদলি বাণিজ্যে এনবিআর চেয়ারম্যান নিজেই প্রভাব বিস্তার করেন। তার নির্দেশ অনৈতিক ও বেআইনি হলেও তা না মানার ক্ষমতা কারোরই নেই বলে তারা দাবি করেন। এজন্য কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়করের একাধিক কমিশনার তার বিরাগভাজন হয়ে আছেন বলে জানা গেছে।