জীবননগরের দুই যুবককে আটকে চাঁদা আদায় ও মারপিট

 

চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা : গুলশানপাড়া থেকে দুজন গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার: জীবননগরের দুই যুবককে আটকে চাঁদা আদায় ও মারপিটের ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার আবু বক্কর ও মুস্তাসিরকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। জীবননগর থেকে চুয়াডাঙ্গায় আসার পথে দুই যুবককে ধরে আবহাওয়া অফিসের ভেতর নিয়ে মারধর করে তারা। পরে তাদের নিয়ে পৌর এলাকার গুলশানপাড়ার নির্জন একটি বাগানে যায় আবু বক্কর ও মুস্তাসিরসহ ৫জন। সেখান থেকে জীবননগরের ফাহিম হাসানের পরিবারের নিকট মুক্তিপন দাবি করে তারা। পরে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ছাড়া পায় জীবননগরের ওই দুই যুবক। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের সামনে থেকে তাদেরকে ধরে আটকে রাখে। এ ঘটনায় জীবনগরের ফাহিম হাসান বাদী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওলিয়ার রহমান গুলশানপাড়ার জোলের নিকট একটি বাগানে অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতদের সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জীবননগর পোস্ট অফিসপাড়ার আনোয়ার জাহিদের ছেলে ফাহিম হাসান একই এলাকার শরিফুল আলমের ছেলে সায়হামকে নিয়ে গ্রাম থেকে চুয়াডাঙ্গায় আসে। পথিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের সামনে এলে তাদের গতিরোধ করে ৫ যুবক। ফাহিম ও সায়হামকে ধরে প্রথমে পার্শ্ববর্তী আবহাওয়া অফিসের মধ্যে নিয়ে মারপিট করে। পরে তাদের নেয়া হয় গুলশানপাড়ার জোলের পাশে একটি বাগানে। সেখানে করা হয় মারপিট করে। এসময় ফাহিমের পরিবারের নিকট মোবাইলফোনে ৫হাজার টাকা দাবী করে তারা। ছেলেকে ফিরে পেতে বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা পাঠান ফাহিমের মা। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওলিয়ার রহমান ওই বাগানে অভিযান চালান। এ সময় জীবননগরের ওই দুই যুবককে উদ্ধার করেন এবং আবুবক্কর ও মুস্তাসিরকে আটক করে থানায় নেন। পরে ফাহিম বাদি হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে। মামলায় অভিযুক্তরা হলো চুয়াডাঙ্গা গুলশানপাড়ার লাভলু মিয়ার ছেলে জিতু (২২), মহিলা কলেজপাড়ার আনোয়ার হোসেন (২২), মুক্তিপাড়ার ইয়াসিন আলীর ছেলে সাইমুন (২১), সিনেমাহলপাড়ার ফিরোজ উদ্দীনের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (১৮), কেদারগঞ্জ সিঅ্যান্ডবিপাড়ার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মুস্তাসির কবির (১৯)। তাদেরকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *