দামুড়হুদা ফেরিঘাটের সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন করে সেতু নির্মাণের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা-দেওলি সড়কে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ২৭ বছর আগে নির্মিত সেতুর ওপর দিয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি যানবাহনগুলো চলাচল করছে। সেতুটি অত্যাধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অবিলম্বে নতুন সেতু তৈরির দাবি করেছে এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে দামুড়হুদা ফেরিঘাটের ২৫০০ ফুট স্পানের আরসিসি সেতুটি ঢাকা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নজরুল ইসলাম উদ্বোধন করেন। দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের পরিকল্পনায় সেতুটি নির্মিত হয়। এরপর থেকে সেতুটিতে যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে সেতুটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন শ শ বাস, ট্রাক, ট্রাক্টর ও মোটরসাইকেলসহ পারাপার হওয়ায় সেতুটি কেপে ওঠে। এছাড়া সেতুর দু পাশে রেলিংগুলো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

দামুড়হুদা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম  ও দেওলী গ্রামের আবুল হাশেমসহ একাধিক এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন আগে নির্মিত সেতুটি দিয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অবিলম্বে সেতুটি নতুনভাবে প্রকল্প তৈরি করে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা হোক। সেতু নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দামুড়হুদা সদর ইউপি চেয়ারম্যান শরীফুল আলম মিল্টন জানান, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। সেতুটির দু পাশ ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অবশ্যই নতুন সেতু হওয়া দরকার।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, সেতুটির দু পাশ ভেঙে পড়লেও মেয়াদ রয়েছে ১০০ বছর। সেতুটির সংস্কার না করায় ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু বলেন, দামুড়হুদায় সেতু নির্মাণের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদেরকে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া দামুড়হুদা সেতু ও  কুনিয়া গ্রামে আলাদা সেতুর জন্য ঢাকায় এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। শিগগিরই দামুড়হুদা ফেরিঘাটে সেতুর কাজ হবে বলে আশা করছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এলজিইডির দামুড়হুদা উপজেলা প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, ফেরিঘাটে নতুন একটি আধুনিক সেতু নির্মাণের জন্য তিন মাস আগে একটি প্রস্তাব ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *