দামুড়হুদা মডেল থানায় দৃষ্টিনন্দন রূপ দিতে ওসি আহসান হাবীবের নানামুখি পদক্ষেপ

কমলা লেবুর চারা রোপন : এলাকাবাসর অভিনন্দন

 

বখতিয়ার হোসেন বকুল: দামুড়হুদা মডেল থানায় নুতন কেউ ঢুকলে তাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও দু চোখ আটকে যাবে নান্দনিক সৌন্দর্য্যময় রং-বেরঙের ফুলবাগানের দিকে। মনে হতে পারে থানায় আসতে গিয়ে ভুল করে কোনো পার্কে ঢুকে পড়িনি তো? এমনটা মনে হতেই পারে, কারণ কী নেই দামুড়হুদা মডেল থানায় ? ৪ বিঘা জমির ওপর আধুনিক নতুন ভবন। থানা এরিয়ার পুরোটা জুড়েই রয়েছে নানা প্রজাতির ওষুধিগাছ আর রং-বেরঙের ফুলের বাগান। আর এ বাগানের চারপাশ বাঁশের রেলিং দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। শুধু কি তাই? প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ করে পুরো রেলিঙেই রং করে তাতে আঁকা হয়েছে নানা আল্পনা। ঢুকতেই গেটের একপাশে রংতুলির আঁচড়ে লেখা দামুড়হুদা মডেল থানা আর একপাশে বাংলাদেশ পুলিশ। একটু এগিয়ে গেলেই দেখা যাবে রংতুলির আঁচড়ে আঁকা জাতীয় পাখি দোয়েল, জাতীয় পতাকা, জাতীয় ফুল শাপলাসহ হরেক রকমের রংতুলির আঁচড়। এছাড়াও থানা চত্বরে আধুনিক ডিজাইনের একটি গোলঘর তৈরির জন্যও কাজ শুরু করেছেন। আর এতোসব করার পেছনে যার অক্লান্ত পরিশ্রম তিনি হলেন দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আহসান হাবীব (পিপিএম)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজ হাতে একটি কমলা লেবুর চারা রোপণ করেন। এএসপি (প্রবি) আসাদুজ্জামান, জেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমিনপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জোয়ার্দ্দার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল কবির পল্লব, ইউপি সদস্য আসিফ ইকবাল চঞ্চল, কেরুজ কর্মচারী হিরোকসহ অনেকেই এ সময় উপস্থিত ছিলেন। কমলা লেবুর চারা সরবরাহকারী পল্লব জানান, ভারতীয় নাগপুর প্রদেশের সবচেয়ে ভালো জাতের কমলার চারা এনে দেশীয় বাতাবি লেবুর সাথে ক্রস করা হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে ধরবে এবং ফলও খুব মিষ্টি হবে। থানার এক দারোগা জানান, আমি বেশ কয়েকটি থানায় চাকরি করেছি, কিন্ত এমন স্যার দেখিনি। অন্যান্য অফিসাররা যখন একটু বিশ্রামের সুযোগ খুঁজতে ব্যস্ত তখনও স্যার বাগানে ঢুকে ফুলগাছ লাগাচ্ছেন, করছেন পরিচর্যা। তিনি আরো জানান, ফুলের চারা আনতে জেলার এমন কোনো নার্সারি নেই যে ওনি যাননি। আর এ সুন্দরের পূজারি ওসি আহাসন হাবীবকে ধন্যবাদ না জানিয়ে কি পারা যায়? তাইতো অভিনন্দন জানাতে মোটেও ভুল করেনি এলাকাবাসী। গতকাল বিকেলে থানা মসজিদে নামাজ পড়তে আসা একদল মুসল্লির মুখ থেকে বেরিয়ে এলো নানা প্রশংসার কথা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *