দামুড়হুদায় এক বছর নীরবে মালটা চাষ : বাগানে চলতি বছরে এবার প্রথম ফুল ও ফল এসেছে

 

স্টাফ রিপোর্টার: এলাকায় আম,কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারার বাগান করার পর এবার চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক বছর যাবত নীরবে মালটা চাষ শুরু হয়েছে। চলতি বছরেই এবার প্রথম বাগানে ফুল ও ফল এসেছে। মালটা বাগানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হলে চাঙ্গা হবে এ জনপদে গ্রামীণ অর্থনীতি। বাগান মালিকরা এ বাগান করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সন্ধান পেয়েছেন। কৃষি বিভাগ আশা করছে মালটা বাগান এ জনপদে অন্যান্য ফসলের মতো ছড়িয়ে পড়লে বাড়তি আয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে অনেক অসচ্ছল পরিবার।

দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের ভগিরথপুর গ্রামের রহিম মাস্টারের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাবলু বলেন, নিজ ইচ্ছায় ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের উদ্যোগে উপজেলার হেমায়েতপুরের মাঠে ২০ বিঘা মালটা বাগান করার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করি। বছর খানেক আগে মিষ্টি বারি জাতের কলম চারা প্রথমে খুলনা কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ শুরু করি। পরবর্তী সময়ে নিজেই কলম করে জমিতে রোপণ করি। এ বাগান করতে তিন লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। প্রতিদিন বাগান পরিচর্চাসহ মজুরি খরচা বহন করতে হয়। বাগানের বয়স কম-বেশি এক বছর।

মালটা চাষি নাজমুল বলেন, বাগানে চলতি বছরে এবার প্রথম ফুল ও ফল এসেছে। সামান্য হাতে গোনা ৭/৮টি ফল এসেছে। আগামী বছর বাগানে মোটামুটিভাবে বেশি ফলের দেখা মিলতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হলে বাড়তি খরচের চাপ কমে যাবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সেলিম হোসেন বলেন, শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু মালটা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। মধ্যম অম্ল থেকে সামান্য ক্ষারীয় মাটিতে মালটা চাষ হয়।বৃষ্টির পানি জমেনা এবং রোদযুক্ত উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি মালটা চাষের জন্য উত্তম। সমতল ভূমিতে বর্গাকার পদ্ধতিতে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে কলম রোপণ করা হয়। এলাকায় বারি-১ জাতের মালটা চাষ শুরু হয়েছে।গর্তে সার প্রয়োগের ১০-১৫ দিন পর নির্বাচিত কলমটি গর্তের মাঝখানে সোজাভাবে রোপণ করতে হবে। রোপণের পরপর খুঁটি দিয়ে কলমটি খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হয়। অতঃপর প্রয়োজনমতো পানি ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতি পুষ্পমঞ্জুরিতে সুস্থ ও সতেজ দুটি করে ফল রেখে বাকিগুলো মার্বেল অবস্থায় ছাটাই করা দরকার। কলমের গাছ প্রথম বছর থেকেই ফল দিতে শুরু করে। কিন্তু গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রথম বছর ফল না রাখাই ভালো। বয়স বাড়ার সাথে সাথে গাছ প্রতি ১০-১৫ কেজি গোবর, ৭৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ৫০০ গ্রাম টিএসপি, ৫০০ গ্রাম এমওপি ২ কিস্তিতে বর্ষার আগে ও পরে দিতে হবে। চারা রোপণের পরপরই এবং সার প্রয়োগের পরই সেচ দিতে হয়। এশবার লিফ মাইনার মালটা অন্যতম একটি মারাত্মক পোকা। সাধারণত গ্রীষ্ম ও শরৎকালে গাছে নতুন পাতা গজালে এ পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। রোগাক্রান্তগাছের কাণ্ড ও ডাল বাদামী বর্ণ ধারণ করে। আক্রান্ত ডালে লম্বালম্বি ফাটল দেখা দেয় এবং ফাটল থেকে আঠা বের হতে থাকে। আক্রান্ত স্থান চেছে ৭০ গ্রাম তুঁতে ও ১৪০ গ্রাম চুন আলাদা পাত্রে গুলিয়ে ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে (বোর্দোপেস্ট) তৈরি করে লাগাতে হবে। মালটায় প্রায়শই জিংকের/দস্তার অভাবজনিত লক্ষণ দেখা দেয়। প্রাথমিক অবস্থায় পাতার সবুজ শিরার মাঝে মাঝে হলুদ ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। তখন মাটিতে জৈব সার ও দস্তা সার প্রয়োগ করতে হবে। ফল পূর্ণতা প্রাপ্তির সাথে সাথে ফলের রং গাঢ় সবুজ হতে হালকা সবুজ বা ফ্যাকাশে সবুজ হতে থাকে। বারি মালটা ১ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে আহরণ করে বাজারজাত করা যায়। উপজেলার ভগিরথপুর, প্রতাপপুর, কলাবাড়ি, নাস্তিপুর, জয়রামপুর গ্রামে মালটা চাষ শুরু হয়েছে। এ বাগান থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হলে এ জনপদে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। মালটা বাগান এ জনপদে অনান্য ফসলের মতো ছড়িয়ে পড়লে বাড়তি আয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে অনেক অসচ্ছল পরিবার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *