জেএসসি-জেডিসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

 

মাথাভাঙ্গা মনিটর: সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরেও একযোগে জেএসসি, জেডিসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় এ বছর ২৮ কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৮ হাজার ১৬০ পরীক্ষার্থী থাকলেও পরীক্ষার প্রথম দিন ১৭ হাজার ৬৪১ জন অংশ নেয়। অনুপস্থিত ছিলো ৫১৯ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে জেএসসি পরীক্ষায় ১৪ হাজার ৩০২, জেডিসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৮৩০ ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৫০৯ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রথম দিনের পরীক্ষায় জেলার কোনো কেন্দ্রে কোনো বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি বলে জেলা প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে।

প্রথম দিনে অনুপস্থিত চুয়াডাঙ্গা  ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৬, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৯ ও সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৮ জন জেএসসি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত। চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে ২৭ জন জেডিসি পরীক্ষার্থী,  সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪ জন ও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ১১ জন ভোকেশনাল পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো। এছাড়া জেলায় সর্বমোট ৫১৯ জন অনুপস্থিত ছিলো।

সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও উপকেন্দ্র হিসেবে ছাদেমান নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র ,সরোজগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মোট ১ হাজার ৬৯৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৬৫৬ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অত্র সরোজগঞ্জ মূল কেন্দ্রের ৭৫৭ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ১২, ছাদেমান নেছা মাধ্যামিক বিদ্যালয় ৭৩২ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ২৬,সরোজগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০৫ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ছিলো ৪ জন।

আলমডাঙ্গা ব্যুরো জানিয়েছে, উপজেলায় ৫টি কেন্দ্রে জেএসসি, জেডিসি ও কারিগরি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকায় ৩টি কেন্দ্র আলমডাঙ্গা পাইলট বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আলমডাঙ্গা সিদ্দিকীয়া মাদরাসা কেন্দ্র, হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও হাটবোয়ালিয়া বালিকা মাধ্যামিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র এবং মুন্সিগঞ্জ একাডেমি ও মুন্সিগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র। আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ৫২ ছাত্রছাত্রী। মোট ছাত্র ৪১৪ ও ছাত্রী ৬৩৮ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলো ২০ জন।

আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ২১২ ছাত্রছাত্রী। মোট ছাত্র ৬৩১ ও ছাত্রী ৫৮১ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিলো ২৮ জন। আলমডাঙ্গা সিদ্দিকীয়া মাদরাসা কেন্দ্রে জেডিসি পরীক্ষায় ৪৫৭ জন। অনুপস্থিত ২৭ জন। কারিগরি পরীক্ষায় মোট ছাত্রছাত্রী ৯১ জন, অনুপস্থিত ৭জন। আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও হাটবোয়ালিয়া বালিকা মাধ্যামিক বিদ্যালয়ে মোট পরিক্ষাত্রী ৮০৮ জন। অনুপস্থিত ২২। স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরীক্ষা বালক সংখ্যা ২৭৬ অনুপস্থিত ০৩ জন, বালিকা ১৭৭ অনুপস্থিত ০৬। বালিকা মাধ্যামিক বিদ্যালয়ে বালক ২০৩, অনুপস্থিত ৫, বালিকা ১৫২, অনুপস্থিত ৮ জন। মুন্সিগঞ্জ একাডেমিতে ২৯৫ ছাত্র,  ৪৪৫ ছাত্রী, মোট ৭৪০ পরিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন অনুপস্থিত। মুন্সিগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৯১ ছাত্র, ২৬১ ছাত্রীসহ মোট ৫৫২ পরিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৩ জন অনুপস্থিত।

কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কার্পাসডাঙ্গায় দুটি পরীক্ষা কেন্দ্রে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭৪৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন অনুপস্থিত। কার্পাসডাঙ্গা ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে জেডিসি পরীক্ষায় ৩৫৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন অনুপস্থিত।

দামুড়হুদা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দামুড়হুদায় ৪টি কেন্দ্রে জেএসসি এবং ২টি কেন্দ্রে জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দামুড়হুদা পাইলট হাইস্কুল কেন্দ্রে ৭৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩৫ জন, দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেন্দ্রে ৯৬০, মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮৬৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৫১ এবং কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৭৪৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এছাড়া জেডিসি পরীক্ষায় দামুড়হুদা ডিএস দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে ৩৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৫ এবং কার্পাসডাঙ্গা ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে ৩৫৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২৮ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এদিকে এসএসসি  ভোকেশনাল) নবম শ্রেণি বোর্ড ফাইনাল পরীক্ষায় দামুড়হুদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেন্দ্রে ২৫৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৭ পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছে। জেএসসিতে মোট ৮৭, জেডিসিতে ৪১ এবং ভোকেশনালে ৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।

 

 

 

জীবননগর ব্যুরো জানিয়েছে, জীবননগরে উপজেলায় ৬টি কেন্দ্রে মোট ৩ হাজার ১৩৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশগ্রহণ করে ৩ হাজার ৫৭ জন। জীবনগনরে ৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২ হাজার ৩২৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২ হাজার ২৬৭, অনুপস্থিত ৫৭ জন। জীবননগর পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৭৬। উপস্থিত ৭৬২ পরীক্ষার্থী। হাসাদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৩৬২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৩৫২। আন্দুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫১৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৫২। মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৬০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৩৪৮। উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩০৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৩০৩। এছাড়াও এসএসসি ভোকেশনাল নবম শ্রেণির বর্ষ সমাপনী পরীক্ষায় ৪১৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশগ্রহণ করে ৪০৮। অপরদিকে উপজেলা আলিম মাদরাসা কেন্দ্রে জেডিসি পরীক্ষায় ৩৯৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশগ্রহণ করে ৩৮২ জন পরীক্ষার্থী।

মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, মেহেরপুরে ৯টি কেন্দ্রে জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ঢাকার অধীনে ২টি কেন্দ্রে জুনিয়র দাখিল পরীক্ষা জেডিসি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে জেএসসি পরীক্ষায় ১৯৭ এবং জেডিসিতে ৫২ জন অনুপস্থিত ছিলো। প্রথম দিনে জেলায় মোট ৯ হাজার ৫৪৫ এবং জেডিসিতে ৭১৬ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের শিক্ষা শাখার দেয়া তথ্য মতে এ বছর মেহেরপুর সদর উপজেলার ৩ কেন্দ্রে ৩ হাজার ৮৩২ জন জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৯২, মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৭৯ ও আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ২০১ জন জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। গাংনী উপজেলার ৫ কেন্দ্রে ৪ হাজার ২২৫ জন জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯৬৩, গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯১৭, বামন্দী-নিশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক হাজার ৭০৬, যুগিরঘোপা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৩৮, ও সাহেবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০১ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এছাড়া মুজিবনগর উপজেলার একমাত্র কেন্দ্র মুজিবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৪৮৮ জন অংশ নিয়েছে। এদিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার একমাত্র কেন্দ্র মেহেরপুর দারুল উলুম আহমদিয়া ফাজিল মাদরাসায় ৪৫৯ এবং গাংনী উপজেলার একমাত্র কেন্দ্র গাংনী আমিনিয়া ছিদ্দিকিয়া মাদরাসায় ২৪৭ জন জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার কেন্দ্র পরদির্শণ করেন জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সেখ ফরিদ আহম্মেদ প্রমুখ।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *