ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু শিশু হত্যা মামলা ভিন্নখাতে নেয়ার অভিযোগ

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: শিশু হযরত আলীর হত্যাকারীরা অধরাই রয়ে গেল। থানা পুলিশ ও সিআইডির দীর্ঘ তদন্তে আলোর মুখ দেখেনি হযরত আলী হত্যা মামলা। প্রথমে হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশ ও পরে সিআইডি আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিচার না পেয়ে বাধ্য হয়ে আদালতে দু’দফা নারাজি দিয়েছেন মামলার বাদী সিদ্দিক হোসেন। আগামী ৯ জুন মামলার পরবর্তী দিন ধার্য্য হয়েছে। হযরত আলীর বাবা-মা ও প্রতিবেশিদের অভিযোগ তদন্তে গাফলতির কারণে প্রকৃত এজাহার নামীয় আসামিদের নাম বাদ দিয়েছে পুলিশ। তদন্তকালে তাদের কোন সাক্ষির বক্তব্য গ্রহন করা হয়নি। ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এসে এ সব অভিযোগ করেন মামলার বাদী নিহত হযরত আলীর বাবা সিদ্দীক হোসেন ও মা বিউটি খাতুন।

জানা গেছে, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রথখোলা গ্রামে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা রাতে খুন হয় আট বছরের শিশু হযরত আলী। তার লাশ গ্রামের একটি পরিত্যক্ত কুয়া থেকে উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হযরত আলীকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত আলী হত্যার পর রথখোলা গ্রামের হুমায়ন কবীর, মানোয়ার হোসেন মন্টু, মাজেদুর রহমান ঝন্টু ও আফছার বিশ্বাসকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন তার বাবা সিদ্দিক হোসেন। মামলাটি তদন্ত করেন হরিণাকুণ্ডু থানার তৎকালীন এসআই আমিনুল ইসলাম। ১১ মাস তদন্ত করে তিনি আসামী গ্রেফতার করতে ব্যার্থ হন। এরপর তিনি বদলী হলে মামলার তদন্ত ভার ন্যাস্ত হয় একই থানার এসআই আনসারী জিন্নাত আলীর উপর। তিনি তদন্ত করে হত্যাকারীদের সনাক্ত করতে ব্যার্থ হয়ে আদালতে চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। পুলিশী চুড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে বাদী নারাজি পিটিশন দাখিল করলে মামলাটি পুন: তদন্ত করতে আদালত সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ঝিনাইদহ সিআইডির পরিদর্শক আবুল কাসেম মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে আরো ৫ জন আসামি আবিস্কার করেন, যারা কিনা বাদীর আত্মীয় স্বজন। বাদীর অভিযোগ সিআইডির তদন্তে আসামী রেজাউল, রানা, আনিচুর রহমান, সোহাগ ও আনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে অর্থ বানিজ্য করা হয়। বাদীর কাছেও এমন প্রস্তাব ছিলো বলে তিনি অভিযোগ করেন। সিআইডির পরিদর্শক আবুল কাসেম মামলাটি তদন্ত করে তিনিও প্রকৃত খুনিদের সনাক্ত করতে পারেনি। ফলে তিনিও এ বছরের ৬ মার্চ মামলার ৯ আসামীকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। বাদী সিদ্দিক হোসেন সিআইডির চুড়ান্ত রিপোর্টের নারাজি দিয়েছেন। আগামী ৯ জুন শুনানী অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশি এনামুল হক মতির ছেলে সোফান নামে এক শিশুর সাথে ঘটনার দিন টেলিভিশন দেখছিলো হযরত আলী। টিভি দেখার ফাঁকে মন্টুর উঠানে বরই (কুল) কুড়াতে যায় শিশু হযরত। সোফানের অডিও রেকর্ড মতে বরই কুড়ানোর জন্য মন্টু হযরত আলীকে চড় মারে। এ ঘটনা দেখে সোফান ভয়ে বাড়ি চলে আসে। এরপর রাতে তার লাশ পাওয়া যায় একটি পরিত্যক্ত কুয়ার মধ্যে। হযরত আলীর বাবা মায়ের ধারণা বরই কুড়ানোর অপরাধে মন্টুর থাপ্পড়ে হযরত আলীর মৃত্যু হলে তার লাশ পরিত্যক্ত কুয়ার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। লাশ ওঠানোর পর হযরত আলীর পকেটে বরই ছিল। এতে সোফানের কথার সত্যতা মিলেছে। প্রতিবেশী হাসিয়া খাতুন জানান, হযরত নিখোজ হলে তিনি ঘটনার দিন সন্ধ্যা রাতে খুজতে বের হন। সে সময় মন্টু ও তার ভাই ঝন্টুকে পরিত্যক্ত ওই কুয়ার পাশ থেকে আসতে দেখেছেন। পুলিশ ও সিআইডিকে এ কথা তিনি বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারা তার সাক্ষ্য গ্রহন করেনি নি। নিহত হযরত আলীর বাবা সিদ্দীক হোসেন ও মা বিউটি খাতুন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, টাকার কাছে মামলাটির অপমৃত্যু হয়েছে বলে তারা মনে করেন। তারা ৱ্যাব বা ডিবির মাধ্যমে নুতন করে মামলাটির তদন্ত চান।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *